Jahirul Hasan
প্রকাশ : Sep 23, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

জাতিসংঘে ট্রাম্পের ভুলের বাহার

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দিয়েছেন। ৩৮ মিনিটের ভাষণে তিান বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন।

মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন জাতিসংঘে ট্রাম্পের ভাষণে বেশ কিছু অতিরঞ্জন বা অসত্য দাবির কথা তুলে এনেছে। যদিও ট্রাম্প জাতিসংঘে একটি লিখিত বক্তব্যই পাঠ করেছিলেন। 

জাতিসংঘের ভাষণে ট্রাম্প তার একটি প্রায়শই করা মিথ্যা দাবির পুনরাবৃত্তি করে বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আটটি যুদ্ধের সমাধান করা আমার জন্য অত্যন্ত সম্মানের বিষয় ছিল।’

তিনি সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, তিনি কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ড, কসোভো ও সার্বিয়া, রুয়ান্ডা ও গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, ভারত ও পাকিস্তান, আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান এবং গাজার যুদ্ধের কথা বলছেন। এবং তিনি এর আগে দাবি করেছিলেন যে তার অবসান ঘটানো অন্য দুটি যুদ্ধ ছিল— গত বছরের ইসরাইল ও ইরানের মধ্যকার সংক্ষিপ্ত সংঘাত এবং মিশর ও ইথিওপিয়ার মধ্যকার একটি কথিত যুদ্ধ।

ট্রাম্পের এই ৮টি যুদ্ধ থামানোর দাবি স্পষ্টতই একটি অতিরঞ্জন। তার তালিকায় এমন দুটি পরিস্থিতির কথা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যা তাঁর কার্যকালে আসলে কখনোই যুদ্ধ ছিল না। মিশর ও ইথিওপিয়ার মধ্যকার পরিস্থিতিটি ছিল একটি ইথিওপিয়ান বাঁধ প্রকল্প নিয়ে কূটনৈতিক বিরোধ, কোনো যুদ্ধ নয়। সার্বিয়া ও কসোভোর মধ্যে যে রহস্যময় কথিত সমস্যার তিনি সমাধান করেছেন বলে দাবি করছেন, সেটিও কোনো যুদ্ধ ছিল না।

তাছাড়া, ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যস্থতায় একটি শান্তি চুক্তি হওয়া সত্ত্বেও রুয়ান্ডা ও গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের মধ্যকার যুদ্ধটি এখনও শেষ হয়নি। ট্রাম্প গাজা যুদ্ধ থামানোর দাবি করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গাজায় একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার পরও ইসরাইল সেই ভূখণ্ডে ঘন ঘন হামলা চালানো অব্যাহত রেখেছে।

ট্রাম্প অবশ্য ২০২৫ সালে ইসরাইল ও ইরানের মধ্যকার সংক্ষিপ্ত সংঘাতটির অবসান ঘটাতে সাহায্য করেছিলেন, যদিও পরবর্তীতে ২০২৬ সালে ইরানের বিরুদ্ধে আরেকটি নতুন যুদ্ধ শুরু করতে ইসরাইল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যোগ দেয়।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শেষ পর্যন্ত মানুষের ওপর আক্রমণ করতে পারে বা মানুষকে মেরে ফেলতে পারে—এমন মারাত্মক সতর্কবাণীগুলোকে ট্রাম্প তার ভাষণে উপহাস করে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, এই সতর্কবাণীগুলো আসছে ’ঠিক সেইসব মানুষের কাছ থেকে যারা বলেছিল যে আমরা সবাই ‘বৈশ্বিক উষ্ণায়নের’ কারণে ১২ বছরের মধ্যে মারা যাব। যে শব্দটির নাম পরবর্তীতে বদলে ‘জলবায়ু পরিবর্তন’ রাখা হয়েছিল। কারণ গ্রহটি শীতল হচ্ছিল, উষ্ণ নয় এবং কেউই মারা যায়নি।’

বৈশ্বিক উষ্ণায়ন সম্পর্কে তার এই একটিমাত্র বাক্যের মধ্যে অন্তত চারটি বড় ভুল রয়েছে।

প্রথমত, ’জলবায়ু পরিবর্তন’ শব্দগুচ্ছটি প্রচলিত হলেও ’বৈশ্বিক উষ্ণায়ন’ শব্দগুচ্ছটির ব্যাপক ব্যবহার এখনও বজায় রয়েছে। এই দুটি শব্দের অর্থ সম্পুর্ণ আলাদা। জলবায়ু বিজ্ঞানীরা দুটি শব্দই ব্যবহার করেন; সাধারণত বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির দীর্ঘমেয়াদী প্রবণতা বোঝাতে তারা ’বৈশ্বিক উষ্ণায়ন’ ব্যবহার করেন, আর সেই প্রবণতার কারণে পৃথিবী জুড়ে যে বহুবিধ প্রভাব দেখা দিচ্ছে তা বোঝাতে ’জলবায়ু পরিবর্তন’ শব্দটি ব্যবহার করেন।

জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন প্যানেলের ২০২৩ সালের একটি প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল ’ক্লাইমেট চেঞ্জ ২০২৩: সিন্থেসিস রিপোর্ট’। সেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ’মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড, প্রধানত গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের মাধ্যমে, সুনিশ্চিতভাবে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ঘটিয়েছে; যার ফলে ২০১১-২০২০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ১৮৫০-১৯০০ সালের তুলনায় ১.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল।’

দ্বিতীয়ত, ট্রাম্প ঠিক কোন সময়ের কথা বলছেন তা সুনির্দিষ্টভাবে না জানালেও, তিনি এই বাস্তব সত্যটি স্বীকার করেননি যে পৃথিবী ক্রমাগত উষ্ণ হচ্ছে, শীতল নয়। জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা গত জানুয়ারিতে জানিয়েছে যে, ’রেকর্ড অনুযায়ী বিগত ১১ বছর ছিল ইতিহাসের উষ্ণতম ১১টি বছর; যার মধ্যে ২০২৩, ২০২৪ এবং ২০২৫ সাল ছিল ইতিহাসের তিনটি সবচেয়ে বেশি উষ্ণ বছর; যা নাসার গবেষণাতেও উঠে এসেছে। যদিও ২০২৫ সাল ২০২৪ সালের মতো অতটা উত্তপ্ত ছিল না।

তৃতীয়ত, উষ্ণায়নের এই নানা প্রভাবের কারণে ’কেউই মারা যায়নি’; ট্রাম্পের এমন দাবির সাথে বিশেষজ্ঞরা সম্পূর্ণ দ্বিমত পোষণ করেন। মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট সংখ্যা নির্ধারণ করা অসম্ভব হলেও, কিছু হিসাব অনুযায়ী এই সংখ্যা কোটিতে পৌঁছাতে পারে। আর এই মৃত্যুর ধারা চলতেই থাকবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, ’২০৩০ থেকে ২০৫০ সালের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অপুষ্টি, ম্যালেরিয়া, ডায়রিয়া এবং অতিরিক্ত গরমের কারণেই প্রতি বছর আনুমানিক আরও আড়াই লাখ মানুষের মৃত্যু হতে পারে।’

চতুর্থত, কোনো ব্যক্তি হয়তো কোথাও বলে থাকতে পারেন যে ’বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে আমরা সবাই ১২ বছরের মধ্যে মারা যাব’। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের কোনো প্রতিবেদনে বিষয়টিকে এভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। ২০১৮ সালে জলবায়ু বিজ্ঞানীদের বহুল আলোচিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল যে, প্রাক-শিল্পায়নের যুগের তুলনায় বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হলে আগামী ১২ বছরের মধ্যে কার্বন নির্গমন মারাত্মকভাবে কমিয়ে আনতে হবে।

বিজ্ঞানীরা বলেছিলেন যে এই সীমা পার হয়ে গেলে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট সম্ভাব্য মারাত্মক ও প্রাণঘাতী প্রভাবগুলো আরও প্রকট হবে। যদিও ২০১৮ সালের প্রতিবেদনটিকে রাজনীতিবিদরা প্রায়শই অতি-সরলীকরণ করেছিলেন, তবে বিশেষজ্ঞদের দাবি কখনোই এটি ছিল না যে ’আমরা সবাই ১২ বছরের মধ্যে মারা যাব’। তাদের মূল বক্তব্য ছিল যে ভবিষ্যৎ ভালো রাখার জন্য আগামী ১২ বছরের মধ্যে বড় ধরণের পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। 

যুক্তরাষ্ট্রে ২১ ট্রিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের জোয়ার বইছে; তার নিজের এই পূর্ববর্তী ভুল দাবির একটি কিছুটা সতর্ক সংস্করণ এবার ট্রাম্প পেশ করেছেন। জাতিসংঘে ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমরা সারা বিশ্ব থেকে ২১ ট্রিলিয়ন ডলারের নতুন বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত করেছি।’

তার এই 'প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত' করার নতুন শর্ত জুড়ে দেওয়ার পরেও এই সংখ্যাটির কোনো দৃশ্যমান ভিত্তি নেই। হোয়াইট হাউস কখনোই এই দাবির সপক্ষে কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি। প্রেসিডেন্ট যখন জাতিসংঘে ভাষণ দিচ্ছিলেন, তখন হোয়াইট হাউসের নিজস্ব ওয়েবসাইটেই দাবি করা হয়েছিল যে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ’১১.২ ট্রিলিয়ন ডলারের’ প্রধান বিনিয়োগ ঘোষণা এসেছে, যা প্রেসিডেন্টের উল্লেখ করা ’২১ ট্রিলিয়ন ডলারের’ প্রতিশ্রুতির চেয়ে অনেক কম।

তাছাড়া, ২০২৫ সালে একটি বিশদ পর্যালোচনায় দেখা গেছে যে, হোয়াইট হাউসের তৈরি করা সেই তালিকায় ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলারের অস্পষ্ট বিনিয়োগের অঙ্গীকার বা ওয়াদাকে গণনা করা হয়েছে, যার বেশিরভাগই ছিল মূলত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বা অর্থনৈতিক আদান-প্রদান সম্পর্কিত, যুক্তরাষ্ট্রে সরাসরি কোনো বিনিয়োগের বিষয় নয়। এমনকি সেখানে এমন কিছু অস্পষ্ট বিবৃতিও যুক্ত করা হয়েছিল যা সাধারণ অঙ্গীকারের পর্যায়েও পড়ে না।

হোয়াইট হাউসের এই হিসাবের মধ্যে যেমন বিদেশী প্রতিষ্ঠানের অঙ্গীকার রয়েছে, তেমনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিভিন্ন কোম্পানির অঙ্গীকারও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে ফেডারেল তথ্য-উপাত্ত অনুযায়ী দেখা যায়, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রকৃত নতুন প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল প্রায় ২৩২ বিলিয়ন ডলার।

ট্রাম্প তার ভাষণে ইরানের সাথে যুদ্ধের পক্ষে দীর্ঘক্ষণ সাফাই গেয়েছেন। এবং তিনি দাবি করেছেন, ’কাপুরুষ ও দেশদ্রোহীরা বলতে পছন্দ করবে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদ ফুরিয়ে আসছে। কিন্তু তা সত্যি নয়। আমাদের কাছে এত বেশি গোলাবারুদ রয়েছে, যা আমরা কখনো ব্যবহার করার কথা ভাবতেও পারি না এবং আমরা এমন স্তরে এগুলো তৈরি করছি যা আমরা আগে কখনো করিনি।’

মার্কিন গোলাবারুদের মজুদের বর্তমান সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতি সম্পর্কিত গোপন তথ্যে গণমাধ্যমের প্রবেশাধিকার নেই এবং ট্রাম্প কাদের ‘কাপুরুষ ও দেশদ্রোহী’ বলছেন তাও স্পষ্ট নয়। তবে ইরানের সাথে যুদ্ধ যে মার্কিন গোলাবারুদের অন্তত কিছু স্তরের মজুদ কমিয়েছে; তা কেবল গণমাধ্যমই রিপোর্ট করেনি; প্রতিরক্ষা বিভাগ তদারকি করা ফেডারেল ইন্সপেক্টর জেনারেল এবং ফেডারেল কংগ্রেসনাল বাজেট অফিসও গত সপ্তাহে প্রকাশিত পৃথক প্রতিবেদনে মূলত একই কথা বলেছে।

ইন্সপেক্টর জেনারেলের প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে যে, প্রতিরক্ষা বিভাগের একটি অ্যাকুইজিশন অফিস জানিয়েছে যে, ’এই (যুদ্ধে) গোলাবারুদ ব্যয়ের ফলে কৌশলগত ইনভেন্টরিতে ঘাটতি দেখা দিয়েছে এবং গোলাবারুদ পুনরায় সরবরাহের ক্ষেত্রে শিল্প ভিত্তির বাধাগুলোকে উন্মোচন করেছে।’

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যাকুইজিশন অফিস আরও উল্লেখ করেছে যে পেন্টাগন প্রশমন কৌশলগুলো বাস্তবায়ন শুরু করলেও, উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে প্রতিরক্ষা শিল্প ভিত্তির উল্লেখযোগ্য সময় প্রয়োজন। প্রতিবেদনে সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয়েছে, ‘সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী বাধাগুলো রয়ে গেছে সলিড রকেট মোটর উৎপাদন, উচ্চ-মানের বিস্ফোরক ও প্রোপেল্যান্টের প্রাপ্যতা এবং দক্ষ উৎপাদন শ্রমিক নিয়োগের ক্ষেত্রে।’

কংগ্রেসনাল বাজেট অফিসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, ’মিসাইল ডিফেন্স ইন্টারসেপ্টরের ঘাটতি রয়েছে এবং এই যুদ্ধ কয়েক বছরের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ইন্টারসেপ্টরের একটি হ্রাসপ্রাপ্ত মজুদের মুখোমুখি দাঁড় করাবে।’

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের জুনে একটি সংক্ষিপ্ত সংঘাতের সময় ইসরাইল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানে আক্রমণ করার আগেও প্রতিরক্ষা বিভাগের কাছে ইন্টারসেপ্টরের মজুদ সীমিত ছিল। বাজেট অফিসের গবেষণা ইঙ্গিত দেয় যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত ২০২৫ সালের জুন থেকে এই গোলাবারুদগুলোর ইনভেন্টরির অর্ধেক থেকে দুই-তৃতীয়াংশ ব্যবহার করে ফেলেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ’প্রতিরক্ষা বিভাগ সম্প্রতি যে পরিমাণ মিসাইল ডিফেন্স ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করেছে, সেগুলোর বর্তমান কম উৎপাদন হার এবং ঐতিহাসিকভাবে উৎপাদন বৃদ্ধির জটিলতা বিবেচনা করলে, প্রতিরক্ষা বিভাগের ইন্টারসেপ্টরের মজুদ পুনর্গঠন করতে সম্ভবত অন্তত পাঁচ বছর সময় লাগবে; এমনকি উৎপাদন বাড়ানো হলেও।’

ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে অপরাধের হার কমার যে চিত্র, তা আবারও বাড়িয়ে উপস্থাপন করেছেন। তিনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ’গত বছরের ২০ জানুয়ারি আমি যখন ওয়াশিংটন, ডিসি-তে এসেছিলাম, তখন এটি অপরাধে জর্জরিত ছিল এবং এখন অপরাধের হার ৮৭ ভাগ কমে গেছে এবং আমরা এটিকে শতভাগে নামিয়ে আনার চেষ্টা করছি।’ এই ৮৭ ভাগ কমার দাবিটি মোটেও সঠিক নয়।

যদিও এই বছর ওয়াশিংটনে সামগ্রিক অপরাধের হার প্রকৃতপক্ষে কমেছে। তবুও স্থানীয় পুলিশ বিভাগ গত সোমবার পর্যন্ত মোট ১৫ হাজারেরও বেশি অপরাধ রেকর্ড করেছে এবং তা প্রকাশ্য নথিতে জানিয়েছে। ২০২৪ সালের একই তারিখের তুলনায় এটি প্রায় ২৩ ভাগ কমেছে। কিন্তু ট্রাম্প বারবার যে ৮০ শতাংশের বেশি কমার দাবি করছেন, তা কোনোভাবেই নয়।

দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট গত আগস্ট মাসে এক প্রতিবেদনে জানায় যে, দেশের রাজধানীতে অপরাধের হার ৮১ ভাগ, ৮৮ ভাগ বা ৯২ ভাগ কমে গেছে বলে ট্রাম্প যে দাবিগুলো করেছেন, হোয়াইট হাউস তার সপক্ষে কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি। 

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিভ্রান্তি ও হঠকারিতার রাজনীতি ছেড়ে দেশ গঠনে এগিয়ে আসুন: প্র

1

টানা পঞ্চমবার সাফের সভাপতি হলেন কাজী সালাহউদ্দিন

2

বায়ার্ন মিউনিখের সঙ্গে চুক্তির পথে হ্যারি কেইন

3

ছবির মতো বাস্তবেও যদি ভুলে যান? জবাবে যা বললেন টম-জেন্ডায়া

4

সংসদে ভিন্নমত প্রকাশের কোনো পরিবেশ নেই : রুমিন ফারহানা

5

যমজ ভাইয়ের সঙ্গে যমজ বোনের বিয়ে, পুরোহিতও যমজ

6

মিডিয়া বিভাগ ছেড়ে বিসিবির নতুন দায়িত্বে রাবিদ ইমাম

7

তারেক রহমানের সঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির নতুন সদস্যদের সাক্

8

কিমের কাছে ৫৭টি শক্তিশালী পরমাণু বোমা আছে: ট্রাম্প

9

কওমি মাদরাসার জন্য ৬টি শিক্ষা বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত প্রধানমন

10

শ্রীদেবীর বিয়ের খবরে দিনভর কেঁদেছিলেন আল্লু অর্জুন

11

৬০ দিনের মধ্যে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন করে রায় কা

12

জাতিসংঘ মহাসচিবের স্বাগত প্রাতরাশে অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী

13

ব্যালন ডি’অরের সংক্ষিপ্ত তালিকায় এনরিকে-আরতেতা

14

অস্ট্রেলিয়াকে চাপে ফেলতে যে লক্ষ্যের কথা জানালেন সিমন্স

15

৫০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় পুড়ছে সাহারা, মারা যাচ্ছে উট

16

জনগণের প্রতি বিভ্রান্তকারীদের নজরে রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্র

17

রাষ্ট্রপতি পদে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ বিএনপির

18

প্রকৌশলী অধিকার দিবসে বেরোবিতে মোমবাতি প্রজ্বলন ও মৌন মিছিল

19

শ্রীলঙ্কায় ক্রিকেটারদের সংগঠন, দায়িত্ব পেলেন মেন্ডিস

20