রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলায় দুই নারীসহ সাত জন নিহত হয়েছেন। এছাড়াও অনেকে আহত হয়েছেন। হামলায় আবাসিক ভবন থেকে শুরু করে তেল শোধনাগার ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে মস্কোর বিমান হামলায় ইউক্রেনের চারজন নিহত হয়েছেন। সম্মুখসমরে অগ্রগতির গতি কমে আসায় রাশিয়া এখন ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, গ্লাইড বোমা এবং ড্রোন ব্যবহার করছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি লিখেছেন, আমাদের অংশীদারদের এটা মনে রাখা জরুরি, মস্কো প্রতিদিনই তাদের আগ্রাসন বাড়িয়ে চলেছে। তারা যদি আরও নৃশংস হামলা চালানোর পথ বেছে নেয়, তবে যুদ্ধকে আরও ছড়িয়ে পড়া থেকে আটকাতে বিশ্বকেও আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
তিনি কিয়েভ ও জাপোরিঝিয়া শহর এবং ওদেসা, সুমি ও খারকিভ অঞ্চলে বসতবাড়িতে অসংখ্য হামলার কথা উল্লেখ করেন। জাপোরিঝিয়ার আঞ্চলিক সামরিক প্রশাসন জানিয়েছে, জাপোরিঝিয়ায় ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়ির ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে দুই নারী মারা গেছেন। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সুমি শহরে রাশিয়ার আরেকটি হামলায় আরও দুজন নিহত হয়েছেন।
ইউক্রেনীয় ড্রোনের লক্ষ্যবস্তু রাশিয়ার তেল শোধনাগার
চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে জাতিসংঘে দেওয়া এক ভাষণে জেলেনস্কি নিষেধাজ্ঞা ও বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে রাশিয়ার আয় বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। যাতে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ মস্কো না পায়। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে চলা কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও যুদ্ধ অবসানের ক্ষেত্রে কোনো অগ্রগতির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
এরই মধ্যে ইউক্রেনের দূরপাল্লার ড্রোনগুলো রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দক্ষিণাঞ্চলীয় ক্রাসনোদার অঞ্চলে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় তিনজন নিহত ও দুজন আহত হয়েছেন।
টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় আঞ্চলিক গভর্নর ভেনিয়ামিন কনদ্রাতিয়েভ জানান, ইউক্রেনীয় হামলায় দুটি শিল্প স্থাপনায় আগুন ধরে গেছে; তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি। পরবর্তীতে রাশিয়ার গণমাধ্যম জানায়, ওই হামলায় স্থানীয় একটি তেল শোধনাগারকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। ইউক্রেনের অন্যান্য স্থানের মধ্যে, কিয়েভ অঞ্চলে রাতের বেলা রুশ ড্রোন হামলায় বোরিসপিল জেলার একটি গুদামে আগুন ধরে যায় এবং এতে দুজন আহত হন।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের কয়েকটি জেলাতেও রুশ ড্রোন আঘাত হানে; এতে চারজন আহত হন এবং বেশ কিছু আবাসিক ও অফিস ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কিয়েভে তাদের হামলায় এমন একটি ডেটা সেন্টার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যা সেলফোন ইন্টারনেট পরিষেবা এবং স্টারলিংক স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সহায়তা করত।
সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস।