২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনী প্রচারণায় ‘সোনার বাংলা’ গড়ার ডাক দিয়েছিলেন বিজেপির কেন্দ্র ও রাজ্যের নেতারা। কিন্তু রাজ্যে ক্ষমতা এসে বিজেপি সেই পশ্চিমবঙ্গকেই ‘সোনার বাংলা’ গড়ার বদলে ‘কারাগারে’ পরিণত করেছে বলে অভিযোগ করেছেন রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যানার্জি।
মঙ্গলবার ফেসবুক লাইভে এসে দলীয় কর্মী-সমর্থক ও জনসাধারণের উদ্দেশে বার্তা দেন তিনি।
এসময় মমতা অভিযোগ করেন, ‘এটা খুবই দুঃখের ব্যাপার যে আমাদের কর্মীদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মামলা দায়ের করা হয়েছে। তারা জানে না তাদের কী অপরাধ। সবাই এখন কারাগারে। বাংলাটাকে একটা কারাগারে পরিণত করে দিয়েছে। কোথায় গেলো আমার সোনার বাংলা? কোথায় আমাদের মা-মাটি-মানুষের বাংলা? কোথায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নজরুল ইসলাম, বিদ্যাসাগরের বাংলা? কোথায় সম্প্রীতির বাংলা? সংস্কৃতির বাংলা?
ক্ষমতায় এসেই তারা সব গৈরিকীকরণ করছে।’
গত ১ আগস্ট থেকে পশ্চিমবঙ্গে শুরু হয়েছে জনগণনা। মমতার আশঙ্কা, জনগণনার নামে আবারও মানুষের নাম বাদ যেতে পারে।
তিনি বলেন, ‘জনগণনার কাজ শুরু হয়েছে অথচ কোনো রাজনৈতিক দলকে যুক্ত করা হয়নি। অন্তত তৃণমূলকে তো করাই হয়নি। তাহলেই বুঝুন, জনগণনায় কার নাম থাকবে, কার নাম বাদ যাবে...আবার যে একটা এসআইআর হচ্ছে না-সেটা কে বলতে পারবে! এমনিতেই ৩২ লাখ লোকের নাম বাদ গেছে। এই বিষয় নিয়ে আমি সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিলাম, ভেবেছিলাম বিচার পাব কিন্তু বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদে। এর জন্য গণআন্দোলন এবং সচেতনতা বৃদ্ধি হওয়া দরকার। সবাইকে একজোট হয়ে লড়াই করার দরকার।’
বিজেপিকে নিশানা করে মমতা বলেন, বিজেপির কয়েকজন আছে যারা দেশকে চেনে না, বাংলাকে চেনে না, তারা আজ দেশনায়ক নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুকে অসম্মান করছে, অপমান করছে। তার জয় হিন্দ স্লোগান আজও সকলের মুখে মুখে বাজে। আজকে দেশ থেকে রবীন্দ্রনাথ, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে? কেউ কেউ ব্যঙ্গ করে তাকে সাম্প্রদায়িক আখ্যা দিচ্ছেন, কেউবা দেশদ্রোহী বলছেন, কেউ আবার নানা ভাষায় আক্রমণ করছেন। তাদের এই ভাষা শুনে আমরা লজ্জিত। এই অপমান আমাদের একার নয়, সারা দেশের, সারা বিশ্বের।’
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে যেভাবে অপমান করা হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে তোলার ডাকও দিয়েছেন মমতা।
মমতার প্রশ্ন, বাংলা কি বাংলা থেকে হারিয়ে যাবে? ক্ষমতায় আসার আগে বিজেপি সরকার অনেক কথা বলেছিল। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর জোর করে পঞ্চায়েত, পৌরসভা জেলা পরিষদ দখল করা হয়েছে।