Jahirul Hasan
প্রকাশ : Aug 4, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ২৫ মার্কিন অঙ্গরাজ্যের মামলা

 
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন আমদানি শুল্কনীতির বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে নেমেছে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি অঙ্গরাজ্য। সুপ্রিম কোর্ট গত ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্পের পূর্ববর্তী আমদানি কর বাতিল করার পর তা ভিন্ন অজুহাতে পুনরুজ্জীবিত করার অভিযোগে সোমবার ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে এই যৌথ মামলা দায়ের করা হয়। 

মূলত জোরপূর্বক শ্রম বা বাধ্যতামূলক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানিতে যথাযথ পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগ তুলে ট্রাম্প প্রশাসন গত মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং বিশ্বের ৫৯টি দেশের ওপর দুই অঙ্কের শুল্ক আরোপ করে। সুপ্রিম কোর্টে হেরে যাওয়ার পর ট্রাম্প যে সাময়িক শুল্কনীতি চালু করেছিলেন, সেটির মেয়াদ শেষ হওয়ার মুহূর্তেই নতুন এই শুল্ক কার্যকর করা হয়।

এই মামলা প্রসঙ্গে নিউ ইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস তীব্র সমালোচনা করে বলেন, সুপ্রিম কোর্টে পরাজিত হওয়ার পর প্রশাসন নতুন করে শুল্কের বোঝা চাপিয়ে আবারও আমাদের পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর অবৈধভাবে কর বাড়ানোর চেষ্টা করছে। 

ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে বেআইনি ও অযৌক্তিক অভিহিত করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে নিউইয়র্ক, অ্যারিজোনা, ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো, কানেকটিকাট, ডেলাওয়্যার, হাওয়াই, ইলিনয়, কেনটাকি, ম্যাসাচুসেটস, মেরিল্যান্ড, মেইন, মিশিগান, মিনেসোটা, নেভাদা, নিউ জার্সি, নিউ মেক্সিকো, নর্থ ক্যারোলাইনা, ওরেগন, পেনসিলভেনিয়া, রোড আইল্যান্ড, ভার্জিনিয়া, ভার্মন্ট, ওয়াশিংটন এবং উইসকনসিন রাজ্য।

মার্কিন উৎপাদন খাতকে পুনরুজ্জীবিত করার উদ্দেশ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক দশকের মুক্ত বাণিজ্য ও নিম্ন শুল্কনীতি বাতিল করেন। ১৯৭৭ সালের আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন (আইইইপিএ) প্রয়োগ করে আমেরিকার দীর্ঘদিনের বাণিজ্য ঘাটতিকে ‌‘জাতীয় জরুরি অবস্থা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে প্রায় প্রতিটি দেশের আমদানির ওপর তিনি দুই অঙ্কের শুল্ক বসান। তবে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে আইইইপিএ আইন প্রেসিডেন্টকে শুল্ক আরোপের অধিকার দেয় না। আদালতের এই আদেশের ফলে আমদানিকারকদের আদায় করা অর্থ ফেরত দিতে বাধ্য হয় প্রশাসন। পরবর্তীতে এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ট্রাম্প বিশ্বব্যাপী সাময়িক ১০ শতাংশ শুল্ক চালু করলেও গত ২৪ জুলাই মধ্যরাতে তার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়।

পরবর্তীতে মেয়াদ ফুরিয়ে আসায় ট্রাম্প প্রশাসন ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ‘সেকশন ৩০১’ ধারার অধীনে অপেক্ষাকৃত শক্ত আইনি কাঠামোর শুল্কনীতি বেছে নেয়। এই ধারাটি প্রেসিডেন্টকে অন্যায্য বাণিজ্যনীতিতে অভিযুক্ত দেশগুলোর বিরুদ্ধে শুল্ক ও অন্যান্য নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষমতা প্রদান করে। এর আগে প্রথম মেয়াদে চীনে বড় অঙ্কের শুল্ক বসাতে ট্রাম্প এই ধারাটি ব্যবহার করেছিলেন যা আদালতেও টিকে যায়। নতুন এই ‘সেকশন ৩০১’ ব্যবহারের অধীনে ১০ থেকে ১২.৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছে যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আসা মোট আমদানির ৯৯ শতাংশ দেশকে প্রভাবিত করে।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কুশ দেশাই সরকারের পদক্ষেপকে সমর্থন করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন অন্যায্য আইন ও চর্চা দূর করতে নিজের আইনি কর্তৃত্ব ব্যবহার করছে দেশ। কোনো বিদেশি রাষ্ট্র যদি বাধ্যতামূলক শ্রমে তৈরি পণ্যের আমদানি ঠেকাতে ব্যর্থ হয়, তবে তা মার্কিন অর্থনীতি ও শ্রমিকদের জন্য ক্ষতিকর এবং এটি নিরসন করা জরুরি। সেকশন ৩০১ ভিত্তিক শুল্ক প্রথম মেয়াদ থেকেই একটি আইনিভাবে টেকসই অস্ত্র হিসেবে প্রমাণিত এবং এখনো তাই রয়েছে।

অঙ্গরাজ্যগুলোর এই মামলা ছাড়াও গত জুলাই মাসে ‘কোর্ট অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড’-এ একই শুল্কের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান দুটি পৃথক মামলা দায়ের করেছে। উভয় মামলাতেই অভিযোগ করা হয়েছে যে, সরকার প্রতিটি নির্দিষ্ট অর্থনীতির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি কিংবা ‘সেকশন ৩০১’ আইনের বাধ্যবাধকতা মেনে এই শুল্ক কীভাবে উক্ত অন্যায্য চর্চা বন্ধ করবে সে বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। 

নিউইয়র্ক ল স্কুলের আন্তর্জাতিক আইনকেন্দ্রের সহ-পরিচালক ও আইনের অধ্যাপক ব্যারি অ্যাপলটন জানান, প্রশাসন ভিন্ন ভিন্ন ধারায় একই ধরনের শুল্ক তিনবার চাপানোর চেষ্টা করায় মামলা জটিল রূপ নিয়েছে এবং হুবহু একই কথা বারবার বলায় আদালতে এর পক্ষে সাফাই গাওয়া কঠিন হতে পারে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, ‘সেকশন ৩০১’ অতীতেও ব্যবহৃত হয়েছে এবং কংগ্রেস এটি তদন্ত, আলোচনা ও সরকারি রেকর্ড রাখার সুনির্দিষ্ট নিয়মের মধ্যে তৈরি করেছে। ফলে আদালতে লড়াইটি সরকারের ক্ষমতার বিষয়ে না হয়ে, তারা কংগ্রেসের নির্ধারিত নিয়মের মধ্যে ছিল কি না সেটির ওপরই নির্ভর করবে।

সূত্র: এপি

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

‘অপ্রিয়’ মেসি থেকে আর্জেন্টিনার ‘দেবতা’, বদলে যাওয়ার সেই গল্

1

বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ফিরছে, বিনিয়োগে উৎসাহ দিচ্ছে যুক্তরাষ্

2

জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করেই আমরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জিতত

3

মির্জা ফখরুল‌কে ফ্রান্স-সুইজারল্যান্ডের অভিনন্দন

4

মেইল ভোট নিয়ে ট্রাম্পের পরিকল্পনা আটকে দিল মার্কিন সুপ্রিম ক

5

মানবিক অঙ্গীকার ধারণ করে ড্যাব ভবিষ্যতেও মানুষের পাশে দাঁড়াব

6

ছাত্রের মা'কে কুপ্রস্তাব; রাজি না হওয়ায় পিটিয়ে জখম

7

ফিফার আসিয়ান কাপে যাচ্ছে বাংলাদেশ

8

জুলাই শহীদদের ডকুমেন্টারি ঘিরে রাষ্ট্রপতির সামনেই হট্টগোল

9

সাংস্কৃতিক বাহিনী ছাড়া আন্দোলন সফল হয় না: রিজভী

10

সেপ্টেম্বর থেকে আবারও বাড়তে পারে স্মার্টফোনের দাম

11

শুটিংয়ের ব্যস্ততার মাঝেও বন্যাদুর্গতদের পাশে সালমান খান

12

তৃতীয় সন্তানের জন্যও ৩৬৫ দিনের মাতৃত্বকালীন ছুটি দেবে বিজয়ে

13

রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর অবকাশ থেকে আগেভাগেই ফিরলেন ট্র

14

ইসরায়েলকে স্বীকৃতি ছাড়া পারমাণবিক চুক্তি নয়, সৌদিকে ট্রাম্প

15

গভীর রাতে রাজপথে হুমা কুরেশি, সঙ্গে সাকিব সালিম

16

ইরানি হামলার ভয়ে কেন কাঁপছে বুলগেরিয়ার গ্রামটি?

17

বেনজীরের ব্যাপারে ৪ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাইল দুবাই পুলিশ

18

বাংলাদেশের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সতর্কতা ভা

19

থাইল্যান্ডে ১০ হাজার বাংলাদেশির কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা

20