সরকারি চাকুরীরত নারীদের জন্য বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে তামিলনাড়ুর রাজ্য সরকার। বিধানসভায় পেশ করা নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রথম ও দ্বিতীয় সন্তানের পাশাপাশি এখন থেকে তৃতীয় সন্তানের ক্ষেত্রেও সরকারি নারী কর্মচারীরা পুরো ৩৬৫ দিন বা এক বছরের মাতৃত্বকালীন ছুটি পাবেন।
এতদিন পর্যন্ত তৃতীয় সন্তানের ক্ষেত্রে মাতৃত্বকালীন ছুটির মেয়াদ ছিল মাত্র ১২ সপ্তাহ বা ৮৪ দিন। নতুন এই নীতির ফলে তামিলনাড়ু সরকারের নারী কর্মীরা তিনটি সন্তানের ক্ষেত্রেই সমান মেয়াদের মাতৃত্বকালীন ছুটির পূর্ণ সুযোগ-সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন।
রাজ্য বিধানসভায় পেশ করা এই ঘোষণা ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে নারী কল্যাণ ও সামাজিক নিরাপত্তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছে ক্ষমতাসীন দল। তবে মূল বিরোধী দল ডিএমকে সহ রাজনৈতিক মহলের একাংশ সরকারের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে। তাদের দাবি, বহু বছর ধরে তামিলনাড়ু রাজ্য জুড়ে পরিবার পরিকল্পনার যে সচেতনতা গড়ে তোলা হয়েছিল, নতুন এই নীতি সেই নীতির সঙ্গে কিছুটা সাংঘর্ষিক হতে পারে।
মাতৃত্বকালীন ছুটির পাশাপাশি রাজ্যের ২৩৪ জন বিধায়কের জনসেবামূলক কাজ ও এলাকার উন্নয়নমূলক তদারকি আরও সহজ করতে একটি বড়সড় সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। এখন থেকে প্রত্যেক বিধায়ককে তাদের নিজ নিজ বিধানসভা এলাকায় যাতায়াত, সাধারণ মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং বিভিন্ন সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শনের জন্য একটি করে সরকারি গাড়ি প্রদান করা হবে।
শুধু গাড়ি দিয়েই ক্ষান্ত থাকছে না প্রশাসন, একই সঙ্গে গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ, জ্বালানি খরচ এবং চালকের বেতন বাবদ প্রতি মাসে প্রত্যেক বিধায়ককে ৭৫ হাজার রুপি করে বিশেষ ভাতা দেবে রাজ্য সরকার। এর পাশাপাশি সরকারি চিঠিপত্র আদান-প্রদান, সাধারণ মানুষের আবেদনপত্র গ্রহণ এবং অফিসের আনুষঙ্গিক কাজকর্ম পরিচালনার জন্য একজন করে পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট বা সচিব নিয়োগের উদ্দেশ্যে প্রতি বিধায়ককে মাসিক আরও ২৫ হাজার রুপি করে আলাদা ভাতা প্রদান করা হবে। সরকার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমান বিধানসভায় বেশ কিছু তরুণ ও প্রথমবার নির্বাচিত বিধায়ক রয়েছেন, যাদের আর্থিক পটভূমি অত্যন্ত সাধারণ। মাঠ পর্যায়ে গিয়ে সাধারণ মানুষের সেবা নিশ্চিত করতেই এই অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা ও ভাতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সূত্র: গালফ নিউজ