পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) রাষ্ট্রদূত।
রবিবার সাক্ষাতে তারা বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের সম্মুখীন বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি এসব সমস্যা সমাধানে রাষ্ট্রদূতের সহযোগিতা কামনা করেন।
তিনি নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ অভিবাসন নিশ্চিতকরণ এবং বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের কল্যাণ ও বৈধ স্বার্থ সংরক্ষণে বাংলাদেশ সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
প্রতিমন্ত্রী পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে ২০২৬ সালের মধ্যে ঢাকায় দ্বিতীয় বাংলাদেশ–সংযুক্ত আরব আমিরাত যৌথ কনস্যুলার কমিটির সভা আয়োজনের আগ্রহ ব্যক্ত করেন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এ সভায় কনস্যুলার ও অভিবাসন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা এবং এ ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা সম্ভব হবে।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব পর্যালোচনা করা হয়। উভয় পক্ষ বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, অবকাঠামো, বন্দর, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
তারা সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি সংক্রান্ত আলোচনা দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার গুরুত্বের ওপর জোর দেন, যা দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতার জন্য একটি শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তুলবে।
এছাড়া, উভয় পক্ষ বাংলাদেশ–সংযুক্ত আরব আমিরাত জয়েন্ট বিজনেস কাউন্সিল সক্রিয় করার এবং পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে এর সভা আয়োজনের বিষয়ে একমত হন।
ইউএই রাষ্ট্রদূত সম্প্রতি ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির অধিবেশনে ওয়াদি উরাইয়াহ ন্যাশনাল পার্ককে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের মূল্যবান সহযোগিতার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
উভয় পক্ষ দুই বন্ধুপ্রতিম দেশ ও জনগণের পারস্পরিক কল্যাণে বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বহুমাত্রিক অংশীদারিত্বকে আরও গভীর ও গতিশীল করার লক্ষ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন।