বিশ্বজুড়ে ভ্রমণে বের হওয়া একটি বিলাসবহুল প্রমোদতরির যাত্রা মাঝপথে স্থগিত হওয়ায় কম্বোডিয়ায় আটকা পড়েছেন প্রায় ২০০ যাত্রী।
ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় ব্যয় সামাল দিতে না পেরে কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ভিলা ভি রেসিডেন্সেসের পরিচালিত জাহাজ ভিলা ভি ওডিসি।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, যাত্রীদের জাহাজ থেকে নামানোর ব্যবস্থা এবং সাময়িক আবাসনের বিষয়ে কাজ চলছে। তবে জাহাজটির যাত্রা আবার কবে শুরু হবে, তা নিশ্চিত নয়।
প্রায় ২০০ মিটার দীর্ঘ জাহাজটিতে সর্বোচ্চ ৬৫০ জন যাত্রী বহন করা যায়। ২০২৪ সালের অক্টোবরে উত্তর আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্ট থেকে বিশ্বভ্রমণে যাত্রা শুরু করে এটি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সাড়ে তিন বছর ধরে প্রায় ১৫০টি দেশ ঘুরে বেড়ানোর কথা ছিল জাহাজটির।
প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, এশিয়ার কিছু অঞ্চলে জাহাজটির প্রতি কেবিনের মাসিক জ্বালানি ব্যয় ১ হাজার ৮০০ ডলার থেকে বেড়ে ৮ হাজার ডলার পর্যন্ত পৌঁছেছে। জ্বালানি খরচ কমাতে জাহাজের গতি কমানো এবং বিভিন্ন বন্দরে বেশি সময় অবস্থানের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাতেও ব্যয় বৃদ্ধির চাপ সামাল দেওয়া সম্ভব হয়নি।
প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, জ্বালানির বাড়তি ব্যয় পুরোপুরি যাত্রীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া বাস্তবসম্মত নয়। আগামী ৬০ দিন প্রতিষ্ঠানটির পুনর্গঠন ও নতুন মূলধন সংগ্রহের কাজে ব্যয় করা হবে। তবে এ প্রক্রিয়ার ফল কী হবে, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার কম্বোডিয়ার সিহানুকভিল বন্দরে থাকা যাত্রীদের জাহাজ থেকে নেমে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। যাত্রী ল্যানেট ক্যানেন ও জোহান বোদিন বিবিসিকে জানান, স্থানীয় সময় সকাল ৬টায় প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী তাদের জাহাজ ছাড়ার নির্দেশ দেন। একই দিন বেলা ২টার মধ্যে তাদের নেমে যেতে বলা হয়েছিল।
তারা জানান, প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক সংকটের বিষয়টি যাত্রীরা আগে থেকেই জানতেন। সম্ভাব্য একজন বিনিয়োগকারী জাহাজে উঠে যাচাই-বাছাইও করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিনিয়োগের উদ্যোগ সফল হয়নি। জাহাজের যাত্রা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ভেঙে গেছে বলে জানান এই দম্পতি।
আরেক যাত্রী হলি হেনেসি বলেন, জ্বালানির দাম বাড়ার পর যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে বলা হয়েছিল। একই সঙ্গে ভ্রমণসূচিও উল্লেখযোগ্যভাবে সংক্ষিপ্ত করা হয়। পরিস্থিতির কারণে কেউ কেউ জাহাজ ছেড়ে স্থলপথে ভ্রমণের সিদ্ধান্ত নেন।
জাহাজটির কেবিনে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগের দাম ছিল ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ৪ লাখ ৪০ হাজার ডলার। মাসিক ৩ হাজার ৫০০ ডলার থেকে ভাড়ায় থাকার ব্যবস্থাও ছিল। অবসরজীবন সমুদ্রে কাটানোর জন্য প্রতিষ্ঠানটি আজীবন আবাসন কর্মসূচিও চালু করেছিল।
যাত্রা বন্ধ হলেও সব যাত্রী আশা ছাড়েননি। ক্যানেন ও বোদিন জানিয়েছেন, জাহাজে কাটানো দুই বছরের অভিজ্ঞতা তাদের কাছে মূল্যবান। আপাতত তারা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে পরবর্তী পরিকল্পনা ঠিক করবেন। অন্যদিকে, হেনেসি এখনও আশা করছেন, জাহাজটি আবার সমুদ্রে ফিরবে।
কম্বোডিয়ার সিহানুকভিলে যাত্রীরা আপাতত বিভিন্ন হোটেলে অবস্থান করছেন। তাদের কেউ কেউ একসঙ্গে স্থলে বসবাসের পরিকল্পনাও করছেন, যাতে জাহাজে গড়ে ওঠা বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্ক অটুট থাকে।
সূত্র: বিবিসি