কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মধ্যেই ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। সবশেষে পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত উভয় দেশের ১৭জন নাগরিক নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে কিয়েভের ১১ জন এবং মস্কোর ছয়জন রয়েছে। এছাড়াও বেশ কয়েক জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় শুক্রবার(২৪ জুলাই) কিয়েভ অঞ্চলে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ছয়জন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মস্কোর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর কিয়েভ অঞ্চলে উদ্ধারকাজ চলছে। দুর্ভাগ্যবশত, ছয়জন নিহত হয়েছেন।
এর আগে কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো শহরে বিস্ফোরণের কথা জানান এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় থাকায় বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে থাকার আহ্বান জানান। স্লোভিয়ানস্ক শহরের গভর্নর ভাদিম ফিলাশকিন জানিয়েছেন, মস্কো শহরটিতে দুটি বিমান থেকে ছোড়া বোমায় পাঁচজন নিহত ও নয়জন আহত হয়েছেন।
ফিলাশকিন বলেন, রুশরা প্রতিদিন আমাদের শহরগুলোতে হামলা চালাচ্ছে। টানা দ্বিতীয় দিনের মতো তাদের হামলায় স্লোভিয়ানস্কে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। যারা এখনও যুদ্ধক্ষেত্রের কাছাকাছি আছেন, তাদের সবার প্রতি আমার আহ্বান, তারা এলাকা ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যান।
কিয়েভ থেকে আল জাজিরার অড্রে ম্যাকঅ্যালপাইন জানান, দিনের বেলায় রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বেশ বিরল ঘটনা। এদিকে দক্ষিণাঞ্চলীয় মাইকোলাইভ এলাকায় বন্দরের অবকাঠামোতে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় দুটি বেসামরিক জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে টেলিগ্রামে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত আঞ্চলিক গভর্নর হেওর্হি রেশেতিলভ। তবে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
রাশিয়া দাবি করেছে তারা ইউক্রেনের খারকিভ অঞ্চলের জাখারিবকা ও ইভাশচিনে গ্রামের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে এবং গত সপ্তাহে ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত ২৭টি জাহাজে আঘাত হেনেছে।
ম্যাকঅ্যালপাইন বলেন, আমরা বিভিন্ন টেলিগ্রাম চ্যানেল ও কর্মকর্তাদের কাছ থেকে খবর পাচ্ছি, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আরও একটি বড় ধরনের হামলা হতে পারে। গ্রীষ্মকালজুড়ে ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকি বেড়েই চলেছে এবং তা কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
রাশিয়ার ওপর ইউক্রেনের হামলা
একই সময়ে রাশিয়ার কিরভ অঞ্চলে একটি কারখানায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় চালিয়ে ইউক্রেন। এতে ছয়জন নিহত ও ২৬ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক গভর্নর আলেকজান্ডার সোকোলভ। এ সময় দেশটির ই-কমার্স জায়ান্ট ‘ওয়াইল্ডবেরিজ’-এর একটি গুদামও হামলার শিকার হয়েছে। খুচরা ব্যবসার এই বিশাল প্রতিষ্ঠানের গুদামগুলোকে লক্ষ্য করে কিয়েভ ধারাবাহিকভাবে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
ওয়াইল্ডবেরিজের প্রতিষ্ঠাতা তাতিয়ানা কিম জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক এই হামলাগুলোতে সেন্ট পিটার্সবার্গ, পার্শ্ববর্তী লেনিনগ্রাদ অঞ্চল এবং ক্রিমিয়ার প্রধান শহর সিমফেরোপোলে অবস্থিত গুদামগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এক বিবৃতিতে কিম বলেন, আমরা কিছু স্থাপনা ও পণ্য রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছি। আমি আমাদের কর্মীদের ধন্যবাদ জানাতে চাই। কারণ তাদের সহায়তায় গুদাম থেকেই দ্রুততার সঙ্গে কর্মীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, আমাদের সব প্রচেষ্টা এখন বিভিন্ন গুদামের মধ্যে পণ্য পুনর্বণ্টনের দিকে নিবদ্ধ রয়েছে, যাতে পণ্যের সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত করা যায় এবং আমাদের অংশীদারদের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হয়।
এরই মধ্যে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই হামলাগুলোর প্রশংসা করেছেন। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, তারা এক রাতেই ইউক্রেনের ৫৭টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। দূরপাল্লার হামলা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে কিয়েভ ব্যাপক ড্রোন আক্রমণ চালিয়েছে, এটি ছিল তার অন্যতম একটি ঘটনা।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাশিয়ার একাধিক অঞ্চল এবং রাশিয়ার সঙ্গে সংযুক্ত ক্রিমিয়া অঞ্চলকে লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হয়েছিল।
সূত্র: আলজাজিরা।