ইংল্যান্ডে বিপক্ষে টানা হারের পর দল ও কোচিং স্টাফে ব্যাপক রদবদলের মধ্যে আগামী বছরে অনুষ্ঠেয় পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে। পিসিবি এবং টুর্নামেন্টের আটটি ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকরা আসরটি জানুয়ারি মাসে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছেন।
পিএসএলের মিডিয়া স্বত্বাধিকারী প্রতিষ্ঠান ‘ওয়ালি টেকনোলজিস’-এর প্রস্তাবিত এই বিষয়টি নিয়ে গত ১ সেপ্টেম্বর লন্ডনে অনুষ্ঠিত পিএসএল গভর্নিং কাউন্সিলের সভায় আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। এই আলোচনার মূল কারণ হলো, এপ্রিল ও মে মাসের বিজ্ঞাপন বাজার।
পিসিবি ও ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের মধ্যে বড় পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার জেরে পিএসএল আয়োজনের সময়সূচি জানুয়ারি মাসে সরে আসতে পারে। এপ্রিল-মে সময়কালটি রমজান মাসের ঠিক পরেই পড়ে; এ সময়ে অনেক কোম্পানি তাদের বিপণন ও টিভি বিজ্ঞাপনের বাজেটের বড় একটি অংশ আগেই খরচ করে ফেলে। ফলে এই সময়ে পিএসএল থেকে সম্ভাব্য আয় নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সম্প্রচারজনিত আয় নিয়েও ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকরা চিন্তিত। বর্তমান চুক্তি অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় আয়ের উৎস থেকে প্রাপ্ত সম্প্রচারজনিত আয়ের ৯৫ শতাংশ আটটি দল নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয়। মালিকরা নিশ্চিত হতে চান, পিএসএল যখনই অনুষ্ঠিত হোক না কেন, তারা যেন তাদের প্রাপ্য পুরো অংশটিই পান।
টিভি স্বত্ব থেকে প্রত্যাশিত আর্থিক আয় না হওয়ায় ‘ওয়ালি টেকনোলজিস’-এর বিজ্ঞাপন বাজেট নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। পাকিস্তানে ২০২৯ সাল পর্যন্ত পিএসএলের সম্প্রচার ও ডিজিটাল স্বত্ব ওয়ালি টেকনোলজিসের হাতে রয়েছে এবং তারা ‘রাওয়ালপিন্ডিজ’ দলের মালিকও বটে।
২০১৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত পিএসএল সাধারণত ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত হতো। তবে গত বছরে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি এবং এ বছরের আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কারণে গত দুটি মৌসুমে এটি এপ্রিল ও মে মাসে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। আইপিএলের সাথে একই সময়ে পিএসএল আয়োজনের একটি সুবিধা অবশ্য পাওয়া গিয়েছিল। আগের মৌসুমগুলোর মতো আইপিএলের কারণে খেলোয়াড়দের প্রাপ্যতা নিয়ে কোনো জটিলতা ছাড়াই টুর্নামেন্টটি আয়োজন করা সম্ভব হয়েছিল।
কিন্তু পিসিবি আবারও পিএসএলকে আবার জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারির উইন্ডোতে ফিরিয়ে আনে, তাহলে সেই সমস্যাটি আবারও দেখা দিতে পারে। সেক্ষেত্রে পিএসএলে বিদেশি খেলোয়াড়দের জন্য সাউথ আফ্রিকান ২০ এবং বিগ ব্যাশ লিগের (বিবিএল) সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হবে।
পিএসএল-এর জন্য আরেকটি চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে ঠান্ডা আবহাওয়া। পিসিবি আবহাওয়া নিয়েও সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে। পাঞ্জাবে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাস খুব ঠান্ডা থাকে, যেখানে পিএসএল-এর চারটি নিয়মিত ভেন্যুর মধ্যে তিনটি হলো লাহোর, মুলতান এবং রাওয়ালপিন্ডি। রাতে তাপমাত্রা এক অঙ্কের ঘরে নেমে যেতে পারে, আবার ঘন কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতাও কমে যেতে পারে।
তবে এই সমস্যার সমাধান হতে পারে যদি টুর্নামেন্টটি করাচিতে শুরু করা হয়, যেখানে শীতকালে আবহাওয়া ভালো থাকে। এরপর আবহাওয়া উষ্ণ হলে পাঞ্জাব ও পেশোয়ারে টুর্নামেন্টটি স্থানান্তর করা হয়। পাকিস্তানের জন্য ইতোমধ্যেই মধ্য-নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত খেলোয়াড় কেনার একটি উইন্ডো রয়েছে। দলটি অক্টোবর ও নভেম্বরে শ্রীলঙ্কা এবং ইংল্যান্ডকে আতিথ্য দেবে এবং এরপর মার্চে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি টেস্ট খেলবে। আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে (ডব্লিউটিসি) এটিই হবে পাকিস্তানের শেষ ম্যাচ।
পাকিস্তানে ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার কারণে একটি সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে ই-স্পোর্টস নিয়ে আলোচনা করা হয়। কিছু ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক পাকিস্তানের দুর্বল পারফরম্যান্সের কারণে পিএসএল-এর প্রতি আগ্রহ কমে যেতে পারে উদ্বিগ্ন। ই-স্পোর্টসে প্রবেশ করা লিগটিকে তরুণ দর্শকদের সাথে সংযোগ স্থাপনে সহায়তা করতে পারে। পিসিবি বর্তমান স্বত্ব চুক্তির অধীনে একটি পৃথক মধ্য-বর্ষ টুর্নামেন্ট আয়োজনের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেছে। এটি ফ্র্যাঞ্চাইজি এবং সম্প্রচারকারী উভয়কেই অর্থ উপার্জনের আরেকটি উপায় দিতে পারে এবং বছরজুড়ে পিএসএল-কে সক্রিয় রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।