বরগুনায় এক কোটি টাকা চাঁদাবাজির একটি মামলায় দৈনিক কালবেলা পত্রিকার বরগুনা প্রতিনিধি আসাদ সবুজের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার (৭ অক্টোবর) বরগুনার অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক বাদীর উপস্থিতিতে শুনানি শেষে তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।
এদিকে, গ্রেপ্তারের সময় সাংবাদিককে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে হেনস্তা ও পুলিশ বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে বরগুনা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হারুন অর রশিদকে বরগুনা পুলিশ লাইন্সে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্টে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মেলায় বরগুনা জেলা পুলিশ তার বিরুদ্ধে এ বিভাগীয় পদক্ষেপ নেয়।
আদালত ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগে ৩ অক্টোবর বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কেন্দ্রীয় নেতারা বরগুনায় উপস্থিত হয়ে আসাদ সবুজকে গ্রেপ্তারের নামে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে হেনস্তা ও অমানবিক আচরণ করার তীব্র প্রতিবাদ জানান। একইসঙ্গে বরগুনা পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, সাংবাদিক আসাদ সবুজের পক্ষ থেকে আদালতে তিন দফা জামিন আবেদন করা হয়। গত রোববার (৪ অক্টোবর) বরগুনার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জামিনের আবেদন করা হলে বিচারক শুনানির জন্য মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দিন ধার্য করেন। পরবর্তীতে বাদীর উপস্থিতিতে শুনানির সিদ্ধান্ত নিয়ে বুধবার (৭ অক্টোবর) দিন ধার্য করা হয় এবং শুনানি শেষে আদালত জামিনের আদেশ দেন। শুনানিতে আসাদ সবুজের পক্ষে অ্যাডভোকেট এমএ বারী মতিন এবং বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের পক্ষে অ্যাডভোকেট মোস্তফা কাদের ও অ্যাডভোকেট বাবুল দাস অংশ নেন।
সাংবাদিক আসাদ সবুজের জামিনের বিষয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আহমেদ আবু জাফর বলেন, ‘একটি মহল চেয়েছিল আসাদ সবুজ দীর্ঘ সময় কারাবন্দি থাকুক। তার সততা ও অন্যায়ের প্রতিবাদী আচরণই ছিল প্রতিপক্ষের মূল ভয়ের কারণ। আজকের জামিনের মধ্য দিয়ে সত্যের প্রাথমিক জয় হলো। সাজানো মামলা থেকে নিষ্কৃতি পেয়ে আসাদ সবুজ চূড়ান্তভাবে অবমুক্ত হলেই পূর্ণাঙ্গ বিজয় অর্জিত হবে।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, পুলিশ সবুজকে গ্রেপ্তারের সময় যে অমানবিক আচরণ করেছে তা পুরো সাংবাদিক সমাজের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। সংগঠনের তদন্ত দল বরগুনায় সরেজমিনে অনুসন্ধান চালিয়ে জানতে পেরেছে, ওই এলাকার বেশ কয়েকটি সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিবারের কয়েক কোটি টাকার জমি দখলের পাঁয়তারা ঢাকা দিতেই সাজানো এ মামলাটি করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, গত ১ অক্টোবর রাতে বরগুনা থানা পুলিশ স্থানীয় সুভাষ ঘোষের করা চাঁদাবাজি মামলায় সাংবাদিক আসাদ সবুজকে গ্রেপ্তার করে। মামলায় আসাদ সবুজসহ মোট ১৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এলাকার নিরীহ লোকজনকে হয়রানি ও জমি দখলের উদ্দেশ্যে সুভাষ ঘোষ ও তার ভাই স্বপন কুমার ঘোষ বাদী হয়ে এই ১ কোটি টাকার চাঁদাবাজি মামলাটি করেন।