Jahirul Hasan
প্রকাশ : Oct 7, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রস্তাব গৃহীত

জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের (ইউএনএইচআরসি) চলমান ৬৩তম অধিবেশনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিষয়ে প্রথমবারের মতো ‘মানবাধিকার উন্নয়ন ও সুরক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব’ শীর্ষক একটি প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে।

বাংলাদেশের নেতৃত্ব ও উদ্যোগে আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া, বাংলাদেশ, মিশর, গ্রিস, গায়ানা, কুয়েত ও নেপালের সমন্বয়ে গঠিত কোর গ্রুপের পক্ষ থেকে মানবাধিকার পরিষদের চলমান অধিবেশনে প্রস্তাবটির খসড়া উপস্থাপন করা হয়।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) জেনেভায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

মানবাধিকার পরিষদে প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হওয়াকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মানবাধিকারের দ্রুত বিকাশমান সম্পর্ক নিয়ে জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ এই পরিষদের আলোচনায় একটি মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রস্তাবটি এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ, ভবিষ্যৎমুখী ও মানবাধিকারকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি এগিয়ে নিতে চায়, যা উন্নয়ন ও উদ্ভাবনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনাকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি মানবাধিকার উন্নয়ন ও সুরক্ষায় এর ক্রমবিকাশমান প্রভাবগুলোকেও বিবেচনায় নেয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দিকনির্দেশনায় জেনেভায় বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন প্রস্তাবটির পেন হোল্ডার হিসেবে ২০২৬ সালের আগস্টে কোর গ্রুপের পক্ষে প্রথমবারের মতো এটি মানবাধিকার পরিষদের প্রাক-অধিবেশন সভায় উপস্থাপন করে।

এরপর থেকে বাংলাদেশ কোর গ্রুপের অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে এবং বিভিন্ন প্রতিনিধিদল ও অংশীজনের সঙ্গে উন্মুক্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গঠনমূলক পরামর্শ ও আলোচনা পরিচালনা করে।

মানবাধিকার পরিষদে প্রস্তাবটির খসড়া উপস্থাপনের সময় বাংলাদেশ উল্লেখ করে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সমাজ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর দ্রুত রূপান্তরে শক্তিশালী প্রভাবক হিসেবে কাজ করছে।

তাই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন ও ব্যবহারকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকতে হবে। এতে মানবিক মর্যাদা ও মানুষের নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কেন্দ্রীয় বিবেচনায় রাখতে হবে।

এ ছাড়া, প্রস্তাবটিতে উন্নয়ন, অন্তর্ভুক্তি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থবহ অংশগ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

প্রস্তাবটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো— উদীয়মান প্রযুক্তির সুফলে আরও বিস্তৃত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান। এতে বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, কারিগরি সহায়তা, জ্ঞান-বিজ্ঞান বিনিময়, প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।

জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হওয়াকে বহুপাক্ষিক কূটনীতিতে বাংলাদেশের ভূমিকা এবং উদীয়মান বৈশ্বিক ইস্যুতে আন্তর্জাতিক আলোচনায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণের প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সমস্যা সমাধানে প্রস্তুত ইরান: পেজেশ

1

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে প্রাণহানি ছাড়াল ৬ হাজার

2

যুক্তরাষ্ট্রেই বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখেছে ৬৩ মিলিয়ন দর্শক

3

ভারতের পরমাণু ভাণ্ডারে কত অস্ত্র, সামনে এল নতুন হিসাব

4

বেরোবিতে কলা অনুষদের গবেষণা প্রকল্পের ২য় সেমিনার অনুষ্ঠিত

5

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রেখেই বিনিয়োগে গতি ফেরাতে চায় কেন্দ্র

6

জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানালেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসল

7

মানবাধিকার নিয়ে ফ্রান্সের অবস্থান ‘নির্লজ্জ ও দ্বিচারিতা’: ই

8

বেরোবি শহিদ ফেলানী হলের আধুনিক রিডিং রুম ও সেমিনার রুমের উদ্

9

বাহরাইন ও কুয়েতে মিসাইল ছুড়ল ইরান

10

ডামুড্যায় নিখোঁজের ছয় ঘণ্টা পর শিশুর বস্তাবন্দি গলাকাটা মরদে

11

পলিসি ক্যাম্পে সারা দেশের ৩০ জনের একজন বেরোবির শিক্ষার্থী আই

12

দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনে পুলিশের অভিযান

13

১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়তে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির তাগিদ প্

14

ইরান ‘পুরোপুরি ধসে পড়ছে’: ট্রাম্প

15

সেরা গোলরক্ষকের মনোনয়ন পেলেন বিশ্বকাপ মাতানো ভোজিনহা

16

পুনরুদ্ধারের পথে উপসাগরীয় তেলের রপ্তানি, ‘ঝুঁকিতে’ হরমুজ প্

17

এবার ব্যাচেলর ফ্ল্যাটে আ খ ম হাসান

18

আকস্মিক বন্যায় নেপালের পাশাপাশি চীনের তিব্বতেও ভয়াবহ বিপর্যয়

19

জানুয়ারিতে বাংলাদেশ সফরে আসতে পারে ভারত

20