আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি
দশম শ্রেনীর এক ছাত্রীকে উত্ত্যক্তের অভিযোগ উঠেছে সহকারী শিক্ষক ইকবাল হোসেন রুবেলের বিরুদ্ধে। ছাত্রী ভাই প্রধান শিক্ষককের কাছে অভিযোগ দেয়ার ওই ছাত্রী ও তার পরিবারকে হুমকি দিচ্ছেন তিনি। শিক্ষকের ভয়ে ওই ছাত্রীর গত তিনদিন ধরে বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করে দিয়েছে। এতে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। দ্রুত সহকারী শিক্ষক রুবেলের বিরুদ্ধে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা নেয়ার দাবী শিক্ষার্থীদের।
ঘটনা ঘটেছে গত সোমবার আমতলী উপজেলার কুকুয়া আদর্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের।
জানাগেছে, আমতলী উপজেলার কুকুয়া আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ ইকবাল হোসেন রুবেল গত ১২ বছর ধরে সহকারী শিক্ষক হিসেবে চাকুরী করে আসছেন। চাকুরীজীবনে তিনি একাধিক ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করেছেন এমন অভিযোগ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের।
কিন্তু প্রতিবারই তিনি কৌশলে রক্ষা পেয়ে যান। ওই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেনীর এক ছাত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত করে আসছে। কিন্তু ছাত্রী লজ্জায় বিষয়টি এড়িয়ে যান। গত সোমবার শিক্ষক ইকবাল হোসেন রুবেল ওই ছাত্রীকে শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব দেন। কিন্তু তাতে রাজী হয়নি ওই ছাত্রী। নিরুপায় হয়ে ওই ছাত্রী তার মাকে বিষয়টি খুলে বলেন। পরে ওই ছাত্রীর ভাই সহকারী শিক্ষক ইকবাল হোসেন রুবেলের বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষককের কাছে অভিযোগ দেন। এতে ক্ষিপ্ত হন শিক্ষক রুবেল। পরে তিনি ওই ছাত্রী ও তার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। তার ভয়ে ওই ছাত্রী গত তিন দিন ধরে বিদ্যালয় আসা বন্ধ করে দিয়েছে। এতে তার শিক্ষা কার্যক্রম ব্যহত হওয়ার উপক্রম হয়েছে। দ্রুত শিক্ষক রুবলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা শাস্তিমুলক ব্যবস্থা নেয়ার দাবী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, সহকারী শিক্ষক ইকবাল হোসেন রুবেল প্রায়ই ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করে আসছে। এ নিয়ে বেশ কয়েকবার শালিস বৈঠক হলেও তিনি তাতে সংশোধন হয়নি। গত সোমবার দশম শ্রেনীর এক ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করছেন তিনি। তারা আরো বলেন, ওই ছাত্রী গত তিন দিন ধরে বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করে দিয়েছে।
ওই শিক্ষার্থী বলেন, আমাকে সহাকারী শিক্ষক রুবেল স্যার দীর্ঘদিন ধরে খারাপ প্রস্তাব দিয়ে আসছে। তার প্রস্তাবে আমি রাজি না হওয়ায় গত সোমবার আমাকে অনৈতিক প্রস্তাব দেন। আমি বিষয়টি আমার মাকে বলেছি। এতে আরো ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে ও আমার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। ওই ঘটনার পর থেকে আমি স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছি। আমি স্যারের কঠোর শাস্তি দাবী করছি।
ওই ছাত্রীর মা বলেন, আমার মেয়েকে উত্ত্যক্ত করায় আমার ছেলে প্রধান শিক্ষককের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে ও আমার মেয়েকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। তার ভয়ে আমার মেয়ে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।
ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ ইকবাল হোসেন রুবেল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, হ্যান্ডবল ও কাবাডি খেলার খেলোয়ার চুড়ান্ত করতে ওই ছাত্রীকে ডাকা হয়েছে। এ সময় আমি বলেছি তুমি ভালো খেলতে পারবে।এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে।
কুকুয়া আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গাজী গোলাম ফারুক বলেন, সহকারী শিক্ষক রুবেল ওই ছাত্রীর সাথে অশ্লীল আচরণ করেছেন। যা মুখে উচ্চারন করা যায়না। বিষয়টি নিয়ে গত বৃহস্পতিবার বৈঠকে বসেছিলাম। সভাপতি তাকে শাসিয়েছেন।
আমতলী থানার ওসি মোঃ ইয়াকুব হোসাইন বলেন, অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।