রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে ইউক্রেনের একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। রাশিয়ার ছোড়া লক্ষ্যবস্তু ধাওয়া করার সময় ফ্রন্টলাইনে মিশন চালানোর মধ্যে হঠাৎ যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয় যুদ্ধবিমানে। বুধবার এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে ইউক্রেনের বিমানবাহিনী।
যুদ্ধবিমানটি রাশিয়ার করা আকাশপথের হামলা ও টার্গেট চিহ্নিত করে তা ধ্বংসের মিশনে নিয়োজিত ছিল। সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় বুধবার ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, সম্মুখ যুদ্ধে একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। পাইলট জরুরি ব্যবস্থা নিয়ে বিমান থেকে বের হয়ে আসে। তাকে নিরাপদে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা শঙ্কামুক্ত রয়েছে।
দুর্ঘটনাস্থলে ইউক্রেনের বিশেষজ্ঞ টিম এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা পৌঁছেছে। বিমানটিতে কী ধরনের কারিগরি সমস্যা দেখা দিয়েছিল, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। দুর্ঘটনায় কোনো সাধারণ মানুষ হতাহত হননি এবং কোনো স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতিও হয়নি বলে জানানো হয়েছে।
ইউক্রেন নেদারল্যান্ডস, ডেনমার্কসহ ন্যাটোর কয়েকটি পশ্চিমা মিত্র দেশের কাছ থেকে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান পেয়েছে। রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ঠেকাতে এসব যুদ্ধবিমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। চলমান যুদ্ধের মধ্যে একটি এফ-১৬ হারানো ইউক্রেনের জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এদিকে, ইউক্রেইনে রাশিয়ার হামলায় রাজধানী কিইভে একজনসহ বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছে। পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে ইউক্রেনের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর লভিভেও হামলা চালানো হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে ফিরে আসার পর স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ভোররাতে হামলাগুলো চালানো হয়। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরে জেলেনস্কি জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেইনকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন।
এদিন ভোররাতে ইউক্রেইনের অধিকাংশ অঞ্চলে আকাশ হামলার সতর্ক সঙ্কেত বেজে ওঠে। রয়টার্সের এক প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিক জানান, কিইভে বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন তিনি। টেলিগ্রাম অ্যাপে কিইভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানিয়েছেন, হামলার পর কয়েক অনাবাসিক স্থানে আগুন লেগে যায়।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, রয়টার্স