Jahirul Hasan
প্রকাশ : Sep 5, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

দক্ষ শ্রমিক দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি: মাহদী আমিন

শ্রমজীবী মানুষকে জাতীয় অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করে তাদের টেকসই নিরাপত্তা, মর্যাদা ও দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি বলেন, ‘শ্রমিকের দক্ষতা বাড়লে শিল্পের সক্ষমতা ও দেশের প্রতিযোগিতার শক্তি বাড়ে। দক্ষ শ্রমিক দেশের অন্যতম বড় উৎপাদনশীল সম্পদ।’

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) সম্মেলন ও সাধারণ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মাহদী আমিন বলেন, ‘শ্রমিক শুধু শ্রম দেন না, তারাই দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখেন। শ্রমের মর্যাদা নিশ্চিত করা মানে দেশের মর্যাদা নিশ্চিত করা। ন্যায্য মজুরি কোনো অনুগ্রহ নয়, এটি শ্রমিকের ন্যায্য প্রাপ্য। নিরাপদ কর্মপরিবেশ প্রতিটি শ্রমিকের মৌলিক অধিকার। শ্রমিকের কল্যাণ মানে শুধু একজন কর্মীর কল্যাণ নয়, একটি পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।’

তিনি বলেন, ‘দক্ষ শ্রমিক দেশের অন্যতম বড় উৎপাদনশীল সম্পদ। শ্রমিকের দক্ষতা বাড়লে শিল্পের সক্ষমতা ও দেশের প্রতিযোগিতার শক্তি বাড়ে। প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে শ্রমিকের দক্ষতাকেও এগিয়ে নিতে হবে।’

নতুন শিল্প ও নতুন কর্মসংস্থানের জন্য আগামী প্রজন্মের শ্রমশক্তিকে প্রস্তুত করার পাশাপাশি উৎপাদনশীলতা বাড়াতে শ্রমিকের দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতায় বিনিয়োগ করার ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র।

সম্মেলন ও সাধারণ সভায় আরও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও কৃষি বিষয়ক উপদেষ্টা এবং বিলসের মহাসচিব নজরুল ইসলাম খান, সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক‌ শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার-আইএলও’র কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনন, জাপান ইন্টারন্যাশনাল লেবার ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট ইয়াসুনোবু আইহারা, বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের ডেপুটি অ্যাম্বাসেডর জ্যানা ভ্যান ডার লিনডেন, এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক মোহাম্মদ জকরিয়া, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুর রহমান তরফদার, বিলসের চেয়ারম্যান মো. মজিবুর রহমান ভূঁইয়াসহ দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা।

শিল্পখাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে মালিক-শ্রমিক সুসম্পর্ক এবং অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন।

তিনি বলেন, শিল্পের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে মালিক ও শ্রমিককে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এক হয়ে কাজ করতে হবে। সরকারের ‘ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ ব্যবস্থা’ (ট্রাইপারটাইট কনসালটেশন)-এর মাধ্যমেই শিল্প খাতকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

মাহদী আমীন উল্লেখ করেন, মালিক ও শ্রমিকের মধ্যকার এই সম্পর্ক কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; এটি হতে হবে আস্থা, পারস্পরিক নির্ভরতা এবং গভীর ভালোবাসার। একটি টেকসই শিল্প ব্যবস্থা গড়ে তুলতে উভয়পক্ষের মধ্যে নিয়মিত কার্যকর যোগাযোগ, দায়িত্বশীলতা এবং পারস্পরিক বিশ্বাস প্রতিষ্ঠার বিষয়ে বিশেষ তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র আরও বলেন, ‘কর্মক্ষেত্রে ন্যায়বিচার থাকলে আস্থা তৈরি হয়, আর আস্থা থাকলে উৎপাদন বাড়ে। নারী শ্রমিকের নিরাপত্তা ও সমান সুযোগের নিশ্চিয়তা অর্থনীতির সক্ষমতাও বাড়ায়। কর্মসংস্থানের সংখ্যা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সেই কর্মসংস্থানের মানও সমান গুরুত্বপূর্ণ। শ্রমিকের সন্তান যেন আরও ভালো শিক্ষা ও বড় স্বপ্নের সুযোগ পায়, এটিও শ্রমিক কল্যাণের অংশ। আজকের শ্রমশক্তিকে আগামী দিনের পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত করাই হবে আমাদের অন্যতম বড় বিনিয়োগ। শ্রমের শক্তি, শিল্পের সক্ষমতা এবং রাষ্ট্রের দায়িত্ব-এই তিনের সমন্বয়েই গড়ে উঠবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।’

একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ জনশক্তি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘দক্ষ শ্রমিকই দেশের প্রধান উৎপাদনশীল সম্পদ। প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক চাহিদার পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শ্রমিকের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে হবে, যাতে শিল্পের সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক বাজারের প্রতিযোগিতা করার শক্তি বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।’

বক্তব্যে তিনি কর্মসংস্থানের পরিমাণের পাশাপাশি কাজের মান (ডিসেন্ট জব) এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তির ওপর জোর দেন।

সভায় দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অর্জনে শ্রমিকদের ঐতিহাসিক অবদানের কথা স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক পথযাত্রায় শ্রমজীবী মানুষ বারবার রাজপথে নেমে এসেছেন। নিজেদের স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের কল্যাণ, জনগণের অধিকার এবং সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে তাদের এই সাহসী অবস্থান জাতীয় ইতিহাসের এক অনন্য অধ্যায়।

মাহদী আমিন বলেন, নতুন নতুন শিল্প এবং আধুনিক কর্মসংস্থানের উপযোগী করে আমাদের আগামী প্রজন্মকে প্রস্তুত করতে হবে। আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক কাঠামোর সাথে বাংলাদেশের শ্রমবাজারের সুসংহত মেলবন্ধন ঘটলে এ দেশের শ্রমিকদের অপার সম্ভাবনা সারা বিশ্বে আরও সমাদৃত হবে।

রাষ্ট্র পরিচালনায় শ্রমজীবী মানুষের মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে শিল্প খাতের বাস্তবতার নিরিখে টেকসই সমাধান খোঁজার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, ‘কর্মক্ষেত্রে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হলে এমন একটি রাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে শ্রমিকের মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং শিল্পের উন্নয়ন ও বিকাশ একই স্রোতোধারায় প্রবাহিত হবে।’

মাহদী আমিন উল্লেখ করেন, ‘একটি প্রকৃত অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে দেশের বিপুলসংখ্যক নারী জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কেবল কর্মসংস্থানের পরিমাণের দিকে নজর দিলেই চলবে না, বরং কাজের গুণগত মান (ডিসেন্ট জব), ন্যায্য মজুরি এবং পরিশ্রমে শ্রমিকের সম্মান নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম বড় অগ্রাধিকার।’

শ্রমিকের শ্রমশক্তি, শিল্পের গতিশীল সক্ষমতা এবং রাষ্ট্রের দায়িত্বশীলতার সমন্বয়েই একটি সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। শ্রমিক সমাজের এই চাওয়া-পাওয়াকে ধারণ করে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিলস’র তিন দশকের পথচলা ও শ্রম অধিকার রক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির অবদানের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। তিনি উল্লেখ করেন, শ্রম অধিকার প্রতিষ্ঠা, শ্রমিকদের স্বাধীনতা ও সুরক্ষায় বিলস দীর্ঘদিন ধরে একটি বিস্তৃত কর্মযজ্ঞ পরিচালনা করে আসছে, যেখানে দেশের শীর্ষস্থানীয় শ্রম অধিকার কর্মী এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীরা ধারাবাহিকভাবে ভূমিকা রাখছেন।

শ্রমজীবী মানুষের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মাহদী আমিন জানান, শ্রম খাতের টেকসই উন্নয়নে সরকার, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদার, সিভিল সোসাইটি এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো একযোগে কাজ করে যাচ্ছে। বলেন, ‘সরকারের ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প “ফ্যামিলি কার্ড” ইতোমধ্যে শ্রমজীবী নারীদের মাঝেও পৌঁছানো শুরু হয়েছে। প্রতিটি মা ও বোনের সামাজিক মর্যাদা এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

টেস্ট ইতিহাসের অন্যতম সেরা দিন পার করল বাংলাদেশ

1

বেরোবিতে বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের গবেষণা প্রকল্পের ২য় সেমিনার

2

মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তায় হরমুজ পাড়ির চেষ্টা, দুই জাহাজে হা

3

তরুণদের দক্ষতা শুধু চাকরি পাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে ন

4

সার্ক সক্রিয় করতে বাংলাদেশ-নেপাল একমত, জোরদার হচ্ছে সংসদীয়

5

‘গুলশানের চামেলি’ হবেন কলকাতার ‘পাখি’

6

অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মেসি, প্রস্তুতি নিচ্ছে এএফএ

7

অনার্স পর্যন্ত নারীদের ফ্রিতে পড়াশোনার ব্যবস্থা করা হবে : প্

8

দীর্ঘ যুদ্ধে ক্লান্ত মার্কিন নৌসেনারা, সমুদ্রে ঝাঁপ দেওয়ার এ

9

বিমানবন্দরে ইসরায়েলিকে ‘শিশু হত্যাকারী’ বলে মারামারিতে জড়ালে

10

‘ষড়যন্ত্র তত্ত্ব’ উড়িয়ে দিলেন আর্জেন্টাইন তারকা, ভবিষ্যত নিয়

11

পানি বিক্রি করে বাবাকে হজে পাঠানোর স্বপ্ন দেখা সুজনের পাশে প

12

ঐতিহাসিক জয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

13

গভীর রাতে রাজপথে হুমা কুরেশি, সঙ্গে সাকিব সালিম

14

বিভ্রান্তি ও হঠকারিতার রাজনীতি ছেড়ে দেশ গঠনে এগিয়ে আসুন: প্র

15

জাপানের সঙ্গে ভারতের ঐতিহাসিক ক্রিকেট ম্যাচ

16

সংসদ ভবন চত্বরে আগুন, তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ

17

সেপ্টেম্বর থেকে আবারও বাড়তে পারে স্মার্টফোনের দাম

18

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে ‘ফ্রেশ স্টার্ট’ জরুরি: স্বর

19

খাদ্য কর্মসূচির সুফল উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে

20