Jahirul Hasan
প্রকাশ : Aug 16, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

হাসিনার সঙ্গে হিটলার মুসোলিনিরও তুলনা চলে না: রিজভী

ফ্যাসিস্ট হিসেবে শেখ হাসিনার সঙ্গে পৃথিবীর অন্য কোনো ফ্যাসিস্টের তুলনা চলে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

রবিবার দুপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেট হলে আয়োজিত ‘জুলাইয়ের চেতনা ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪ এর দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

রিজভী বলেন, মুসোলিনি, হিটলারের সঙ্গেও শেখ হাসিনার তুলনা চলে না। তাদের অন্তত নিজস্ব দেশপ্রেম ছিল। তারা জার্মানি বা ইতালিকে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিল। আর শেখ হাসিনা নিজের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিক্রি করে হলেও ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছেন।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা চেয়েছেন, জনগণের ওপর যত পারো অত্যাচার করো, যত পারো রক্ত ঝরাও, তাতে তার কিছু যায় আসে না। শুধু তাকে সমর্থন করতে হবে। সেই কারণেই তিনি কাউকে পাত্তা দিতে চাননি। তার একমাত্র লক্ষ্য ছিল ক্ষমতায় টিকে থাকা। এই টিকে থাকার জন্য তিনি এত রক্তের বন্যা বইয়েছেন। জনগণের মধ্যে এত বড় শক্তি থাকতে পারে, তা তিনি টের পাননি।

রিজভী আরও বলেন, ফ্যাসিবাদের প্রবল প্রতাপ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিরোধী দলের কোনো জায়গা ছিল না। কথা বলারও কোনো সুযোগ ছিল না। এ কারণে ভিন্নমত পোষণকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা আক্রান্ত হয়েছেন। আসিফ নজরুলের চেম্বারে গিয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ভাঙচুর করেছে। আরও অনেক শিক্ষক শুধু কথা বলার কারণে চাকরি হারিয়েছেন। এই পরিস্থিতিই ছিল দুঃশাসনের নমুনা।

তিনি বলেন, শিক্ষকরা চাকরি করে যে বেতন পান, তা দিয়েই সংসার চালান। অথচ কথা বলার কারণে শিক্ষকসহ অনেকেই চাকরি হারিয়েছেন। এভাবে ক্ষোভ জমতে জমতে তার বিস্ফোরণ ঘটেছে জুলাইয়ে। জুলাই হচ্ছে দীর্ঘদিনের সঞ্চিত ক্ষোভের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ।

জুলাইয়ের চেতনা প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, চেতনা হচ্ছে হৃদয়ের বন্ধন। আমাদের বহুদলীয় ও বহুমাত্রিক গণতন্ত্রকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে হবে, যাতে নতুন করে কোনো ফ্যাসিবাদের আগমন না ঘটে। এখনো অনেকে বলেন, তারাই ভালো ছিলেন। ফ্যাসিবাদের লোকজন এখনো বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাফেরা করছে। তাদের প্রচুর অর্থ রয়েছে এবং তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।

রিজভী বলেন, ইতিহাসের ছাত্র হিসেবে শুধু এটুকু বলতে চাই, এ ধরনের পতিত স্বৈরাচারের প্রত্যাবর্তন হয় না। এই চেতনাকে ধারণ করে সঠিকভাবে কাজ করতে হবে। আমরা যদি ভুল করি, একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকাঠামো নির্মাণ করতে না পারি, একটি গণতান্ত্রিক সমাজ গড়ে তুলতে না পারি, তাহলে ফ্যাসিবাদ আবার অন্য কোনো পথ বা চোরাগলি দিয়ে ফিরে আসার চেষ্টা করবে।

তিনি বলেন, আমাদের প্রতিটি কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে, তারা যা যা করেছে, আমরা তার বিপরীত করব। তারা দলীয়করণ করেছে, আওয়ামীকরণ করেছে, দেশের রাজকোষ শূন্য করেছে, ব্যাংক লুটপাট করেছে এবং দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করেছে। এসবের বিপরীত কাজ করতে পারলেই আমরা সফল হব। তাহলেই গণতন্ত্র আমাদের মাটির গভীরে প্রোথিত হবে এবং রাষ্ট্র একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

রিজভী আরও বলেন, গত ১৭ বছর দেশে প্রকৃত অর্থে লেখাপড়া হয়নি এবং অদ্ভুতভাবে মেধা ধ্বংসের চেষ্টা করা হয়েছে। সাংবাদিকরা এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের সময় বিভিন্ন অভিভাবকের মতামত জানতে চেয়েছেন। তারা বলেছেন, ফলাফল যথার্থ প্রতিফলন ঘটিয়েছে। সত্যকে প্রকাশ না করে নিজের কৃতিত্ব নেওয়ার জন্য কোনো বিষয়কে বাড়িয়ে দেখালে সর্বনাশ হয়ে যাবে। গত ১৭ বছর এমন কাজই করা হয়েছে।

তিনি বলেন, কোনো শিক্ষার্থী খাতায় কিছু না লিখে প্রশ্নপত্র লিখে এলেও তাকে পাস করানো হয়েছে, জিপিএ ৫ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু যার যতটুকু মেধা, তার ফলাফল ততটুকুই হওয়া উচিত। এটি নিশ্চিত করতে হবে। যুগে যুগে এটাই হয়ে এসেছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. নাজমুল হোসাইন প্রমুখ।

এ সময় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

হঠাৎ সৌদি সফরে এরদোয়ান, আলোচনায় যেসব ইস্যু

1

ভারত সফরের সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী নেবেন : পররাষ্ট্র প্রতিমন

2

হলিউডে পা রাখছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো!

3

যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার মহড়ায় ক্ষুব্ধ উত্তর কোরিয়া

4

কয়েক ডজন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার গ্রিসের, বেশিরভাগ বাংলাদে

5

‘যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুধু ইরান নয়, পুরো অঞ্চলের বিরুদ্ধে’

6

ঘরে ঘরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা কার্যক্রম চালু করা হবে : স্বাস্থ্য

7

হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে নিজেদের শক্ত অবস্থানেই অনড় ইরান

8

রাশিয়াকে ক্ষেপণাস্ত্র-সেনা দিয়ে ‌‘আখের গোছাচ্ছে’ উত্তর কোরিয়

9

ব্রাজিলের পরবর্তী বিশ্বকাপের জন্য ২০২৮ অলিম্পিক গুরুত্বপূর্ণ

10

ইসরায়েলকে স্বীকৃতি ছাড়া পারমাণবিক চুক্তি নয়, সৌদিকে ট্রাম্প

11

অবশেষে রিয়ালের সঙ্গে চুক্তি হচ্ছে দিওমান্দের

12

‘ভারতে শিশুদের চেয়ে গরু বেশি নিরাপদ’

13

‘বাংলাদেশ হারিয়ে যাচ্ছিল, এখন আবার ফিরে আসছে’

14

থাইল্যান্ডে স্কুলে গুলির ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই সরকারি অফ

15

বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে হারানোর দিন ঘিরে বড় সিদ্ধান্ত আর্জেন্ট

16

রুশ-ইউক্রেন পাল্টাপাল্টি মিসাইল হামলার মাঝেই মস্কোঘেঁষা সার্

17

আগস্ট-সেপ্টেম্বরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ২৩ দিন বন্ধ

18

বাড়ি থেকে পালিয়ে তেলাপোকাদের আন্দোলনে যোগ দিচ্ছেন শিক্ষার্থী

19

৪৬ বছর পর তেলুগু সিনেমায় অনিল কাপুর

20