Jahirul Hasan
প্রকাশ : Oct 2, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

জ্বালানি তেল রপ্তানি বন্ধ করল চীন, এশিয়ার বাজারে সংকটের শঙ্কা

চীনের বড় পরিশোধনাগারগুলো অক্টোবর মাসে হংকং ও ম্যাকাও ছাড়া অন্যান্য গন্তব্যে পরিশোধিত জ্বালানি রপ্তানি স্থগিত করেছে। অভ্যন্তরীণ মজুত সুরক্ষিত রাখার উদ্যোগ হিসেবে বেইজিংয়ের এই পদক্ষেপে ইতোমধ্যে চাপের মধ্যে থাকা এশিয়ার জ্বালানি বাজারে সরবরাহ সংকট আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি কোম্পানি পেট্রোচায়না অক্টোবরের জন্য নির্ধারিত কয়েকটি পেট্রোল ও জেট ফুয়েলের চালান বাতিল করেছে। আরেক বড় পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠান ঝেজিয়াং পেট্রোকেমিক্যাল করপোরেশনও ছুটির সপ্তাহে কোনো জ্বালানি রপ্তানির সূচি করেনি।

চীনের এই সিদ্ধান্তের সময়কাল এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। দেশটির সপ্তাহব্যাপী ছুটি ৭ অক্টোবর শেষ হওয়ার পর জ্বালানি রপ্তানির অনুমতি আবার দেওয়া হবে কি না, তা নির্ভর করতে পারে অভ্যন্তরীণ জ্বালানি মজুত ও পরিশোধন উৎপাদনের ওপর।

এদিকে এশিয়ার বাজারে ডিজেল, জেট ফুয়েল ও পেট্রোলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। চীনের রপ্তানি স্থগিতের খবরের পর এশিয়ার ডিজেল পরিশোধন মার্জিন এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। অক্টোবর-নভেম্বরের দামের ব্যবধানও দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা স্বল্পমেয়াদে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা নির্দেশ করছে।

চীনের জ্বালানি রপ্তানি স্থগিতের প্রভাব পড়তে পারে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, ভিয়েতনাম ও বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর বাজারে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে চীনা জ্বালানি রপ্তানির উল্লেখযোগ্য গন্তব্যগুলোর মধ্যে এসব দেশ ছিল।

বাংলাদেশের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। রয়টার্সকে এক জ্যেষ্ঠ জ্বালানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দেশের পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত চীনের ইউনিপেক ও পেট্রোচায়না থেকে আসতে পারে। তবে চীনা সরবরাহকারীদের কাছ থেকে বাংলাদেশ এখনো এ বিষয়ে কোনো যোগাযোগ পায়নি বলে ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন। প্রয়োজন হলে অন্য উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি জানান।

এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহে ব্যাঘাত এবং রাশিয়ার জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের মধ্যে বৈশ্বিক পরিশোধিত জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে চীনের রপ্তানি স্থগিতের বিষয়টি যুক্ত হওয়ায় এশিয়ার বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

তবে চীনের এই স্থগিতাদেশ কতদিন চলবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। বেইজিংয়ের পরবর্তী সিদ্ধান্ত মূলত দেশটির অভ্যন্তরীণ জ্বালানি মজুত ও পরিশোধন সক্ষমতার ওপর নির্ভর করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

যুদ্ধ নয়, শান্তি চায় ভারত; সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যেকোনো অভিযান

1

বেরোবিতে তরুণ কলাম লেখক ফোরামের নতুন কমিটি অনুমোদন

2

ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঘরবাড়ি-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিষ্কার রাখতে হবে:

3

পাটজাত পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণে দুই মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যো

4

রাষ্ট্রপতির স্ত্রীও পাবেন ফ্যামিলি কার্ড: স্থানীয় সরকার প্র

5

২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামিয়ে আনার

6

পরমাণু প্রকল্পের সরঞ্জাম দুর্গম পিকাক্স পর্বতে স্থানান্তর কর

7

ফিফার আসিয়ান কাপে যাচ্ছে বাংলাদেশ

8

অপতথ্য রোধে তরুণদের সচেতন হতে হবে : তথ্য প্রতিমন্ত্রী

9

‘নিয়ম সবার জন্য সমান’, রোনালদো ইস্যুতে পর্তুগাল কোচ

10

বেরোবিতে ডিনস অ্যাওয়ার্ড ও মেরিট অ্যাওয়ার্ড পুরস্কার প্রদান

11

বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

12

আন্দোলনকারীদের ওপর নজরদারি, ‘ফেসিয়াল রিকগনিশন’ ক্যামেরা বসিয়

13

ফ্রান্স তারকার জন্য বিশেষ উপহার পাঠালেন নেইমার

14

খেলোয়াড়দের পছন্দসই ম্যাচ বেছে নেওয়াকে পাগলামি বললেন টুখেল

15

ছয় মাসেই সরকারের ব্যর্থতা স্পষ্ট : জামায়াতে ইসলামী

16

ইনফান্তিনোর পদত্যাগের দাবিতে ফের সোচ্চার ডেনমার্ক

17

হাফপ্যান্ট পরে, পায়ের ওপর পা তুলে নেতানিয়াহুর সাথে বৈঠক করল

18

অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্প

19

চীনের সঙ্গে স্বাস্থ্য সহযোগিতা আরও জোরদারে গুরুত্ব দিলেন স্ব

20