আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দ শুধু ফুটবলপ্রেমীদের উল্লাসেই সীমাবদ্ধ ছিল না, তা আক্ষরিক অর্থেই কাঁপিয়ে দিয়েছে স্পেনের ভূগর্ভ। ফাইনালে স্পেনের এই ঐতিহাসিক বিজয়ের পর দেশজুড়ে ভক্তদের বাঁধভাঙা উল্লাসের কারণে সৃষ্ট কম্পন ধরা পড়েছে ভূকম্পন পরিমাপক যন্ত্র বা সিসমোমিটারে।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, রবিবারের ফাইনালে ফেরান তোরেসের করা গোলের পর যখন পুরো দেশ আনন্দে মেতে উঠেছিল, ঠিক তখনই ভূগর্ভে এই অস্বাভাবিক কম্পন বা তরঙ্গের সৃষ্টি হয়।
জিওসায়েন্সেস বার্সেলোনা সেন্টারের গবেষকরা ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ইনস্টিটিউট (আইজিএন) এবং কাতালান জিওলজিক্যাল অ্যান্ড কার্টোগ্রাফিক ইনস্টিটিউটের (আইসিজিসি) তথ্য বিশ্লেষণ করে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তাদের দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আলজেসিরাস, বার্সেলোনা, ক্যাডিজ এবং গ্রানাডার মতো প্রধান শহরগুলোতে খেলা চলাকালীন ও খেলা শেষে ভূগর্ভে বেশ কিছু অস্বাভাবিক সংকেত বা কম্পন রেকর্ড করা হয়েছে। পুরো ম্যাচজুড়ে সিসমোমিটারের সেন্সরগুলো মূলত তিনটি সুনির্দিষ্ট সময়ে তীব্র কম্পন শনাক্ত করে। প্রথমটি ছিল ফেরান তোরেসের গোলের পর, দ্বিতীয়টি ছিল অফসাইডের কারণে ভিএআর-এ বাতিল হওয়া একটি গোলের সময় এবং সবচেয়ে শক্তিশালী কম্পনটি রেকর্ড করা হয় রেফারির শেষ বাঁশি বাজার পর, যখন স্পেন তাদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা নিশ্চিত করে।
বিজ্ঞানীদের মতে, এই ভূকম্পন কোনো প্রাকৃতিক কারণে হয়নি, বরং এটি ছিল মানুষের কার্যক্রমের ফলে সৃষ্ট ‘ইনডিউসড সিসমিকিটি’ বা কৃত্রিম ভূমিকম্পের একটি অনন্য উদাহরণ। হাজার হাজার মানুষ যখন কোনো বড় ফ্যান জোনে বা স্টেডিয়ামে একসঙ্গে লাফিয়ে, চিৎকার করে আনন্দ প্রকাশ করে, তখন তাদের সম্মিলিত পায়ের ধাক্কায় মাটিতে এই ধরনের কম্পন তৈরি হয়।
এর আগে ২০২৪ সালের ইউরো কাপের ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে স্পেনের জয়ের পরও মাদ্রিদ এবং বার্সেলোনা শহরের সেন্সরগুলোতে একই ধরনের ভূগর্ভস্থ কম্পন ধরা পড়েছিল। তবে এবারের বিশ্বকাপ জয়ের উত্তেজনা আগের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে বলে মনে করছেন গবেষকরা।
সূত্র: এএফপি