বেশ কয়েক দিন ধরে ফিফা বিশ্বকাপের স্বত্ব বিক্রির ইস্যু নিয়ে সরগরম ফুটবল অঙ্গন। তীব্র সমালোচনার মুখে এই অবস্থান থেকে সরে আসে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। এরপরও তাকে ঘিরে চরম বিরোধীতা মুখে পড়তে হচ্ছে।
স্থানীয় সময়()১৪ আগস্ট ‘দ্য গার্ডিয়ান’ পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ প্রকল্প বাতিলের কয়েক ঘণ্টা আগেই ইউরোপের শীর্ষস্থানীয় ক্লাবগুলো ভবিষ্যতে ক্লাব বিশ্বকাপ বয়কট করার হুমকি দিয়েছিল।পরিকল্পনাটি দ্রুত বাতিল হয়ে যাওয়ার পরও ইনফান্তিনোর ফিফা-প্রধান হিসেবে টিকে থাকা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
৩১ জুলাই ফিফার সাধারণ সম্পাদক ম্যাথিয়াস গ্রাফস্ট্রমের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে ‘ইউরোপিয়ান ফুটবল ক্লাবস’ জানিয়েছে, ২০২৮ সালের নারী ক্লাব বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রির আগেই ফিফা ও ইএফসি-র যৌথ উদ্যোগ গঠিত হলে তবেই তারা ভবিষ্যতের টুর্নামেন্টগুলোতে সমর্থন দেবে। ইএফসি-র প্রধান নির্বাহী চার্লি মার্শাল সতর্ক করে বলেন, ফিফার এই পদক্ষেপ তাদের বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকের ‘গুরুতর লঙ্ঘন’ হিসেবে গণ্য হতে পারে। সংগঠনটি আন্তর্জাতিক ম্যাচের সময়সূচি এবং খেলোয়াড় ছাড়ার নিয়ম নিয়েও চ্যালেঞ্জ জানানোর ইঙ্গিত দেয়।
ব্যাপক সমালোচনার মুখে ১ আগস্ট ইনফান্তিনো ব্যক্তিগত অর্থায়নে পরিচালিত ‘ফুটবল ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ প্রকল্পটি বাতিল করেন। ইএফসি-র মূল উদ্বেগের বিষয় ছিল,এফএফই সম্প্রচার, বাণিজ্যিক এবং স্পনসরশিপ স্বত্ব নিয়ন্ত্রণ করবে। তারা দাবি জানায়, এই বিষয়গুলো যেন প্রস্তাবিত ফিফা-ইএফসি যৌথ উদ্যোগের আওতাভুক্ত থাকে; যদিও তারা উল্লেখ করে এফএফই প্রস্তাবের বিপরীতে গত এক বছরে এই যৌথ উদ্যোগের ক্ষেত্রে কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।
চিঠিকে বলা হয়, ২০২৮ সালের নারী ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের স্বত্ব সংক্রান্ত প্রক্রিয়ার অনেক আগেই যদি বাণিজ্যিক ও পরিচালনাসহ অন্যান্য বিষয়ের ওপর পূর্ণ কর্তৃত্বসম্পন্ন একটি কার্যকর ফিফা-ইএফসি যৌথ উদ্যোগ প্রতিষ্ঠিত না হয়, তবে ইএফসি কোনো ভবিষ্যৎ আসরকে সমর্থন করবে না। এছাড়াও সদস্য ক্লাবগুলো তাতে অংশ নেবে না। যার মধ্যে নারী ও পুরুষদের ২০২৮ ও ২০২৯ সালের ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপও অন্তর্ভুক্ত।
যদিও যৌথ উদ্যোগের অগ্রগতি পুনরায় শুরু করার জন্য ফিফা দ্রুত বৈঠকের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলে জানা গেছে, তবুও এই হুমকির বিষয়টি এখনো বহাল থাকতে পারে। এই বিরোধটি এফএফই প্রকল্প নিয়ে পরামর্শের অভাবজনিত কারণে ইউরোপীয় ক্লাবগুলোর মধ্যে বিদ্যমান ব্যাপক অসন্তোষকেই প্রতিফলিত করে। একটি বড় ক্লাব জানিয়েছে, তারা ইএফসি-র যেকোনো দৃঢ় সম্মিলিত পদক্ষেপ-কে সমর্থন করবে এবং আরও কঠোর ও স্বচ্ছ শাসন প্রক্রিয়া গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।
ইউরোপীয় ক্লাবগুলোর বয়কটের ফলে কার্যত ক্লাব বিশ্বকাপ আয়োজন করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। ভবিষ্যতের যৌথ উদ্যোগের একটি পরীক্ষামূলক কাঠামো ব্যবহার করে ইএফসি ও ফিফা যৌথভাবে গত বছরের ৩২ দলের বর্ধিত টুর্নামেন্টটি আয়োজন করেছিল।
ইএফসি সেইসব ক্লাবের জন্য ১৮৫ মিলিয়ন পাউন্ড (২৫০ মিলিয়ন ডলার) ‘সলিডারিটি পেমেন্ট’ বা সংহতি-মূলক অর্থ বিতরণে বিলম্বের সমালোচনা করেছে যারা টুর্নামেন্টে অংশ নেয়নি; পাশাপাশি তারা টুর্নামেন্টের আর্থিক বিষয়াবলিতে আরও স্বচ্ছতার দাবি জানিয়েছে।
সংস্থাটি বলেছে, আমরা অনুরোধ করছি যেন আপনারা ২০২৫ সালের ফিফা বিশ্বকাপ থেকে অর্জিত চূড়ান্ত উদ্বৃত্ত আয়ের হিসাব এবং পূর্ণাঙ্গ লাভ-ক্ষতির বিবরণী জরুরি ভিত্তিতে প্রকাশ করেন। এর ফলে এই প্রতিযোগিতায় আমাদের অংশীদারিত্বের প্রেক্ষিতে সমস্ত আয় ও ব্যয়ের যথাযথ মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে।