ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার এবং দুবারের বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য কাফু সুবিধাবঞ্চিত কিশোরীদের সাথে ফুটবল মাঠে সময় কাটিয়েছেন। তিনি তাদের খেলার বিষয়ে দিকনির্দেশনা এবং খেলাধুলা ও শিক্ষার মাধ্যমে নিজেদের স্বপ্ন পূরণে উদ্বুদ্ধ করেছেন।
২০০২ সালের বিশ্বকাপে ব্রাজিল দলের অধিনায়ক এবং ১৯৯৪ সালে শিরোপাজয়ী দলের সদস্য কাফু মুম্বাইভিত্তিক ‘ড্রিমিং ইন স্লামস ফাউন্ডেশন’ পরিদর্শন করেন এবং সেখানকার খুদে ফুটবলারদের সাথে সময় কাটান। এ সময় কিংবদন্তি এই ফুটবলার তাদের সাথে একটি প্রীতি ম্যাচে অংশ নেন ও মাঠ থেকেই নানা পরামর্শ দেন।
ফুটবলের অন্যতম জনপ্রিয় এই তারকার সাথে খেলার সময় কিশোরীদের বেশ উচ্ছ্বসিত ও আনন্দিত দেখাচ্ছিল। এই ফাউন্ডেশনটি শহরের সুবিধাবঞ্চিত এলাকার মেয়েদের নিয়ে কাজ করে। এছাড়াও ফুটবলকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে তাদের জীবনদক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির পাশাপাশি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা তৈরি করে দেয়। এই কর্মসূচিটি ৬ থেকে ১৬ বছর বয়সী মেয়েদের জন্য পরিচালিত হয়।
খেলাধুলার সাথে শিক্ষার সমন্বয়ের গুরুত্ব নিয়ে কথা বলার সময় কাফু বলেন, শিশুদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনে ফুটবল বড় ভূমিকা রাখতে পারে। যেসব শিশু পড়াশোনা ও ফুটবল উভয়ই চালিয়ে যাচ্ছে, তাদের প্রতি আমার পরামর্শ হলো তারা যেন এই পথেই এগিয়ে যায়। খেলাধুলা হলো বিশ্বের অন্যতম সেরা মাধ্যম যার সাহায্যে সমাজে সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করা বা মূলধারায় নিয়ে আসা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, খেলাধুলা আপনাকে ভবিষ্যৎ, শিক্ষা ও সামাজিকীকরণের সুযোগ করে দেয় এবং প্রচুর সম্মানও এনে দেয়। আমার মতে, স্কুল ও ফুটবলের এই সমন্বয়টি চমৎকার। এর ফলে শিশুরা সমাজের মূলধারায় মিশতে পারে এবং প্রশিক্ষণের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে ওঠে; ভবিষ্যতের জন্য এ ধরনের পদ্ধতিই শ্রেয়।
খুদে ফুটবলারদের সাথে দেখা করে কাফু বেশ আনন্দিত হন এবং তাদের আন্তরিকতায় মুগ্ধ হওয়ার কথা জানান। ব্রাজিলের কিংবদন্তি বলেন, অভিজ্ঞতাটি দারুণ ছিল। আমার মনে হয় বিশ্বজুড়ে মানুষ আমাকে ভালোবাসে। বিষয়টি অত্যন্ত তৃপ্তিদায়ক। আমি শিশুদের কাছ থেকে যে ভালোবাসা ও সম্মান পেয়েছি তা সত্যিই অসাধারণ, অথচ তারা আমাকে খেলতে দেখার সুযোগ খুব একটা পায়নি। আমার মনে হয় এটি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। ভারতে আসতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত।
কাফু আরও বলেন, তাদের এই ভালোবাসা অনুভব করে আমি অত্যন্ত খুশি। ফাউন্ডেশনটির কার্যক্রম দেখে আমি মুগ্ধ ও আনন্দিত। এখানে আসতে পেরে আমার খুব ভালো লাগছে। ব্রাজিলের সাবেক এই অধিনায়ক ভারতে ফুটবলের উন্নয়ন নিয়েও আলোচনা করেন। তিনি বলেন, বিনিয়োগ ও পেশাদার দক্ষতার বিকাশ অব্যাহত থাকলে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের ছাপ ফেলার মতো সক্ষমতা ভারতের রয়েছে।