কোটি টাকা যৌতুক চেয়ে স্ত্রীকে মারধরের মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আটক থাকা কন্টেন্ট ক্রিয়েটর আবদুল্লাহ আল মামুন ওরফে প্রিন্স মামুনকে এবার আত্মহত্যার চেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (২৯ জুলাই) তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী পলাশ চন্দ্র রায়।
গত ২৩ জুলাই গভীর রাতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসায় ফেসবুক লাইভে এসে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে শাড়ি পেঁচিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালানোর অভিযোগে তার স্ত্রী আতিকিয়া ফাইজাহ মোহনা বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
এর আগে কোটি টাকা যৌতুক চেয়ে মারধরের অভিযোগ এনে আরেকটি মামলা করেন মোহনা। ওই মামলায় ২৪ জুলাই জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরদিন অর্থাৎ ২৫ জুলাই আত্মহত্যার চেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার উপ-পরিদর্শক জিয়াউর রহমান। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন রাখেন বুধবার।
এদিন শুনানিকালে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার অভিযোগে মোহনা বলেন, গত ২৩ জুলাই রাত অনুমান ১২টার দিকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ই-ব্লকের ১১ নম্বর রোডের বাসায় অবস্থানকালে প্রিন্স মামুন ফেসবুক লাইভে আসেন। লাইভে এসে বেডরুমের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে তার ব্যবহৃত শাড়ি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করবেন এবং বাদী ও তার পরিবার দায়ী থাকবে মর্মে প্রচার করতে থাকেন। লাইভ দেখে বাদী দ্রুত আসামির বাসায় গিয়ে দেখতে পান, প্রিন্স মামুন সিলিং ফ্যানের সঙ্গে শাড়ি পেঁচিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করছেন এবং চিৎকার করে বলছেন— তোমরা রুম থেকে বের হয়ে যাও, আমি এখন সুইসাইড করবো। পরে মোহনার মা, ধর্মভাই আব্দুল মোমিন ও লিখন এবং আসামির পিতা-মাতার সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে পুলিশি সহায়তায় কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।