Jahirul Hasan
প্রকাশ : Jul 30, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

মানব পাচারকারীদের দমন করতে হবে : রুহুল কবির রিজভী


কোনো অপরাধী চক্রের কতটা প্রভাব রয়েছে, তা না দেখে মানব পাচারকারীদের দমন করাই মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। 

তিনি বলেন, প্রত্যেক মানুষের নাগরিক অধিকার হিসেবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দাসত্বের বন্ধনে গরিব ও নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষ নানাভাবে জড়িয়ে পড়বে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার ভবনের আর সি মজুমদার মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, মানব পাচার বন্ধে সরকারের শক্ত আইন প্রণয়ন ও আইনের শাসন নিশ্চিত করা জরুরি। সমাজে আইনের শাসন থাকলে অপরাধী চক্র গড়ে উঠত না। এই অপরাধী চক্র সমাজেরই অংশ এবং সমাজের মানুষেরাই এসব চক্র গড়ে তুলছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত থাকলে এসব চক্র দমন করা সম্ভব হতো।

তিনি বলেন, আইনের শাসন না থাকার কারণে তৃণমূলে নানা ধরনের অবিচার ও নিপীড়ন হয়। অর্ধশিক্ষিত বা নিরক্ষর মানুষ স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন না এবং নিজেদের দাবি-দাওয়া জানাতে পারেন না। এ কারণে তারা নিগৃহীত হন।

রিজভী বলেন, অনেক কিছু না বুঝে মানুষ ফড়িয়া ও প্রতারক চক্রের কাছে সামান্য জমি-জায়গা বিক্রি করে বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করে। তখন তারা মানব পাচারের শিকার হয়। প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়ে সর্বস্ব হারিয়ে দেশ ছাড়ার পর পথেই অথবা গন্তব্যে পৌঁছে আইনগত বাধ্যবাধকতার কারণে দেশে ফেরত পাঠানো হলে তাদের আর কোনো সহায়-সম্বল থাকে না।

তিনি বলেন, মানব পাচারের রাজনৈতিক ও সামাজিক কারণ রয়েছে। এর অন্যতম মূল কারণ রাষ্ট্রহীনতা। আরেকটি কারণ সীমিত সুযোগ। এর সঙ্গে বাস্তুচ্যুতিও মানব পাচারের অন্যতম কারণ।

রিজভী বলেন, বাল্যবিবাহের শিকার হয়ে সন্তান হওয়ার পর অনেকেই স্কুলে যেতে পারে না। নিজের উন্নয়ন, আত্মনির্ভরশীলতা ও স্বয়ংসম্পূর্ণতার বোধ তৈরি হয় না। শিক্ষার আলোয় আলোকিত হতে না পারায় এসব মানুষই মানব পাচারের বেশি শিকার হয়।

তিনি বলেন, সমাজের প্রতি রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা থাকতে হবে। বিশেষ করে তৃতীয় বিশ্বের বা উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকেই সবচেয়ে বেশি মানুষ মানব পাচারের শিকার হচ্ছে। মানবপাচার বন্ধে সরকারের শক্ত আইন ও আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, কোনো চক্রের কতটা প্রভাব রয়েছে, তা দেখার দরকার নেই। তাকে দমন করাই মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। প্রত্যেক মানুষের নাগরিক অধিকার হিসেবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দাসত্বের বন্ধনে গরিব ও নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষ নানাভাবে জড়িয়ে পড়বে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মোসাদের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি, ইরানে এক ব্যক্তির ফাঁসি কার্যকর

1

কাসেমিরোকে দলে নিয়ে বিপাকে মিয়ামি

2

এক সপ্তাহে ১২ হাজারের বেশি প্রবাসীকে ফেরত পাঠিয়েছে সৌদি

3

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে কানাডার হাইকমিশনার

4

ইনফান্তিনোর পদত্যাগের দাবিতে ফের সোচ্চার ডেনমার্ক

5

সৌদি-যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরাকে নিহত বেড়ে ২০

6

আন্দোলন থামতেই মোদিবিরোধী পোস্টের বিরুদ্ধে অভিযানে দিল্লি পু

7

ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকারকে নিয়ে ইউনাইটেড ও আর্সেনালের দ্বৈরথ

8

পার্লামেন্টে উত্তেজনা, প্রধানমন্ত্রীকে ডিম ছুড়ে মারলেন সংসদ

9

আসামে বন্যায় মৃত বেড়ে ৮২, পানিবন্দি প্রায় দুই লাখ

10

ডামুড্যায় বিস্ফোরণ মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্

11

বাংলাদেশ নিয়ে সতর্ক করল ইসরায়েল

12

নুসরাত ইমরোজ তিশার লাজুক হাসি নজর কাড়ল ভক্তদের

13

যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়ে বাধ্য করতে যেভাবে চাপ বাড়াচ্ছে ইরান

14

স্পেনের জয়ে উচ্ছ্বসিত শাকিব-অপু-বুবলী

15

ব্যবসায়িক মূল্যে নতুন উচ্চতায় আইপিএল

16

জ্বালানি স্বনির্ভরতার পথে মিসর, গ্যাস অনুসন্ধানে ২০ শতাংশ প্

17

স্পেনের বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার মিশনেও থাকবেন দে লা ফুয়েন্

18

বাংলাদেশ-ভারত যাত্রীবাহী ট্রেন না চললেও ৪৩টি পণ্যবাহী ট্রেন

19

তুরস্ক-পাকিস্তানের সঙ্গে কাগুজে চুক্তি সৌদিকে নিরাপত্তা দেব

20