Jahirul Hasan
প্রকাশ : Sep 19, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

উদ্বাস্তু শিবিরে কোরআন হিফজ করছে গাজার শিশুরা

গাজার দক্ষিণাঞ্চলের খান ইউনিসের আল-মাওয়াসি এলাকায় বাস্তুচ্যুত মানুষের তাঁবুতে বসবাস করেও কোরআন হিফজ করছে শিশু-কিশোররা। গাজার দক্ষিণাঞ্চলের খান ইউনিসের আল-মাওয়াসিতে শিশু, কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণীরা জড়ো হয়েছিল পবিত্র কোরআন হিফজ সম্পন্ন করার আনন্দ উদযাপন করতে।

সম্মাননা পাওয়া হাফেজদের মধ্যে ছিল এক কিশোরী। ১৩ বছর বয়সে সে কোরআন হিফজের যাত্রা শুরু করেছিল। কিন্তু যুদ্ধের কারণে রাফাহ থেকে খান ইউনিসে বাস্তুচ্যুত হতে হয় তাকে। এরপরও ধ্বংসযজ্ঞ ও কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে সে হিফজ অব্যাহত রাখে এবং শেষ পর্যন্ত পুরো কোরআন হিফজ সম্পন্ন করে।

হাফেজদের গল্পও তাদের বসবাসের জায়গার মতোই কঠিন। তাদের একজন জানান, যুদ্ধে তিনি আহত হয়েছেন। রাস্তায় হাঁটার সময় তার কাছাকাছি একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে তিনি আহত হয়ে ৪৫ দিন হাসপাতালে ছিলেন। এর মধ্যে সাত দিন কাটাতে হয়েছে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে। কিন্তু সেই আঘাতও তাকে কোরআন হিফজের পথ থেকে থামাতে পারেনি। বাস্তুচ্যুতি, পানি সরবরাহের স্থান ও স্কুলের সামনে দীর্ঘ অপেক্ষার মধ্যেও তিনি হিফজ চালিয়ে যান এবং শেষ পর্যন্ত তা সম্পন্ন করেন

আরেক নারী হাফেজের গল্প আরও বেদনাদায়ক। ২০২৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি তার বাড়িতে হামলা চালানো হয়। এতে তিনি বাবা, মা ও ভাই-বোনদের হারান। পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য হিসেবে বেঁচে যান তিনি। তার বাবা তার সঙ্গে কোরআন হিফজের যাত্রা শুরু করেছিলেন। মেয়েকে পবিত্র কোরআনের হাফেজ হিসেবে দেখতে চেয়েছিলেন তিনি।

পরিবার হারানোর পরও থেমে যাননি ওই তরুণী। তিনি জাইল আল-ওহি আল-কোরআনি নামের হিফজ ক্যাম্পে যোগ দেন এবং বাবার স্বপ্নকে মনে রেখে কোরআন মুখস্থ করতে থাকেন। তিনি বলেন, যে খতম তিনি সম্পন্ন করেছেন, তা বাবা, মা ও ভাই-বোনের রুহের উদ্দেশে উৎসর্গ করছেন। একই সঙ্গে হিফজের এই যাত্রায় পাশে থাকার জন্য চাচার পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে এক ছোট্ট শিশু দাঁড়িয়ে বলেছিল, আমি বড় হয়ে ওদের মতো হব।

তবে হিফজের আসরগুলোও যুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে দূরে ছিল না। এক নারী তত্ত্বাবধায়ক জানান, হিফজের আসরে যখন কোরআন তিলাওয়াতের শব্দ প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল, তখন ইসরায়েলি বাহিনীর ট্যাংক থেকে ওই স্থানে গুলি ছোড়া হয়।

একজন তত্ত্বাবধায়ক বলেন, গাজায় চারপাশে ধ্বংসস্তূপ থাকলেও তাঁবুর মধ্য থেকেই কোরআনের হাফেজ তৈরি হচ্ছে। তিনি বলেন, কঠিন পরিস্থিতিতে এসব শিক্ষার্থী অনেক পরিশ্রম করেছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এক নারী হাফেজের মা। তিনি জানান, তাদের পরিবারকে ১২ বারের বেশি বাস্তুচ্যুত হতে হয়েছে। হারাতে হয়েছে বাড়ি। আহত, ভয়, ক্ষুধা ও ধ্বংসের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। এতো কিছুর মধ্যেও তার মেয়ে হিফজ ক্যাম্পে যাওয়া অব্যাহত রেখেছে এবং শেষ পর্যন্ত পুরো কোরআন হিফজ করেছে।

মা বলেন, গাজার শিশুরা সময়ের আগেই বড় হয়ে গেছে। তবে এই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও তারা নিজেদের বিভিন্ন অর্জনে ব্যস্ত রেখেছে।

সূত্র : আল জাজিরা ডট নেট

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ডেঙ্গু থেকে উপ-নির্বাচন, স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিএনপির যেসব সি

1

যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হলেন মৌসুমী

2

বন্যার ১০ দিন পর সুড়ঙ্গ থেকে চীনা নাগরিককে জীবিত উদ্ধার

3

ডি-থ্রি টুর্নামেন্টে আরও ১ জন করে খেলোয়াড় নিতে পারবে দলগুলো

4

চীনে বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজে ভয়াবহ আগুন, নিহত ২০

5

নবনির্বাচিত মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও বেরোবির মাননীয় আচার্যকে উপ

6

৪৪ শিল্পকারখানা বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি

7

টেলিগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরভকে ওয়ান্টেড তালিকাভুক্ত কর

8

‘কাউকে নিয়ে মাথা না ঘামানো একটি ব্যক্তিগত পছন্দ’, তৃষার রহস্

9

ইরান সংকট সমাধানের যে পথ বাতলালেন ট্রাম্প

10

থাইল্যান্ডে শুটিং করতে গিয়ে আহত খায়রুল বাসার

11

স্টেশনের ডিসপ্লে বোর্ডে সংখ্যার জায়গা হচ্ছে না. যুক্তরাষ্ট্র

12

গির্জায় প্রাণঘাতী হামলার পর সিরিয়ায় বিমান অভিযান জর্ডানের, ৭

13

তরুণদের দক্ষতা শুধু চাকরি পাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে ন

14

সেপ্টেম্বরে আরও ৩ লাখ নতুন সেনা নিয়োগ করছেন পুতিন

15

ঘাঁটির ক্ষয়ক্ষতি লুকাতে সেনাদের মোবাইল কেড়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্

16

যারা লেখে ‘ওয়াইড বলে বোল্ড হয়’, তাদের কোচিংয়ে না আসাই ভালো:

17

গাজায় ইসরায়েলি হামলাকে ‌‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস’ বললেন আনোয়ার ইব

18

রুশ তেল নিয়ে ট্রাম্পের কৌশলী ইউটার্ন, নেপথ্যে কী?

19

ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত বাতিলের দা

20