বিশেষ প্রতিনিধিঃ
দেশের শীর্ষস্থানীয় বীমা প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসি ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি সিআরএবি কর্তৃক সর্বোচ্চ ‘ট্রিপল এ’ ক্রেডিট রেটিং অর্জন করেছে। এই রেটিং প্রতিষ্ঠানটির দাবি পরিশোধের সক্ষমতা, আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং পলিসিধারীদের প্রতি অঙ্গীকারের শতভাগ নিশ্চয়তার স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কোম্পানি সূত্রে জানা যায়, রেটিং অর্জনের পেছনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কাজ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে- রেগুলেটরি বডির প্রয়োজন অনুযায়ী মূলধনের পর্যাপ্ততা, সলভেন্সি মার্জিন এবং ঝুঁকি বহনের সক্ষমতা। পাশাপাশি দাবি বা ক্লেইম পরিশোধের সক্ষমতা, দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীল রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্টের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং ২০১৯ সালের বিনিয়োগ নীতিমালা অনুসরণ করে বিনিয়োগ পোর্টফোলিওতে ডাইভারসিফিকেশন।
এছাড়া দ্রুত নগদ অর্থের ব্যবস্থা করে দায় পরিশোধের তারল্য সক্ষমতা, পরিচালনা পর্ষদের দক্ষতা ও স্বচ্ছতা, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা মেনে চলা রেটিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। প্রিমিয়াম আয়, মোট দাবি পরিশোধ, মোট বিনিয়োগ এবং ব্যবসার বৈচিত্র্যে ইন্ডাস্ট্রিতে কোম্পানির অবস্থান এবং Laps Ratio-এর ধারাবাহিক উন্নতিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
রেটিং ধরে রাখার কৌশল: রেটিং অর্জনের চেয়ে তা ধরে রাখা আরও কঠিন। সামষ্টিক অর্থনৈতিক মন্দা, বাজারের পরিবর্তন এবং অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে রেটিং কমে যেতে পারে। তাই ন্যাশনাল লাইফ দীর্ঘমেয়াদে ‘ট্রিপল এ’ ধরে রাখতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা বজায় রাখছে। এজন্য পর্যাপ্ত মূলধন ও তারল্য সম্পদ বজায় রাখা, কঠোর আন্ডাররাইটিং ও ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে লস রেশিও সর্বনিম্ন ও লাভজনক সীমায় রাখা, বিনিয়োগ বৈচিত্র্যকরণ, সামষ্টিক অর্থনৈতিক চাপ মোকাবেলা এবং সুশাসন ও ধারাবাহিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
সিআরএবি যেসব সূচক বিবেচনা করেছে:
সিআরএবি বিনিয়োগ আয়, তারল্য ও মূলধনের সক্ষমতা, রেগুলেটরি রিকয়ারমেন্ট অনুযায়ী মূলধনের সক্ষমতা, প্রিমিয়াম আয় ও বিনিয়োগ আয় অর্জনের হার, দাবি পরিশোধের সক্ষমতা, অভিজ্ঞ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এবং পরিচালনা পর্ষদের দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বিবেচনা করে এই রেটিং প্রদান করেছে।
পলিসিধারী ও বিনিয়োগকারীদের জন্য বার্তা: ট্রিপল এ রেটিং কোনো প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতার সর্বোচ্চ স্বীকৃতি।
পলিসিধারীদের জন্য: দাবি পূরণের শতভাগ নিশ্চয়তা ও মানসিক প্রশান্তি।
বিনিয়োগকারীদের জন্য: মূলধন ও লভ্যাংশের
নিরাপত্তা এবং বিনিয়োগ থেকে ভালো আয়ের নিশ্চয়তা।এই রেটিং ব্যবসা সম্প্রসারণ, করপোরেট গ্রাহক আকর্ষণ এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের ক্ষেত্রেও কোম্পানিকে কৌশলগত সুবিধা দেবে।
বর্তমান আর্থিক অবস্থা: ২০২৫ সালের Actuarial Valuation Report অনুযায়ী কোম্পানির মোট দায় ৭ হাজার ১৭১ কোটি টাকা এবং মোট সম্পদের পরিমাণ ৭ হাজার ৭৮৩ কোটি টাকা। লাইফ ইন্স্যুরেন্সের জন্য ন্যূনতম ৩০ কোটি টাকা পেইডআপ ক্যাপিটালের বিপরীতে ন্যাশনাল লাইফের পরিশোধিত মূলধন ১০৮ কোটি টাকা। গ্রাহকদের দাবি যথাসময়ে পরিশোধের জন্য ২০১৯ সালের বিনিয়োগ নীতিমালা অনুযায়ী তারল্য ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে।