নিজস্ব প্রতিবেদক:
ডেসটিনি গ্রুপকে পরিকল্পিতভাবে ছিনতাই করা হয়েছে এবং বৈশাখী টেলিভিশনে ১১৭ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেও ভুয়া মামলায় হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন ডেসটিনি গ্রুপ ও বৈশাখী টেলিভিশনের চেয়ারম্যান ড. রফিকুল আমিন। শনিবার বিকেলে মহাখালীস্থ বৈশাখী টেলিভিশন ভবনের কনফারেন্স রুমে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. রফিকুল আমিন বলেন, "ডেসটিনির সকল সম্পদ, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আজ সরকারের কাছে জব্দ আছে। আমাদের ৪৩ লাখ বিনিয়োগকারী ১৭ বছর ধরে অপেক্ষা করছে। সরকার আন্তরিক হলে আগামী মাস থেকেই টাকা ফেরত দেওয়া সম্ভব।" তার দাবি, একটি প্রভাবশালী চক্র আদালতকে ভুল বুঝিয়ে প্রতিষ্ঠানটি দখল করেছে।
বৈশাখী টিভি কেনার ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রথমে ১৯ কোটি টাকায় ৫০ শতাংশ শেয়ার নিয়ে আলোচনা হয়। পরে আরটিভির মালিকের কাছ থেকে ৪ কোটি ও ৩ কোটি টাকায় দুটি পক্ষের শেয়ার কিনে নেন। মূল শেয়ারহোল্ডার সাঈদুল্লাহর কাছ থেকে লিখিত নিয়ে ৯৮.৭৭ শতাংশ শেয়ার অর্জন করেন।
এ সময় প্রতিষ্ঠানটির নামে প্রাইম ব্যাংকে ৩১ কোটি টাকা দায় ও শেয়ার সার্টিফিকেট জব্দ ছিল। আজম জে চৌধুরীর সাথে বৈঠক করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৩১ কোটি টাকা পরিশোধ করে সার্টিফিকেট ফেরত আনেন। ২০০৯ সালের ২৯ জুন শেয়ার হস্তান্তর সম্পন্ন হয়। সাঈদুল্লাহকে অতিরিক্ত ১২ কোটি টাকাসহ মোট ৬১ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়। পরবর্তীতে চ্যানেলটি এইচডি করতে ৪০ কোটি টাকার ক্যামেরা, ১৭ কোটি টাকা বেতন-ভাতা ও ৫ কোটি টাকার এমপিআরসহ মোট ১১৭ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেন।
তার বিরুদ্ধে হওয়া মামলাকে ভুয়া আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, অভিযোগে বলা হয়েছে ২০০৭ সালের ১৭ মার্চ তিনি বন্দুক ঠেকিয়ে শেয়ার লিখে নিয়েছেন, অথচ তিনি টিভি কিনেছেন ২০০৯ সালের ৩০ জুন। বনানী থানার তদন্ত কর্মকর্তা নিজেই মামলাটিকে ভুয়া বলেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, শুধু আসামি হওয়ার ভয়ে তার বন্ধুরাও পক্ষে কথা বলতে সাহস পায় না। শুধু তাকে নিমন্ত্রণ দেওয়ায় তার এক বন্ধু ২ বছর জেল খেটেছে।
স্বচ্ছতার প্রমাণ দিয়ে তিনি বলেন, ২০০৬ সালেই টাকা মেরে খাওয়া বন্ধে তিনি প্রতিষ্ঠানে ইআরপি সিস্টেম বসিয়েছিলেন। "চোর কখনো নিজের ঘরে সিসি ক্যামেরা লাগায় না।" পুলিশ কনস্টেবলের "ছয়শ টাকায় ফ্ল্যাট, এটা কি স্বপ্ন?" প্রশ্ন থেকেই স্বপ্ন শহর প্রোপার্টিজের আইডিয়া আসে।
বিনিয়োগকারীর হিসাব দিয়ে তিনি বলেন, ৪৩ লাখ ৫০ হাজার ইন্ডিপেন্ডেন্ট ও ১৭ লাখ ছোট বিনিয়োগকারীর প্রায় ১৭০০ কোটি টাকা এবং সমবায় সমিতির সাড়ে ৮ লাখ সদস্যের ১৩৮১ কোটি টাকায় ২৬টি কোম্পানি করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কাছে তার ৩ দফা দাবি: ১) হাইকোর্টে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি, ২) জব্দ থাকা ৩০০ কোটি টাকার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়া, ৩) নিরপেক্ষ ম্যানেজমেন্টের হাতে সম্পত্তি ফেরত। তিনি বলেন, অ্যাকাউন্ট খুলে দিলে আগামী মাস থেকেই টাকা ফেরত দিতে পারবেন এবং ২ কোটি বেকারের কর্মসংস্থানের দায়িত্ব নেবেন। তার প্রতিষ্ঠানের এক টাকাও ব্যাংক লোন নেই বলে জানান।