Jahirul Hasan
প্রকাশ : Jul 21, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

বেনজীরের ব্যাপারে ৪ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাইল দুবাই পুলিশ


দুবাইতে গ্রেপ্তার হওয়া বেনজীর আহমেদের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে অন্তত চারটি সুনির্দিষ্ট কোয়ারির জবাব চেয়েছে দুবাই পুলিশ। শিগগিরই এসব বিষয়ে জবাব দেবে দুদক।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সংস্থাটির উপপরিচালক (জনসংযোগ) মো আকতারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, দুবাই পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের পর বেনজীর প্রসঙ্গে বাংলাদেশ সরকার এবং দুদকের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তার পরিপ্রেক্ষিতে দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সমস্ত ডকুমেন্ট পাঠিয়েছিলেন। সম্প্রতি দুবাই পুলিশ থেকে কয়েকটা বিষয়ে ক্লিয়ারেন্সের জন্য একটি চিঠি পাঠিয়েছে। যা দুদকে এসেছে। দুদকের সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা খুব শিগগিরই তা পাঠিয়ে দেবে।

এর আগে গত ১৬ জুন বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ইংরজি ও আরবি ভাষায় দুই ধরনের প্রত্যর্পণ প্রস্তাবনা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠায় দুদক।

নিয়ম অনুযায়ী বিদেশে আসামি গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাকে সংশ্লিষ্ট দেশে ফেরাতে তদন্তকারী সংস্থা বা আদালত কর্তৃক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, এজাহার, অভিযোগপত্র এবং অপরাধের বিস্তারিত বিবরণ সংযুক্ত করে প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়। এরপর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রত্যর্পণ প্রস্তাব অনুমোদন করার পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তা ইন্টারপোলের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোতে পাঠানো হয়।

দুর্নীতি মামলার আসামি আওয়ামী লীগ সরকার আমলের বহুল আলোচিত ও সমালোচিত পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তার হওয়ার বিষয়টি জানায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) আবুধাবিস্থ ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি)।
গত ১২ জুন বাংলাদেশের এনসিবিকে চিঠি দেওয়া হয়। 

ওই চিঠিতে এনসিবি আবুধাবি জানায়, ইউএইর ‘ফৌজদারি বিষয়ে আন্তর্জাতিক বিচারিক সহযোগিতা সংক্রান্ত’ ফেডারেল আইন নং ৩৯/২০০৬-এর ১১ নম্বর ধারা অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তির প্রত্যর্পণ চেয়ে বাংলাদেশকে ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক লিখিত আবেদন পাঠাতে হবে। আইন অনুযায়ী প্রত্যর্পণ আবেদনের সঙ্গে আরবি ভাষায় অনূদিত, যথাযথ কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষর ও সিলযুক্ত নিম্নোক্ত তথ্য ও নথি সংযুক্ত করতে হবে।

যার মধ্যে রয়েছে- প্রত্যর্পণযোগ্য ব্যক্তির নাম, পরিচয়, ছবি (যদি থাকে), জাতীয়তা, ঠিকানা এবং পরিচয় শনাক্তে সহায়ক অন্যান্য তথ্য; অভিযুক্ত অপরাধের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আইন, নির্ধারিত শাস্তি এবং তামাদি-সংক্রান্ত বিধানের অনুলিপি; অনুরোধকারী দেশের বিচারিক কর্তৃপক্ষ কর্তৃক জারি করা আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা; মামলার বিস্তারিত বিবরণ, যেখানে অপরাধের প্রকৃতি, অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এবং অপরাধ সংঘটনের স্থান উল্লেখ থাকবে। তদন্তাধীন মামলার ক্ষেত্রে তদন্ত প্রতিবেদনের অনুলিপি সংযুক্ত করতে হবে; দণ্ডিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে আদালতের রায় বা দণ্ডাদেশের সত্যায়িত অনুলিপি, অপরাধের বিবরণ, আরোপিত শাস্তি এবং রায় কার্যকরযোগ্য হওয়ার প্রমাণপত্র ইত্যাদি।

২০২৫ সালের ১০ এপ্রিল বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ‘রেড নোটিশ’ জারি করে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল পুলিশ অর্গানাইজেশন (ইন্টারপোল)। দুর্নীতির দুই মামলার তদন্তকালে আদালতের নির্দেশনায় ইন্টারপোলে রেড নোটিশ ইস্যুর জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছিল ‍দুদক।

মামলার মধ্যে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ১২ কোটি টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ ও সম্পদের তথ্য গোপনের মামলা রয়েছে। ওই মামলায় আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। এই মামলার বাদী দুদক উপপরিচালক মোহাম্মদ জয়নাল আবেদিনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের গ্রেপ্তার পরওয়ানা জারি করে। এরই ধারাবাহিকতায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের মাধ্যমে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ ইস্যু করা হয়।

দুদক সূত্রে জানা যায়, দুদকের অনুসন্ধানকালে বেনজীরকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ দেওয়া হলে তিনি আইনজীবীর মাধ্যমে ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট দুদকে সম্পদ বিবরণী জমা দেন। সেখানে তিনি ৫ কোটি ৬৭ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৫ টাকার স্থাবর সম্পদ ও ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬৬ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য দেন। তবে তদন্তে দেখা যায়, বেনজীর আহমেদ তার ঘোষণাকৃত সম্পদের মধ্যে ২ কোটি ৬২ লাখ ৮৯ হাজার ৬০ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন এবং ৯ কোটি ৪৪ লাখ ৬৪ হাজার ৭৫১ হাজার টাকার সম্পদের বৈধ উৎস দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন। যা জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ বলে দুদকের কাছে প্রমাণিত হওয়া ২০০৪ সালের দুদক আইনের ২৬ (২) ও ২৭ (১) ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

এছাড়া ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর পরিচয় গোপন করে পাসপোর্ট নবায়ন ও জালিয়াতির অভিযোগে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা হয়। ওই মামলার বিষয়ে গ্রেপ্তার পরওয়ানা রয়েছে বলে জানা গেছে।

বেনজীর ছাড়া ওই মামলার বাকী আসামিরা হলেন— পাসপোর্টের সাবেক পরিচালক ফজলুল হক, মুন্সী মুয়ীদ ইকরাম, টেকনিক্যাল ম্যানেজার সাহেনা হক ও বিভাগীয় পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন।

ওই মামলার এজাহারে বলা হয়, বেনজীর আহমেদ ২০২১০ সালের ১১ অক্টোবর ডিআইজি হিসাবে কর্মরত থাকাবস্থায় হাতে লেখা পাসপোর্ট সমর্পণ করে বিভাগীয় অনাপত্তিপত্র ব্যতীত অফিসিয়াল মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) এর জন্য আবেদন করেন। আবেদন ফরমে “অফিসিয়াল” হিসেবে মার্ক করা হয়। তার আবেদনপত্রের প্রফেশন এর ক্রমিকে সরকারি চাকুরিজীবী হওয়া সত্ত্বেও জাল-জালিয়াতি, প্রতারণা, অপরাধমূলক অসদাচরণ ও মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে প্রাইভেট সার্ভিস উল্লেখ করা হয়। পরবর্তীতে র‌্যাবের মহাপরিচালক হিসেবে কর্মরত থাকাবস্থায়ও পাসপোর্টের আবেদনপত্রে জালিয়াতি-প্রতারনা, অপরাধমূলক অসদাচরণ ও মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে“ প্রাইভেট সার্ভিস” উল্লেখ করেন। অন্যান্য সময়েও বিভাগীয় অনাপত্তিপত্র ব্যতীত মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি)/ই-পাসপোর্ট (ইলেক্ট্রনিক পাসপোর্ট) এর জন্য আবেদন করেছেন। পাসপোর্ট অধিদপ্তরের আসামিরা বেনজীর আহমেদ এর দাপ্তরিক পরিচয় সম্পর্কে সম্পূর্ণভাবে জ্ঞাত থেকেও অন্যান্য আসামিরা বিভাগীয় অনাপত্তি সনদ সংগ্রহ না করে কিংবা যাচাই না করে স্বেচ্ছায় সজ্ঞানে তার নামে সাধারণ পাসপোর্ট কিংবা ই-পাসপোর্ট ইস্যুর চূড়ান্ত অনুমোদন প্রদান করেছেন।

বেনজীর পরিবারের বিরুদ্ধে ৭৪ কোটি টাকারও বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ৪টি মামলাসহ পাসপোর্ট জালিয়াতি ও মানিলন্ডারিং মিলিয়ে বেনজীরের বিরুদ্ধে মোট ৬টি মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে।

ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ ও মাদারীপুর, বান্দরবানসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৩৪৫ বিঘা জমিসহ অঢেল সম্পদের খোঁজ পায় দুদক। এমনকি দেশের গণ্ডি পেরিয়ে দুবাইতে থাকা দুটি ফ্ল্যাট ও ব্যাংক হিসাব জব্দ করে সংস্থাটি।

গত ১৪ জুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদ অধিবেশনের শুরুতে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বক্তব্যে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি অবগত করেন। ওই সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত পুলিশের সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের জন্য ইন্টারপোলের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ শুরু করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) ঢাকা কর্তৃক ইন্টারপোলে আবেদন করা হয়। গত ১১ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে এটি পাঠানো হয়েছিল এবং আমরা বিষয়টি মনিটর করেছি। ইন্টারপোল ২০২৫/২৩৯ নম্বর ফাইল ও ৫৭৪/২০২৫ কন্ট্রোল নম্বরের মাধ্যমে বেনজীর আহমেদের প্রতি রেড নোটিশ জারি করে। ওই রেড নোটিশের মাধ্যমে ইন্টারপোল কর্তৃক সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অনুরোধ করা হয়।

মন্ত্রী বলেন, গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডাইরেক্টরেট জেনারেল অব ফেডারেল ক্রিমিনাল পুলিশ, ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) আবুধাবি থেকে পাঠানো একটি ই-মেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে জানানো হয়েছে যে, দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে এবং তিনি বর্তমানে সেখানে

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নতুন হজ প্যাকেজ ঘোষণা, কমল বিমান ভাড়া

1

ঢাকায় বজ্রবৃষ্টির আভাস

2

হজে বাংলাদেশের জন্য ব্যাকআপ আবাসন ১ শতাংশ বহালের অনুরোধ ধর্ম

3

কানাডার ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপালেন ট্রাম্প

4

রদ্রি নয়, গোল্ডেন বল মেসিরই প্রাপ্য ছিল, দাবি ইব্রাহিমোভিচের

5

সমাজকল্যাণমন্ত্রীর সঙ্গে ডব্লিউএফপি'র কান্ট্রি ডিরেক্টরের সা

6

জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন ‘জেন্টলম্যান ফর এক্সেলেন্স’: প্রধান

7

ভারতে প্রথমবার অনুমোদন পেল ডেঙ্গু টিকা

8

ফাইনাল হারের পরও স্কালোনির পাশে আর্জেন্টিনার সাবেক তারকা

9

২০১১ থেকে ২০২৬, বার্সার ছোঁয়াতেই বিশ্বজয় স্পেনের

10

বিজিবিকে দেশপ্রেম ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বা

11

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী হিসেবে দায়িত্ব নিলেন রাশেদ খা

12

অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্প

13

শরীয়তপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি হারুন ও সাধারণ সম্পাদক শাও

14

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এই প্রজন্ম হারিয়ে ফেললে জাতি ক্ষতিগ্রস্ত

15

নিজের ‘আইডল’ নেইমারকে শিরোপা উৎসর্গ করলেন স্প্যানিশ ফুটবলার

16

সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুথিদের নৌ-অবরোধ ঘোষণা

17

বিশ্বকাপের আগে দেওয়া সেই প্রতিশ্রুতি কি রাখবেন ইয়ামাল?

18

দুই সপ্তাহে তিন মার্কিন সেনা নিহত, আহত ১০০

19

শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞ মামলার তদন্তে কোনো চাপ ছিল না : তদন্ত

20