ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের নতুন প্রধানের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। খলিল আল-হায়াকে সংগঠনটির নতুন নেতা ঘোষণা করা হয়েছে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে ইসরায়েলের হামলায় নিহত সাবেক প্রধান ইয়াহিয়া সিনওয়ারের উত্তরসূরি হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করবেন।
সোমবার (২০ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
হামাসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, খলিল আল-হায়া এর আগে সংগঠনটির ডেপুটি চেয়ারম্যান ছিলেন। এ ছাড়া তিনি পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট লিডারশিপ কাউন্সিলেরও সদস্য ছিলেন। দলটির সাবেক পলিটব্যুরো প্রধান খালেদ মেশালের সঙ্গে অনুষ্ঠিত অভ্যন্তরীণ ভোটের দ্বিতীয় দফায় তিনি জয়ী হয়েছেন।
২০২৪ সালে গাজায় হামাসের শীর্ষ নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ার ও সামরিক কমান্ডার মোহাম্মদ দেইফ নিহত হন। একই বছর তেহরান সফরকালে গুপ্তহত্যার শিকার হন ইসমাইল হানিয়া। এসব ঘটনার পর হামাসে খলিল আল-হায়ার গুরুত্ব ক্রমেই বেড়ে ওঠে।
শীর্ষ নেতারা নিহত হওয়ার পর হামাস কৌশল বদলে নেতৃত্ব পরিচালনার জন্য পাঁচ সদস্যের একটি লিডারশিপ কাউন্সিল গঠন করে। ওই কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন আল-হায়া। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে ২০২৪ সালের শেষের দিকে কাউন্সিলটি গঠন করা হয়।
১৯৬০ সালে গাজা উপত্যকায় জন্মগ্রহণকারী আল-হায়া ১৯৮৭ সালে হামাস প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সংগঠনটির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তিনি কূটনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। কাতার, মিসরসহ বিভিন্ন দেশের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পক্ষের সঙ্গে আলোচনায় তিনি অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব ছিলেন।
গাজার বাইরে থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করায় তিনি ইসরায়েলি অবরোধের মধ্যেও কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই প্রতিবেশী দেশগুলোতে ভ্রমণ ও সমন্বয় করতে সক্ষম হন। গাজায় একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ইসরায়েলের সঙ্গে মধ্যস্থতাকারী আলোচনায় হামাসের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বও দিয়েছেন আল-হায়া।
দলের সংকটকালে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করায় আল-হায়ার পরিবারকে চরম মূল্য দিতে হয়েছে। ২০১৪ সালের যুদ্ধে একটি ইসরায়েলি হামলায় তার বড় ছেলে ওসামার বাড়ি ধ্বংস হয়ে যায়। এ সময় আল-হায়ার ছেলে, তার পুত্রবধূ এবং তাদের তিন সন্তান নিহত হন।
এ ছাড়া গত বছরের সেপ্টেম্বরে কাতারের রাজধানী দোহার একটি আবাসিক কমপ্লেক্সে ইসরায়েলি হামলায় তার ছেলে হুমামসহ পাঁচজন নিহত হন।
সূত্র: আল জাজিরা