অধিকৃত পশ্চিম তীরে একটি বড় ধরনের সামরিক অভিযানের প্রস্তুতির জন্য সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার পশ্চিম তীরের হেবরন শহরে হামলা-গোলাগুলিতে দুই ইসরায়েলি সেনা ও দুই ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার ঘটনার পর এ নির্দেশ দিয়েছেন নেতানিয়াহু।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর এই কঠোর বার্তার পর অঞ্চলজুড়ে চরম আতঙ্ক ও নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) তথ্যমতে, শুক্রবার হেবরনের বাইরে একটি অস্থায়ী চেকপোস্টে অস্ত্রধারীরা সেনা সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে। ২০ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে চলা এই গোলাগুলিতে দু’জন সেনা সদস্য নিহত এবং তিনজন আহত হন। পরবর্তীতে সেনাদের গুলিতে দুই ফিলিস্তিনি হামলাকারীও নিহত হয়।
ঘটনার পরপরই জরুরি নিরাপত্তা বৈঠক ডেকে নেতানিয়াহু জানান, সামরিক বাহিনী হেবরনের সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালাবে, হামলাকারীদের ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেবে এবং বাসিন্দাদের স্থানচ্যুত করবে।
গত কয়েক দশকের মধ্যে পশ্চিম তীরে এটিই হতে যাচ্ছে সবচেয়ে বড় আকারের সামরিক অভিযান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুরো পশ্চিম তীর সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ (লকডাউন) করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসরায়েল।
এদিকে, ইসরায়েলের উগ্র ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ পশ্চিম তীরে গাজা ও লেবাননের স্টাইলে সর্বাত্মক সামরিক অভিযান চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে, নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানিয়েছে, তারা নিরাপত্তা বাহিনীকে অবিলম্বে হেবরন অবরুদ্ধ করতে এবং সমগ্র পশ্চিম তীর সম্পূর্ণ লকডাউনের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
পশ্চিম তীরে অবরুদ্ধকরণ বা লকডাউন এখন আরও সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত এক মাসের মধ্যে এটি ছিল চতুর্থবারের মতো ইসরায়েলের পক্ষ থেকে পুরো ভূখণ্ডজুড়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘটনা, যার মাধ্যমে ফিলিস্তিনি গ্রামগুলোকে প্রধান সড়কগুলোর সঙ্গে সংযোগকারী ফটক ও চেকপোস্টগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে এসব সড়ক ইসরায়েলি চালক ও বসতিস্থাপনকারীদের জন্য খোলা থাকবে, যারা এখনও ওই এলাকার মধ্যদিয়ে যাতায়াত করতে পারবেন।
জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ইসরায়েলি বাহিনীর ‘আয়রন ওয়াল’ (লোহার প্রাচীর) নামের একটি বৃহৎ সামরিক অভিযান শুরু হয়, যার ফলে বেশ কয়েকটি শরণার্থী শিবির থেকে হাজার হাজার মানুষকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করা হয়েছিল।
মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো জানিয়েছে, নেতানিয়াহু ও তার সরকার নির্বাচনের আগে নিজেদের নিরাপত্তার ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ন্যায্যতা প্রমাণ করতে ইসরায়েলি সেনাদের ওপর এই হামলাকে কাজে লাগাতে পারে।
আল-জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পিস নাউ-এর সাবেক পরিচালক ইয়ারিভ ওপেনহাইম বলেন, ‘পশ্চিম তীরের প্রতিটি দিনই ফিলিস্তিনিদের জন্য একটি নাটকীয় দিন। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ফিলিস্তিনি শহরগুলোতে প্রবেশ করছে, বসতিস্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালাচ্ছে এবং পরিস্থিতি অসম্ভব হয়ে উঠেছে।’
আগামী মঙ্গলবার ভোটাররা নির্বাচনে ভোট দিতে যাবেন, যা নির্ধারণ করতে সাহায্য করবে নেতানিয়াহু প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আরেকটি মেয়াদ পান কি না। গাজায় যুদ্ধ উসকে দেওয়া হামাস-নেতৃত্বাধীন হামলার তিন বছর পূর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই ভোট অনুষ্ঠিত হতে চলেছে।
সূত্র: গার্ডিয়ান।