ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে আহত মার্কিন সেনাসদস্যের সংখ্যা গোপনে বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধে আহত মার্কিন সামরিক সদস্যের মোট সংখ্যা এখন ৮৬১ জন। খবর দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের।
চলতি সপ্তাহে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের ওয়েব পোর্টালে আহত সেনাদের সংখ্যা হালনাগাদ করা হয়। এতে তালিকায় নতুন করে ২৯ জন নৌসেনা ও আটজন মেরিন সেনার নাম যুক্ত হয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন সংঘাত ও বিদেশে পরিচালিত অভিযানে নিহত ও আহত সদস্যদের তথ্য সংরক্ষণকারী ডিফেন্স ক্যাজুয়ালটি অ্যানালাইসিস সিস্টেম (ডিসিএএস) ডেটাবেজে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
ডেটাবেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর পর গত ১ মার্চ প্রথম তিন মার্কিন সেনা নিহত হন। একই দিনে আরও পাঁচজন আহত হন। এরপর থেকে ধাপে ধাপে আরও কয়েকশ সেনার নাম আহতদের তালিকায় যুক্ত হয়েছে।
তবে চলতি সপ্তাহে একসঙ্গে ৩৭ জনকে আহতদের তালিকায় যুক্ত করার বিষয়ে মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
এর আগে চলতি মাসে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট ছয়জন মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানায়, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি যুদ্ধ চলাকালে পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর মৃত্যুর সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে বেশি হতে পারে।
প্রতিরক্ষা দপ্তরের অভ্যন্তরীণ হতাহতের হিসাব সম্পর্কে অবগত ওই কর্মকর্তাদের বরাতে পত্রিকাটি জানায়, অন্তত ২২ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। অথচ দপ্তরের প্রকাশিত ডিসিএএস ডেটাবেজে নিহতের সংখ্যা ১৮ জন দেখানো হয়েছে।
ইরানের বিরুদ্ধে গত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দুই দফা সামরিক অভিযান হয়েছে। প্রথম দফায় ২০২৫ সালের জুনে ১২ দিনের সংঘাত হয়। ইরানি সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ওই হামলায় নারী ও শিশুসহ এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হন।
দ্বিতীয় দফার হামলা শুরু হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
প্রায় ৪০ দিন ধরে সংঘাত চলার পর এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। ইরানের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের হিসাবে, ওই হামলায় নারী ও শিশুসহ ৩ হাজার ৫০০-এর বেশি মানুষ নিহত হন।
দুই দফা হামলায় ইরানের সামরিক বাহিনীর বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কমান্ডার ও পারমাণবিক বিজ্ঞানী নিহত হন। হামলায় দেশটির বিভিন্ন এলাকার বেসামরিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
উভয় দফা সংঘাতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী পাল্টা হামলা চালায়। ইরানি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রতিশোধমূলক হামলার পাশাপাশি সামরিক চাপ অব্যাহত রাখার মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানোর পরিস্থিতি তৈরি হয়।
সূত্র : দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট