রাজনৈতিক, ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা থাকলেও সঠিক নীতি, পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির মাধ্যমে তা মোকাবিলা করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেন, আমরা প্রতিটি দেশের সঙ্গে সমতা, ন্যায্যতা এবং ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারি। একই সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, যোগাযোগ, কানেক্টিভিটি, প্রযুক্তি ও সামুদ্রিক নিরাপত্তায় পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
সোমবার ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এ দেওয়া বক্তব্যে মাহদী আমিন আরও বলেন, অনিশ্চয়তা অনিবার্য। তবে সঠিক মূল্যবোধ, নীতি, পরিকল্পনা ও কর্মসূচির মাধ্যমে যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব। রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ১৩ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে। তাদের জন্য আন্তর্জাতিক অর্থায়ন অব্যাহত রাখার পাশাপাশি নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক অংশীজনদের সঙ্গে কাজ করতে হবে।
প্রযুক্তিগত পরিবর্তন প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স ও চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের কারণে কিছু কর্মসংস্থান বিলুপ্ত হতে পারে। তবে প্রশিক্ষণ, দক্ষতা বৃদ্ধি ও শিক্ষাক্রম আধুনিকায়নের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব। জলবায়ু ও পরিবেশগত ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানো, ২০ হাজার খাল ও নদী খনন এবং পানি সংরক্ষণে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ ও তিস্তা ব্যারেজের মাস্টার প্ল্যানের উদ্যোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, অর্থনৈতিক সংকটের আশঙ্কা থাকলেও সঠিক নীতিমালার মাধ্যমে জনগণের জীবনমান পরিবর্তন করা সম্ভব। এ লক্ষ্যে ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার্স কার্ড ও হেলথ কার্ড চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
মাহদী আমিন বলেন, আঞ্চলিক সহযোগিতা ও পারস্পরিক সুবিধার ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারলে বাংলাদেশসহ এ অঞ্চলের দেশগুলো সম্মিলিতভাবে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে পারবে। সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনে শতাধিক দেশের প্রায় ২০০ জন বক্তা, ৩০০ জন প্রতিনিধি এবং এক হাজার মানুষ অংশ নেন।