বঙ্গোপসাগরে বিরূপ আবহাওয়ার কারণে কক্সবাজারের মহেশখালী এলাকায় আমদানিকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) খালাস কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে পুনরায় গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে জাতীয় গ্রিডে মোট গ্যাস সরবরাহ প্রায় ২৯০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) কমে গেছে।
বার্তায় বলা হয়, কক্সবাজারের মহেশখালী এলাকায় দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে আমদানিকৃত এলএনজি কার্গো থেকে ভাসমান টার্মিনালে এলএনজি স্থানান্তর (ট্রান্সফার) প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে এলএনজি এবং সামগ্রিক গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কিছুটা কমে গেছে।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, গত ২১ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টায় জাতীয় গ্রিডে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল ২ হাজার ৫৯১ এমএমসিএফডি। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে সরবরাহ ছিল ১ হাজার ৫৮৮ এমএমসিএফডি এবং আরএলএনজি ছিল ১ হাজার ৩ এমএমসিএফডি।
অন্যদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার তথ্য অনুযায়ী, মোট গ্যাস সরবরাহ কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩০১ এমএমসিএফডি। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন সামান্য বেড়ে ১ হাজার ৬১৫ এমএমসিএফডি হলেও এলএনজি সরবরাহ নেমে এসেছে ৬৮৬ এমএমসিএফডিতে।
হিসাব অনুযায়ী, তিন দিনের ব্যবধানে মোট গ্যাস সরবরাহ কমেছে ২৯০ এমএমসিএফডি। একই সময়ে আরএলএনজি সরবরাহ কমেছে ৩১৭ এমএমসিএফডি, যা প্রায় ৩২ শতাংশ হ্রাসের সমান। তবে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন ২৭ এমএমসিএফডি বেড়েছে, ফলে সামগ্রিক ঘাটতির একটি অংশ কিছুটা সমন্বয় হয়েছে।
বার্তায় বলা হয়, আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি হলে এলএনজি খালাস কার্যক্রম পুনরায় স্বাভাবিক হবে এবং জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহও ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করবে।