Jahirul Hasan
প্রকাশ : Jul 22, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার নিষিদ্ধে ফ্রান্সে আইন পাস


অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার বন্ধ করতে নতুন আইন অনুমোদন করেছে ফ্রান্সের পার্লামেন্ট। গত ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়া থেকে ফেসবুক, স্ন্যাপচ্যাট, টিকটক ও ইউটিউবসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য বিশ্বের প্রথম নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর, ফ্রান্স ইউরোপের প্রথম দেশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়াকে অনুসরণ করল।

আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই আইনের আওতায় ১৫ বছরের কম বয়সী কোনো শিশু নতুন করে কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে না। শুধু তাই নয়, বর্তমানে এই বয়সসীমার নিচে থাকা ব্যবহারকারীদের বিদ্যমান অ্যাকাউন্টও বন্ধ করতে হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে অতিরিক্ত চার মাস সময় দেওয়া হবে।

ফ্রান্সের আইনপ্রণেতারা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শিশুদের মনোযোগ, মানসিক বিকাশ এবং সামাজিক আচরণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে কম বয়সীদের মধ্যে আসক্তি, উদ্বেগ ও একাকিত্বের প্রবণতা বাড়ছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই সিনেট ও ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি যৌথভাবে আইনটি অনুমোদন করেছে।

নতুন বিধানে ব্যবহারকারীদের বয়স যাচাই বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ফ্রান্সের গোপনীয়তা নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদিত প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে, যাতে কোনোভাবেই ১৫ বছরের কম বয়সীরা ভুল তথ্য দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলতে না পারে।

ফ্রান্সের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক জুনিয়রমন্ত্রী অ্যান লে হেনাফ বলেছেন, ডিজিটাল প্রাপ্তবয়স্কতার ধারণা প্রতিষ্ঠায় ফ্রান্স ইউরোপে নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে। তার ভাষায়, শিশুদের সুরক্ষায় ডিজিটাল জগতে বয়সভিত্তিক সীমারেখা টানা এখন সময়ের দাবি।

এর আগে, বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়া ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা চালু করেছিল। এবার সেই পথ অনুসরণ করল ফ্রান্স।

প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ দীর্ঘদিন ধরেই শিশু-কিশোরদের অনিয়ন্ত্রিত মোবাইল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সমালোচনা করে আসছেন। গত এপ্রিল এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “অনেক শিশু এমন এক ডিজিটাল পরিবেশে বড় হচ্ছে, যেখানে তাদের মনোযোগ প্রতিনিয়ত কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। তাদের বই পড়া, শেখা এবং সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।”

তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। তাদের দাবি, বয়সসীমা নির্ধারণ, অভিভাবকীয় নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার মতো নানা উদ্যোগ আগে থেকেই চালু রয়েছে। তারপরও নতুন আইন কার্যকর হলে তা মেনে চলার আশ্বাস দিয়েছে তারা।

এদিকে, শিশু ও কিশোরদের জন্য নিরাপদ অনলাইন পরিবেশ নিশ্চিত করতে নতুন নীতিমালা তৈরির কাজ করছে ইউরোপীয় কমিশন। ফ্রান্সের এই আইন ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিদ্যমান আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে।

সূত্র : রয়টার্স

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ডারউইনে বাংলাদেশের সাফল্যে উচ্ছ্বসিত ওয়াহ, তবে টেস্ট ক্রিকেট

1

মেসির শোকে সুয়ারেজের হৃদয়ছোঁয়া সমবেদনা

2

সৌদি আরবের ৮ ট্যাংকারে হামলার দাবি হুথিদের

3

ভারতের সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তির জন্য নিউজিল্যান্ডে আইন পাস

4

রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের অন্যতম বড় সংকট : প্রধানমন্ত্রী

5

জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে ফিফা প্রধান ইনফান্তিনোকে চান ট্রাম্

6

সবকিছুর সমালোচনা না করে সরকারকে সহযোগিতা করা উচিত

7

৫০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় পুড়ছে সাহারা, মারা যাচ্ছে উট

8

বিশ্বকাপ শেষে জুভেন্টাসের নজরে দিবু মার্তিনেজ

9

‘চাইলেই সবাইকে বাদ দিতে পারেন না’, আনচেলত্তিকে একহাত নিলেন স

10

২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত কোচ থাকতে ‘চুক্তিপত্রে’ স্কালোনির স্বা

11

থাইল্যান্ডে শুটিং করতে গিয়ে আহত খায়রুল বাসার

12

হাফপ্যান্ট পরে, পায়ের ওপর পা তুলে নেতানিয়াহুর সাথে বৈঠক করল

13

‘ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে সমন্বয় হলে গবেষণায় ব্যাপক পরিবর্তন আসবে’

14

ইনফান্তিনোর সামনে রোনালদোর এক রূপ, পেছনে আরেক রূপ!

15

শক্ত হয়ে ফিরবে অজিরা, দাবি সিমন্সের

16

প্রাণনাশের হুমকির মুখে নেতানিয়াহুর বড় ছেলে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে

17

মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোয় রিয়াল মাদ্রিদ তারকাকে জরিমানা

18

অনার্স পর্যন্ত নারীদের ফ্রিতে পড়াশোনার ব্যবস্থা করা হবে : প্

19

হরমুজে মার্কিন সাবমার্সিবল আটক করার দাবি ইরানের

20