কার্লো আনচেলত্তির অধীনে বড় স্বপ্ন নিয়ে গেলেও সর্বশেষ বিশ্বকাপে ভাগ্য বদলায়নি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের। শেষ ষোলোয় নরওয়ের বিপক্ষে তাদের বিদায়ী ম্যাচে মিডফিল্ডার ব্রুনো গুইমারেস পেনাল্টি মিস করেন। তার হৃদয়ের সেই ক্ষত এখনও শুকায়নি। সম্ভবত সকল ব্রাজিল-ভক্তেরও একই দশা! হৃদয়ভঙ্গের সেই মুহূর্ত নিয়ে এতদিন পর মুখ খুললেন আর্সেনালের এই তারকা।
বিশ্বকাপে আর্লিং হালান্ডদের বিপক্ষে ম্যাচের ১৩ মিনিটে পেনাল্টি পেয়েছিল ব্রাজিল। তখন ম্যাচের স্কোর ছিল ০-০। ম্যাথিউস কুনহা পেনাল্টি বক্সের ভেতর ফাউলের শিকার হলে স্পট কিকের দায়িত্ব নেন ব্রুনো। কিন্তু তার নেওয়া দুর্বল শট গোলরক্ষক ওরহান নিলান্ড ঠেকিয়ে দেন। পেনাল্টি মিসের সেই স্মৃতি এখনও তাড়া করে বেড়াচ্ছে বলে অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনে দাঁড়িয়ে জানালেন ব্রুনো গুইমারেস।
ফিফার সেপ্টেম্বর-অক্টোবর উইন্ডোতে তিনটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল। এর মধ্যে দুটি অস্ট্রেলিয়া এবং আরেকটি ভারতের মাটিতে। সকারুজদের বিপক্ষে ২৫ ও ২৯ সেপ্টেম্বর দুটি ম্যাচের আগে ব্রিসবেনে অনুশীলন করছে আনচেলত্তির দল। সেখানেই গুইমারেস বিশ্বকাপের তিক্ত স্মৃতির কথা স্মরণ করে বলেন, ‘জয় থেকেও অনেক সময় শেখা যায়, কিন্তু সাধারণত আমরা পরাজয় থেকে এবং যে বিষয়গুলো কাজে আসেনি সেগুলো থেকে বেশি শিখি। আশা করি ওই ঘটনা থেকে শিখে প্রতিদিনের লড়াই চালিয়ে যেতে পারব, নিজের স্বপ্নের পেছনে ছুটতে পারব।’
পেনাল্টি মিসের সেই ক্ষত এখনও সারেনি জানিয়ে ২৮ বছর বয়সী সেলেসাও তারকা বলেন, ‘এটা সত্যিই খুব খারাপ অনুভূতি। অবশ্যই পেনাল্টি মিস করা ফুটবলেরই অংশ। কিন্তু এমন কিছু ঘটার জন্য আপনি কখনোই পুরোপুরি প্রস্তুত থাকেন না। এটা অবশ্যই একটি ক্ষত, একটি দাগ। ঘটনাটি খুব সাম্প্রতিক, এখনও আমাকে কষ্ট দেয়, এখনও অনেক ব্যথা অনুভব করি। কিন্তু এটা ফুটবলেরই অংশ। আশা করি নিজের ভুল থেকে শিখতে পারব– এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
ওই ম্যাচের পর ব্রুনোর পেনাল্টি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন ওঠে, কারণ মাঠে ছিলেন আক্রমণভাগের অন্যতম প্রধান ভিনিসিয়ুস জুনিয়রও। এ নিয়ে তখনই ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন ব্রাজিল কোচ। নতুন করে গুইমারেস জানালেন, ‘প্রতিটি ম্যাচের আগে আমাদের প্রি-ম্যাচ আলোচনা হয় এবং কোচ সিদ্ধান্ত নেন কে পেনাল্টি নেবে। আমাকে পেনাল্টি নেওয়ার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছিল। ঠিক তখন কিছু খেলোয়াড় বলটি নিতে চেয়েছিল। একজন খেলোয়াড় বল নেয়, পরে আরেকজনকে দেয়, এমনকি গোলরক্ষককে বিভ্রান্ত করার চেষ্টাও করা হয়। সেদিনও সেটাই হয়েছিল, এতে অস্বাভাবিক কিছু ছিল না। ভিনি নির্ধারিত পেনাল্টি টেকার ছিল না। পেনাল্টিটি আমারই নেওয়ার কথা ছিল।’
ঘটনার পর ভিনিসিয়ুসকে প্রশ্নের মুখে টেনে আনা নিয়েও দুঃখ প্রকাশ করলেন তার এই জাতীয় দল সতীর্থ, ‘ভিনিকে দেওয়া পেনাল্টির বিষয়টি নিয়ে আমি দুঃখিত। কিন্তু ওই মুহূর্তে যে পেনাল্টি দেওয়া হয়েছিল, সেটি আমার জন্যই ছিল। আপনাদের জন্য এটাই আমার উত্তর। যা ঘটেছে তা নিয়ে আমি দুঃখিত; শুধু ভিনির জন্য নয় অন্য খেলোয়াড়দের জন্যও, আমাদের সমর্থকদের জন্যও, যারা আমাদের জন্য গলা ফাটাচ্ছিলেন সবার জন্য।’
পেনাল্টিতে নিজের ভুল এখনও অনুভব করলেও ভবিষ্যতে আবার একই পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নিতে পিছপা হবেন না গুইমারেস, ‘যদি আমাকে আবারও একটি পেনাল্টি দেওয়া হয় এবং সেটি নেওয়ার দায়িত্ব আমার ওপর থাকে, আমি পিছিয়ে যাব না। প্রয়োজন হলে হাজারবার আমি পেনাল্টি নেব। কারণ এই জার্সির প্রতিনিধিত্ব করা আমার কাছে সবকিছু। এটি সব সময় আমার জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন ছিল।’
সেই স্মৃতি বেদনাদায়ক হলেও জাতীয় দলের নতুন যাত্রা সেটিকে শিক্ষা হিসেবে নিতে চান তিনি, ‘অবশ্যই এটি আনন্দদায়ক কোনো মুহূর্ত ছিল না। যেমনটা বলেছি, আমি অনেক কষ্ট পেয়েছি। কিন্তু এখন সামনে এগিয়ে যাওয়ার এবং বিষয়টি নিয়ে ভাবার সময়। অতীত পরিবর্তন করা যায় না, কিন্তু ভবিষ্যৎ পরিবর্তন করা যায়।’