বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা বিভিন্ন টুর্নামেন্টে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের অংশীদারিত্ব বিক্রির পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করলে বিশ্বকাপসহ ফিফার সব প্রতিযোগিতা বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা।
বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত জরুরি বৈঠকে উয়েফাভুক্ত ৫৫টি সদস্য দেশের ফুটবল সংস্থা সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেয়।
গত মঙ্গলবার বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা তাদের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বা অংশীদারিত্ব বিক্রির একটি প্রস্তাব ঘোষণা করে। এর পরপরই ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা এ পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করে দুটি কঠোর বিবৃতি প্রকাশ করে।
বৃহস্পতিবারের জরুরি বৈঠকে সদস্য দেশগুলো সেই বিরোধিতার অবস্থান আরও জোরালোভাবে পুনর্ব্যক্ত করেছে।
অনুমোদন পেলে কার্যকর হবে বয়কট
উয়েফার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর প্রস্তাব সদস্য দেশগুলোর ভোটে অনুমোদিত হলে উয়েফার ৫৫ সদস্য সংস্থা ফিফার সব প্রতিযোগিতা বর্জন করবে।
এই বয়কট কার্যকর হলে শুধু পুরুষদের বিশ্বকাপ নয়, নারীদের বিশ্বকাপ এবং ক্লাব বিশ্বকাপও এর আওতায় পড়বে। অর্থাৎ ফিফার অধীনে অনুষ্ঠিত সব আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ইউরোপীয় দলগুলোর অংশগ্রহণ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
অক্টোবরেই হতে পারে প্রথম পরীক্ষা
এই অবস্থানের প্রথম বাস্তব পরীক্ষা হতে পারে আগামী অক্টোবরে। ওই সময় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে নারী বিশ্বকাপের প্লে-অফ পর্ব। যদি তার আগেই ফিফার বিতর্কিত প্রস্তাব অনুমোদিত হয়, তবে উয়েফা তাদের ঘোষিত অবস্থান অনুযায়ী বয়কট কার্যকর করতে পারে।
কেন আপত্তি উয়েফার?
ফিফার পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিশ্বকাপসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক অধিকার ও আয় ব্যবস্থাপনায় বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের অংশীদারিত্ব দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। যদিও এ পরিকল্পনার বিস্তারিত কাঠামো এখনও প্রকাশ করা হয়নি, তবুও উয়েফার আশঙ্কা, এতে ফুটবলের ঐতিহ্য, স্বচ্ছতা এবং প্রতিযোগিতার ওপর সদস্য দেশগুলোর নিয়ন্ত্রণ ক্ষুণ্ন হতে পারে।
ইউরোপীয় ফুটবল মহলে এ পরিকল্পনাকে ফুটবলের অতিরিক্ত বাণিজ্যিকীকরণের পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ কারণে শুরু থেকেই এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে উয়েফা।
বিশ্ব ফুটবলে নতুন সংকটের আশঙ্কা
বিশ্লেষকদের মতে, ফিফা যদি প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের পথে এগোয় এবং উয়েফা ঘোষিত সিদ্ধান্তে অনড় থাকে, তাহলে বিশ্ব ফুটবল বড় ধরনের প্রশাসনিক ও ক্রীড়া সংকটে পড়তে পারে।
বিশ্বকাপে ইউরোপের শক্তিশালী দলগুলো যেমন- ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, স্পেন, জার্মানি, ইতালি, পর্তুগাল ও নেদারল্যান্ডস- অংশগ্রহণ না করলে টুর্নামেন্টের প্রতিযোগিতামূলক মান, দর্শক আগ্রহ এবং বাণিজ্যিক মূল্য ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এখন নজর থাকবে ফিফার সদস্য দেশগুলোর ভোটাভুটির দিকে। সেই ভোটেই নির্ধারিত হবে, বিশ্ব ফুটবল প্রশাসনের দুই প্রভাবশালী সংস্থা ফিফা ও উয়েফার এই বিরোধ সমঝোতার মাধ্যমে মিটবে, নাকি তা বিশ্বকাপ বয়কটের মতো নজিরবিহীন পরিস্থিতির দিকে গড়াবে।
সূত্র: বিবিসি