৩৮ জন সেনা নিহত হওয়া এবং আরও ২৯ জন সেনা আহত হওয়ার পর ইরানের সমর্থনপুষ্ট হুথি সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে ইয়েমেনের সৌদি সমর্থনপুষ্ট সরকার। আজ শনিবার থেকে এ অভিযান শুরু হয়েছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল মাজিদ আল নুজাইলি।
ঘোষণায় কর্নেল নুজাইলি বলেছেন, উত্তরাঞ্চলসহ ইয়েমেনজুড়ে হুথিদের ঘাঁটি, সামরিক স্থাপনা ও রসদ সরবরাহ লাইন লক্ষ্য করে সেনা অভিযান পরিচলনা করা হচ্ছে।
৬ আগস্ট বৃহস্পতিবার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে ইয়েমেনের সেনাবাহিনীর ৩৮ জন সদস্যকে হত্যা ও ২৯ জন সদস্যকে আহত করে হুথি যোদ্ধারা। গোষ্ঠীটির সামরিক শাখার মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি পরে এক বিবৃতিতে বলেন, ইয়েমেনের মারিব ও হাদরামাওথ প্রদেশে হুথি গোষ্ঠীর দখলকৃত এলাকায় ইয়েমেনের সেনাবাহিনী সামরিক স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা করছিল, তার জবাব হিসেবে এই হামলা করা হয়েছে।
হুথি গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকারের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা অভিযান শুরু করল ইয়েমেনের সৌদি সমর্থিত সামরিক বাহিনী। শনিবারের ঘোষণায় বিদেশি এজেন্ডার অংশ হিসেবে ইয়েমেনকে আঞ্চলিক সংঘাতে টেনে আনার জন্য হুথিদের অভিযুক্ত করে নুযাইলি দাবি করেছেন, এই গোষ্ঠীটি ইয়েমেনের অর্থনীতিকে ধ্বংস করেছে এবং সাম্প্রদায়িকতা ছড়িয়েছে।
নুযাইলি জোর দিয়ে বলেছেন, সামরিক বাহিনীর এ অভিজানের জেরে যদি উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়, সেক্ষেত্রে হুথি গোষ্ঠী এবং তাদের পৃষ্ঠপোষকরা সম্পূর্ণভাবে দায়ী থাকবে। অভিযানকে ঘিরে যদি হুথি গোষ্ঠী কোনো সহিংস পদক্ষেপ নেয়, তাহলে ইয়েমেনের সেনাবাহিনী ‘বিনা দ্বিধায়’ তার জবাব দেবে।
ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর অভিযান নিয়ে হুথি গোষ্ঠী এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
জুলাই মাসের শুরু থেকে ইয়েমেনে সরকারি বাহিনী এবং হুথিদের মধ্যে বিভিন্ন রণাঙ্গনে লড়াই চলছে।
সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি