মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বৈশ্বিক উত্তেজনার জেরে শীতকালে ইউরোপীয় দেশগুলোতে জ্বালানির ঘাটতি এবং এর দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সীমিত প্রক্রিয়াজাতকরণ সক্ষমতা এবং আমদানির ওপর অত্যধিক নির্ভরতার কারণে ডিজেল সরবরাহে সংকটের ক্ষেত্রে দেখ ইউরোপ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
এক্ষেত্রে উপসারগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা এক্ষেত্রে একটি বাড়তি ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেজ্ঞরা। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এফজিই নেক্সান্টইসিএ-এর পেট্রোলিয়াম পণ্য বিভাগের প্রধান ইউজিন লিন্ডেল বলেন, ডিজেল জ্বালানি নিয়ে ইউরোপ বড় ধরনের সমস্যার মুখে রয়েছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে, আমরা সম্ভবত অত্যন্ত চড়া ও স্থির দাম দেখতে পাব।
তার মতে, ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ার ফলে ইউরোপীয় দেশগুলোতে পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পেতে পারে এবং মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়তে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় শীতকাল ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে এশিয়া ও আমেরিকার শোধনাগারগুলো অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে ডিজেল রপ্তানি কমিয়ে দিতে পারে।
বিশেষ করে কেপলার-এর বিশুদ্ধ পেট্রোলিয়াম পণ্য বিষয়ক বিশ্লেষণ বিভাগের প্রধান জামির ইউসুফ উল্লেখ করেছেন, উপসাগরীয় উপকূলের শোধনাগারগুলো উত্তর-পশ্চিম ইউরোপে অনির্দিষ্টকাল ধরে ডিজেল সরবরাহ অব্যাহত রাখতে পারবে না। তার মতে, ২০২৭ সালের প্রথম প্রান্তিকের কাছাকাছি সময়ে, শীতকালে হিটিং বা ঘর উষ্ণ রাখার চাহিদা মেটাতে কিছু চালান যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে সরিয়ে নেওয়া হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে বিশ্ব জ্বালানি বাজারের পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়েছে। ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, এই সংঘাতের ফলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। এই সমুদ্রপথ দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ করা হয়।
সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার কারণে বেশ কয়েকটি দেশে জ্বালানির দাম বেড়েছে। কিছু দেশে জেট ফুয়েল বা উড়োজাহাজের জ্বালানি প্রাপ্তি নিয়েও সমস্যা দেখা দিয়েছে। গ্যাস ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইউরোপ-এর ৩ আগস্টের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টের শুরুতে ইউরোপের ভূগর্ভস্থ গ্যাস সংরক্ষণাগারগুলোতে গ্যাসের মজুদের পরিমাণ রেকর্ড রাখার পুরো ইতিহাসে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।
এতে উল্লেখ করা হয়েছে, আসন্ন শীতকালীন হিটিং মৌসুমের আগে মজুদ পুনরায় পূরণ করার প্রয়োজনীয়তা এবং জ্বালানি বাজারে অব্যাহত অস্থিতিশীলতার প্রেক্ষাপটেই ইউরোপের সংরক্ষণাগারে গ্যাসের পরিমাণ কমে যাচ্ছে।
সূত্র: ব্লুমবার্গ।