Jahirul Hasan
প্রকাশ : Aug 26, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

ট্রাম্পের কোরিয়া চালেই বদলে যাচ্ছে পূর্ব এশিয়ার শক্তির সমীকরণ!

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ কোরিয়া নীতি ও উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন করে যোগাযোগের উদ্যোগ পূর্ব এশিয়ার দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। 

দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক সামরিক মহড়া সংক্ষিপ্ত করার সিদ্ধান্ত, পিয়ংইয়ংয়ের সতর্ক প্রতিক্রিয়া, চীনের কৌশলগত অবস্থান এবং জাপানের দ্রুত সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ—সব মিলিয়ে এ অঞ্চলে নতুন এক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে মিত্রদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়ার পাশাপাশি জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও বাড়ানোর দিকে এগোচ্ছে। অন্যদিকে চীন তার আশপাশের অঞ্চলকে স্থিতিশীল রাখার পাশাপাশি জাপানের সামরিক উত্থান ঠেকাতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করছে।

যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়া হ্রাস
আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকা যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার বার্ষিক ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ (ইউএফএস) সামরিক মহড়ার মেয়াদ ১১ দিন থেকে কমিয়ে পাঁচ দিন করার নির্দেশ দেন ট্রাম্প। এ সিদ্ধান্তে বিস্মিত হয় সিউল। একই সঙ্গে পিয়ংইয়ং থেকেও আসে সতর্ক ও হিসাবি প্রতিক্রিয়া।

ট্রাম্প এই সিদ্ধান্তকে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের প্রতি ‘সদিচ্ছার ইঙ্গিত’ হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কিমকে তিনি ‘খুব ভালোভাবে চেনেন’ এবং তাদের মধ্যে ‘খুব ভালো সম্পর্ক’ রয়েছে।

ট্রাম্পের যুক্তি, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়া উত্তর কোরিয়ার কাছে ‘সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত ও শত্রুতাপূর্ণ’ বার্তা পাঠায়। একই সঙ্গে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়া অংশ না নেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘সব দেশকে রক্ষা করে বেড়াতে পারে না’, বিশেষ করে যখন তারা যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করছে না।

ট্রাম্পের এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে পূর্ব এশিয়ায় মার্কিন জোটগুলোর প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গির লেনদেনভিত্তিক চরিত্র আরও স্পষ্ট হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

পিয়ংইয়ংয়ের পাল্টা বার্তা
ট্রাম্পের এই উদ্যোগে উত্তর কোরিয়া তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দিলেও কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং বেশ সতর্ক অবস্থান নেন।

তিনি বলেন, ট্রাম্প ও কিম জং উনের মধ্যে কোনও যোগাযোগ হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি ‘অবগত নন’। এর মধ্য দিয়ে ট্রাম্পের দাবি করা ‘অত্যন্ত ইতিবাচক’ যোগাযোগের বিষয়টি কার্যত খণ্ডন করেন তিনি।

তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, কিম জং উনের মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রতি ব্যক্তিগতভাবে ‘ভালো স্মৃতি ও অনুভূতি’ রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এর মাধ্যমে পিয়ংইয়ং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ না রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে এবার শর্তও ভিন্ন।

উত্তর কোরিয়া চায়, ওয়াশিংটন দেশটিকে পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হিসেবে মেনে নিক এবং পিয়ংইয়ংয়ের ভাষায় যুক্তরাষ্ট্রের ‘শত্রুতাপূর্ণ নীতি’ পরিত্যাগ করুক।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র এখনও উত্তর কোরিয়ার সম্পূর্ণ পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের দাবি থেকে সরে আসেনি। ফলে ভবিষ্যতে ট্রাম্প-কিম বৈঠক হলেও দুই পক্ষের অবস্থান না বদলালে তা বাস্তব অগ্রগতির বদলে রাজনৈতিক প্রদর্শনীতে পরিণত হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

উত্তর কোরিয়াকে ঘিরে চীনের অবস্থানেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত
যুক্তরাষ্ট্র-উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য নতুন যোগাযোগের বিষয়ে চীন প্রকাশ্যে তুলনামূলকভাবে সংযত প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। সম্ভাব্য ট্রাম্প-কিম বৈঠক নিয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান সরাসরি কোনও মন্তব্য করেননি।

তবে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই’র দক্ষিণ কোরিয়া সফরের সময় বেইজিংয়ের বৃহত্তর অবস্থান স্পষ্ট হয়।

ওয়াং ই দক্ষিণ কোরিয়াকে ‘প্রকৃত কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন’ অনুসরণের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি দেশটিকে কোনও সামরিক জোটভিত্তিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়া বা পক্ষ নেওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন।

চীন-দক্ষিণ কোরিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির দ্বিতীয় পর্যায়ের আলোচনা দ্রুত এগিয়ে নেওয়া এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সবুজ রূপান্তর ও ডিজিটাল অর্থনীতিতে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বানও জানান তিনি।

তবে আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ওয়াং ই তার বক্তব্যে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের কথা উল্লেখ করেননি। এমনকি দক্ষিণ কোরিয়ার বহুপক্ষীয় শান্তি উদ্যোগকেও সরাসরি সমর্থন দেননি। বরং তিনি কোরীয় উপদ্বীপে ‘শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের’ কথা বলেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এর মধ্য দিয়ে বেইজিং হয়তো কোরীয় উপদ্বীপে দুটি পৃথক রাষ্ট্রের স্থায়ী বাস্তবতাকে মেনে নেওয়ার দিকে আরও এগোচ্ছে। অর্থাৎ এত দিন কূটনীতির কেন্দ্রে থাকা উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি চীনের কাছে আগের মতো অগ্রাধিকার পাচ্ছে না।

এদিকে ওয়াশিংটনের অবস্থানেও কিছুটা পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। ২৫ আগস্ট দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চো হিউন ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর ফোনালাপের বিবরণে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর উত্তর কোরিয়ার ‘পূর্ণ পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ’-এর কোনও উল্লেখ করেনি। অথচ ২২ জুলাই পর্যন্ত প্রকাশিত ত্রিপক্ষীয় বিবৃতিগুলোতে এ শব্দবন্ধ নিয়মিতই ব্যবহৃত হয়েছে।

জাপানের সামরিক উত্থান নিয়ে চীনের উদ্বেগ
চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই জাপানের ‘ডানপন্থী শক্তিগুলোর ইতিহাসের গতিপথ পাল্টানোর প্রচেষ্টার’ বিরুদ্ধেও সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, “জাপানি সামরিকতাবাদকে কখনওই আবার উত্থানের সুযোগ দেওয়া যাবে না।”

ওয়াংয়ের এই মন্তব্য মূলত জাপানের দ্রুত সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির দিকেই ইঙ্গিত করছে।

প্রধানমন্ত্রী সানা তাকাইচির নেতৃত্বে জাপান সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রক্রিয়া আরও দ্রুত করছে। গত ৩১ জুলাই দেশটি জাতীয় গোয়েন্দা ব্যুরো চালু করেছে। এর মাধ্যমে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার গোয়েন্দা তথ্য সমন্বয়ের ওপর প্রধানমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী হয়েছে।

জাপানের মূল প্রতিরক্ষা বাজেট রেকর্ড ৯ দশমিক ০৪ ট্রিলিয়ন ইয়েনে বা প্রায় ৫৬ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। দেশটির দাবি, প্রতিরক্ষাসংশ্লিষ্ট সামগ্রিক ব্যয় ইতোমধ্যে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২ শতাংশে পৌঁছে গেছে—যা নির্ধারিত সময়ের আগেই অর্জিত হয়েছে।

প্রতিরক্ষা ব্যয় মেটাতে নতুন কর আরোপের বিষয়টিও জাপানের আর্থিক নীতিতে যুক্ত হচ্ছে।

জাপানের এই সামরিক উত্থানে উত্তর কোরিয়াও ক্ষুব্ধ। কিম ইয়ো জং সতর্ক করে বলেছেন, টোকিও কোনও ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ নিলে তার পরিণতি হবে ‘তাৎক্ষণিক ও ধ্বংসাত্মক’ হামলা।

জাপানের স্বনির্ভর সামরিক শক্তি নিয়ে চীনের ভয়
চীনের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগ শুধু জাপানের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি নয়; বরং টোকিও কতটা স্বাধীনভাবে এই শক্তি ব্যবহার করতে পারে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি নিয়ে অনিশ্চয়তার সুযোগ নিয়ে জাপান ধীরে ধীরে সামরিক সক্ষমতাকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শক্তিশালী করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

অস্ত্র রফতানির নিয়ম শিথিল করা এবং মিতসুবিশি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ, কাওয়াসাকি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ ও আইএইচআইয়ের মতো প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরকারের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা এর উদাহরণ। এসব প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত প্রতিরক্ষা অর্ডারের পরিমাণ প্রায় ৬ দশমিক ২৫ ট্রিলিয়ন ইয়েন বা ৩৯ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার।

চীনের আশঙ্কা, দ্রুত সামরিক শক্তি বাড়ানো জাপান ভবিষ্যতে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র বা প্রতিনিধি হিসেবে নয়, বরং স্বাধীন বৃহৎ শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রভাববলয় প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করতে পারে।

দক্ষিণ কোরিয়াও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াচ্ছে
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মহড়া কমানোর সিদ্ধান্তের পর দক্ষিণ কোরিয়াও নিজেদের নিরাপত্তা নীতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে।

গত ১৮ আগস্ট দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং যুদ্ধকালীন সময়ে দক্ষিণ কোরীয় বাহিনীর অপারেশনাল নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নতুন করে জোরদারের কথা বলেন।

একই সঙ্গে পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন তৈরির পরিকল্পনাও দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার পক্ষে অবস্থান নেন তিনি।

তার যুক্তি, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জোট বজায় রেখেও দক্ষিণ কোরিয়াকে নিজেদের স্বাধীন প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে হবে।

তৈরি হচ্ছে নতুন ভূরাজনৈতিক ত্রিভুজ
পূর্ব এশিয়ার নতুন বাস্তবতার কেন্দ্রে এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক ত্রিভুজ তৈরি হচ্ছে—যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও চীন।

একদিকে ট্রাম্পের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ককে ক্রমেই লেনদেনভিত্তিক হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে জাপান দ্রুত নিজস্ব সামরিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে।

চীন একই সময়ে নিজের পার্শ্ববর্তী অঞ্চলকে স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করছে এবং জাপানের সামরিক ও রাজনৈতিক ডানমুখী পরিবর্তনের বিরোধিতা করছে।

এই সমীকরণের মাঝখানে দক্ষিণ কোরিয়াকে একসঙ্গে সামলাতে হচ্ছে ওয়াশিংটনের অনিশ্চয়তা, বেইজিংয়ের অর্থনৈতিক প্রভাব এবং টোকিওর দ্রুত সামরিক উত্থান।

সামনে কী হতে পারে?
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তনের ফলাফল নিয়ে এখনই নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন। তবে কয়েকটি সম্ভাবনা স্পষ্ট।

ট্রাম্পের সঙ্গে পিয়ংইয়ংয়ের নতুন করে সম্পর্কোন্নয়নের উদ্যোগ যদি বাস্তব ফল না আনে, তাহলে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি আরও এগিয়ে যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে চীন ও রাশিয়ার কূটনৈতিক সুরক্ষা পিয়ংইয়ংকে আন্তর্জাতিক চাপ থেকে আরও দূরে রাখবে।

অন্যদিকে ওয়াশিংটন যদি দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর চাপ বাড়াতে সফল হয়, তাহলে সিউল মধ্যপ্রাচ্য থেকে তাইওয়ান—বিভিন্ন সম্ভাব্য সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের আরও ঘনিষ্ঠ অংশীদার হয়ে উঠতে পারে।

আর জাপানের সামরিক শক্তি বৃদ্ধির প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা কাঠামোও বড় ধরনের পরিবর্তনের মুখে পড়তে পারে।

নভেম্বরে এপেক সম্মেলন হতে পারে বড় পরীক্ষা
চীনের শেনজেনে নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (এপেক) সম্মেলন এই নতুন ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার প্রথম বড় কূটনৈতিক পরীক্ষায় পরিণত হতে পারে।

সম্ভাবনা রয়েছে, সম্মেলনে ডোনাল্ড ট্রাম্প, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার নেতারা এবং সম্ভব হলে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনও একই শহরে উপস্থিত থাকতে পারেন।

এমন পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে সমঝোতা তৈরির ক্ষেত্রে বেইজিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ পেতে পারে। তবে সম্মেলনটি যদি প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয়তাবাদ ও পরস্পরবিরোধী কৌশলগত অবস্থান প্রদর্শনের আরেকটি মঞ্চে পরিণত হয়, তাহলে পূর্ব এশিয়ার ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠতে পারে।

সব মিলিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গত ৭৫ বছর ধরে পূর্ব এশিয়াকে স্থিতিশীল রাখা পুরোনো নিরাপত্তা কাঠামোর ভিত্তি এখন নড়বড়ে হয়ে উঠছে। যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা নিজেদের নির্ভরতার সীমা নতুন করে পরীক্ষা করছে, জাপান যুদ্ধ-পরবর্তী সামরিক বিধিনিষেধ কাটিয়ে উঠছে এবং চীন নতুন আঞ্চলিক বাস্তবতা নিজের অনুকূলে গড়ে তোলার চেষ্টা করছে।

ফলে পূর্ব এশিয়া এমন এক নতুন যুগে প্রবেশ করছে, যেখানে ওয়াশিংটনের এককভাবে আঞ্চলিক নিয়ম নির্ধারণের ক্ষমতা কমছে, মিত্ররা আরও স্বাধীন হওয়ার পথ খুঁজছে এবং প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলো ভবিষ্যৎ আঞ্চলিক ব্যবস্থা নিজেদের মতো করে সাজাতে সক্রিয় হয়ে উঠছে। 

সূত্র: আল-জাজিরা

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ছাত্রদলের সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি শিক্ষাঙ্গণগুলোতে চলতে পারে

1

২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত কোচ থাকতে ‘চুক্তিপত্রে’ স্কালোনির স্বা

2

নিজের বাড়িতে রেখে পান্তকে অনুশীলন করাচ্ছেন ধোনি

3

স্মৃতিসৌধ ও শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে মন্ত্রিসভার নতু

4

বেরোবিতে কলা অনুষদের গবেষণা প্রকল্পের ২য় সেমিনার অনুষ্ঠিত

5

ভারতের নতুন শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী

6

শতবর্ষের রেকর্ড ভাঙল দক্ষিণ কোরিয়ার তাপমাত্রা

7

ভেদরগঞ্জে গাঁজাসহ এক মাদক ব্যবসায়ী আটক

8

বাহরাইন ও কুয়েতে মিসাইল ছুড়ল ইরান

9

কেন হঠাৎ দক্ষিণ আফ্রিকা ছাড়ছেন লাখ লাখ প্রবাসী

10

সৌদি-যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরাকে নিহত বেড়ে ২০

11

মানবিক অঙ্গীকার ধারণ করে ড্যাব ভবিষ্যতেও মানুষের পাশে দাঁড়াব

12

২৭ আগস্ট বসছে সংসদের তৃতীয় অধিবেশন

13

ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত বাতিলের দা

14

যুক্তরাষ্ট্রে ফুড ফেস্টিভ্যালে বন্দুকহামলা, নিহত বেড়ে ৩

15

ফুলহামে অভিষেকের পর ৫ম স্তরের ক্লাবে ফারহান

16

৫ বছর পর টেস্ট দলে ফিরলেন সৌম্য সরকার

17

নাগরিক প্রজন্ম দলের আহবায়ক সোহেল পুস্তির মায়ের মৃত্যুতে কুলখ

18

জননেতা সফিকুর রহমান কিরণের সুনাম নষ্টের পাঁয়তারা করছে আ.লীগ

19

বঙ্গভবন ছাড়লেন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ

20