জাগো কণ্ঠ ডেস্ক ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ , ৭:৩৮ পূর্বাহ্ণ
নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঢাকা রেশনিং কার্যালয়ের ডি ২ এর এআরও চিন্তামণি তালুকদারের ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ৯ ডিসেম্বর মঙ্গলবার শ্যামপুর মোল্লাবাড়ি মসজিদের সামনে পয়েন্টে ডিলার রোমান হোসেনের ওএমএস এর পন্য নির্ধারিত সময়ের আগে অবিক্রীত ১৭ বস্তা আটা ও ২২ বস্তা ব্যালেন্স না দেখিয়ে কালো বাজারীর উদ্দেশ্যে পয়েন্ট ত্যাগ করে ট্রাক নিয়ে যাওয়ার সময় সাধারণ জনতা গেন্ডারিয়া করিমুল্লাবাগ এলাকায় ওমএস পণ্যবাহী ট্রাকটি আটকে রেখে সাংবাদিকদের তথ্য দেন। উপস্থিত সাংবাদিকগণ তদারককারীএস এম হামিদ কে ফোন দিলে তিনি আসবেন বলে জানান। পরবর্তীতে তিনি আর আসেননি।
পরবর্তীতে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ করে রাখেন। এ অবস্থায় ট্রাকের ড্রাইভারকে ও এম এস এর ব্যালেন্স সিট দেখাতে বলললে তিনি বলেন গাড়িতে ব্যালেন্স সিট নাই। আপনারা স্যারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, স্যারের কাছে আছে।
ঢাকা রেশনিং কার্যালয়ের ডি ২ এর এআরও চিন্তামনি তালুকদারকে এ ব্যাপারে ফোন দিলে তিনি বলেন, আমি ব্যালেন্স পরে দেখাবো। আপনারা পারলে গাড়ি আটকিয়ে রাখেন। পরবর্তীতে স্থানীয় ক্ষুদ্র জনতা ৯৯৯ এ কল দিলে পুলিশ এসে ওএমএস পণ্যসহ গাড়ি নিয়ে যান। পরবর্তীতে অজ্ঞাত কারণে ঐদিন রাতেই কালোবাজারীর ট্রাকটি থানা থেকে ছেড়ে দেন।
এ ব্যাপারে শ্যামপুর থানার অফিসার ইনচার্জকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোনটি রিসিভ করেননি।
এ ব্যাপারে ঢাকা রেশনিং এর সহকারী নিয়ন্ত্রক সাব্বির হোসেন মুরাদ বলেন, ওএমএস পন্য সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত একটানা বিক্রি চলবে।
আর পয়েন্টের তদারককারী ব্যালেন্স সিটে সিগনেচার করে তারপর গাড়ি ছাড়বে। যদি তদারককারীর অনুমতি এমনকি সিগনেচার ছাড়া গাড়ি ছাড়ে তাহলে সেটা অবৈধ পণ্য বলে গণ্য হবে।
শাব্বীর আহমেদ মুরাদ আরো বলেন, এয়ারও চিন্তামণি তালুকদার যদি এভাবে বলে থাকেন তাহলে সেটা মহা অন্যায় বলেছেন। আমি স্যারকে বিষয়টি জানাবো।
এদিকে আইজিপ গেট গেন্ডারিয়া ডিলার আসমা আক্তারের প্রতিনিধি আজমির আলী দুখু বলেন, আমি দুঃখের কথা আর কি বলব। আমি হজ করে আসছি। আমার মাথায় টুপি আছে। মিথ্যা কথা বলতে পারব না। চিন্তামণি স্যারের এই এলাকা ডি টু এর কোন ডিলার সব মাল বিক্রি করে না। এমনকি সব মাল এক দিনে বিক্রি সম্ভাবও না।
এ ব্যাপারে ঢাকা রেশনিং কার্যালয়ের প্রধান নিয়ন্ত্রক জাহাঙ্গীর হোসেনকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
উল্লেখ্য, এয়ারও চিন্তা মনি তালুকদারের অফিস সহায়ক আনোয়ার হোসেনের মাধ্যমে ডিলারদের নিকট থেকে নিয়মিত ঘুষ লেনদেন করেন। এছাড়াও অন্য একটি পয়েন্টের ডিলার জনসম্মুখে তদারকারীর সঙ্গে এ এখলাস মিয়ার সঙ্গে ঘুষ লেনদেন নিয়ে উচ্চ বাচ্চ হয়। ডিলার শাহ আলম ১ তদারককারী এখলাসের উদ্দেশ্যে বলেন, আমি সেল প্রতি আপনাকে দেই দুই হাজার টাকা এবং আপনার স্যার এআরওকে সেল প্রতি চার হাজার টাকা দেই। আর আপনি তো জানেন ১ লক্ষ টাকা এককালীন আপনাদেরকে দিয়েছি। এমনই এক ভিডিও ক্লিপ সাংবাদিকদের হাতে পৌঁছেছে।
ঢাকা রেশনিংয়ের অসাধু এ কর্মকর্তা চিন্তামণি তালুকদারের ঘুষবাণিজ্য ও নানান অনিয়মের লাগাম টেনে ধরলে কিছুটা হলেও শৃঙ্খলা ফিরে পাবে বলে মনে করেন সুশীল সমাজ।
ওএমএস এর ঘুষ-বাণিজ্য ও কালোবাজারির সংবাদ দেখতে পরবর্তী সংখ্যায় চোখ রাখুন।















