দেশজুড়ে

নোবিপ্রবিতে “বায়োসেফটি এন্ড বায়োসিকিউরিটি” বিষয়ক ট্রেনিং সমাপ্ত

  জাগো কণ্ঠ ডেস্ক ২৯ এপ্রিল ২০২৬ , ১:১৫ অপরাহ্ণ

মাহতাব চৌধুরী, নোবিপ্রবি প্রতিনিধি:

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) তিন দিন ব্যাপি ” হ্যান্ডস অন ট্রেনিং অন বায়োসেফটি এন্ড বায়োসিকিউরিটি ” সমাপ্ত হয়েছে। আজ বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিডিও কনফারেন্স রুমে এ সমাপনী ট্রেনিং সেশন অনুষ্ঠিত হয়।

নোবিপ্রবির বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং (বিজিই) বিভাগের তত্ত্বাবধানে এবং নোবিপ্রবি বায়োটেক এসোসিয়েশনের উদ্যোগে উক্ত ট্রেনিং সেশন অনুষ্ঠিত হয়। গত ২৬ এপ্রিল এ ট্রেনিং শুরু হয়ে ধাপে ধাপে শেষ হয়।এতে বিজিই বিভাগের প্রায় ২৫০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে আন্ডারগ্রাজুয়েট, পোস্টগ্রাজুয়েট এবং পিএইচডি লেভেলের শিক্ষার্থীরা ছিলেন। উক্ত ট্রেনিংয়ে গুড ল্যাবরেটরি প্রাকটিস , ল্যাবরেটরির বিভিন্ন সরঞ্জাম ব্যবহার , কার্যপদ্ধতি সহ ল্যাবরেটরিতে দুর্ঘটনা এড়াতে বিভিন্ন ট্রেনিং দেয়া হয়।

সমাপনী অনুষ্ঠানে বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. শাহরিয়ার কবির শাকিলের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক ড. আবু নসর মিয়া, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী অধ্যাপক ড. নুরেরছোপা ইস্কান্দার শাহজাদা। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মফিজুল ইসলাম, সহকারী অধ্যাপক মো. আবদুল কাদের। টেকনিক্যাল এসিস্ট্যান্স হিসেবে ছিলেন ল্যাব ইন্সট্রাকটর ফারজানা আক্তার, ল্যাব টেকনিশিয়ান আদনান মুনিম, ল্যাব টেকনিশিয়ান মোহাম্মদ নুর ইসলাম, ল্যাব এটেনড্যান্ট পলি রানী নাথ সহ বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

ট্রেনিং সম্পর্কে বিভাগের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার মাহমুদ বলেন, ” এই তিনদিনের ‘বায়োসেফটি এন্ড বায়োসিকিউরিটি’ ট্রেনিং আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী ছিল। আমরা শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞানই নয়, ল্যাবরেটরির বাস্তব কাজ, গুড ল্যাবরেটরি প্র্যাকটিস এবং বিভিন্ন যন্ত্রপাতির সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে হাতে কলমে শিখতে পেরেছি। বিশেষ করে ল্যাবে কাজ করার সময় কীভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হয় এবং দুর্ঘটনা এড়ানো যায়। এসব বিষয় আমাদের ভবিষ্যৎ গবেষণা জীবনে অনেক সহায়ক হবে “।

সমাপনী অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে প্রধান বক্তার বক্তব্যে সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মফিজুল ইসলাম বলেন, ” আমি যখন জাপানে পিএইচডি করতে যাই, তখন আমি প্রথম দিন থেকেই ল্যাবে কাজ শুরু করি। গিয়েই ল্যাবে যেসব যন্ত্রপাতি দেখেছি তা আমার অপরিচিত লাগছিলো। যদিও মেশিনের গায়ে সেগুলোর নাম লেখা ছিলো ,তাও জাপানের। তবে আমি মেশিনগুলোর কাজ জানতাম। কারন আমার শিক্ষকরা আমাকে তা পড়িয়েছিলেন।

তিনি আরও বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীরা এ দিক থেকে অনেক এগিয়ে আছে। কারন আমাদের বিভাগে এমনও মেশিন আছে যার সেম মডেল নাসাতে ব্যবহার করা হয়। আর এই বিষয়েই তোমরা আগে থেকেই ট্রেনিং নিচ্ছো।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক ড. আবু নসর মিয়া বলেন, ” বর্তমানে ফাইন্যান্সিয়ালি এ ট্রেনিংয়ের মূল্য অনেক। বিভাগের শিক্ষার্থীরা এ ব্যাপারে না জেনেও অধীর আগ্রহে এ ট্রেনিংয়ে সবাই অংশগ্রহণ করে। আমি এ কারনে সকলকে ধন্যবাদ জানাই “।

তিনি আরও বলেন, আমরা বিভাগকে উচ্চতর জায়গায় নিয়ে যেতে মিশন ভিশন নিয়ে এগোচ্ছি। বাংলাদেশে প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে লিমিটেড সোর্স নিয়ে কাজ করতে হয়। আমরা কিভাবে এ লিমিটেড সোর্সকে কাজে লাগিয়ে সর্বোচ্চ কাজ হাসিল করতে পারি সে জন্যেই শিক্ষার্থীদের নিয়ে এ আয়োজন। তাছাড়া, ট্রেনিং শেষে যায় সনদ প্রদান করা হবে তা উচ্চতর ডিগ্রি বা গবেষণায় সাহায্যে আসবে।

 

 

নোবি/আই

আরও খবর: