অপরাধ

ঢাকায় বিমানবন্দরে বিপুল স্বর্ণ উদ্ধার: পরিত্যক্ত অবস্থায় ৭০টি স্বর্ণবার

  জাগো কণ্ঠ ডেস্ক ৭ আগস্ট ২০২৫ , ১০:৪৩ পূর্বাহ্ণ

প্রধান প্রতিবেদক:

দেশের অন্যতম ব্যস্ততম প্রবেশদ্বার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর—সেই বিমানবন্দরেই আজ ঘটল চাঞ্চল্যকর ঘটনা। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো এক সফল রামেজিং অভিযানে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে প্রায় ১২ কোটি টাকা মূল্যের ৭০টি স্বর্ণবার। ঘটনাটি শুধু চোরাচালানের পর্দা উন্মোচন করেই থেমে থাকেনি, বরং বিমানের অভ্যন্তরে থাকা কার্গো হোল্ড থেকে এই বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনায় তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন—কারা জড়িত এই আন্তর্জাতিক সোনার চক্রে?

আজ ৭ আগস্ট ২০২৫, আনুমানিক সকাল ৯টা ১০ মিনিট। কাতারের রাজধানী দোহা থেকে ঢাকায় অবতরণ করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বিজি-৩২৬। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিমানটি অবতরণের পরপরই শুরু হয় কাস্টমস হাউস, ঢাকার বিশেষ রামেজিং অভিযান।

অভিযানে বিমানের সামনের কার্গো হোল্ড থেকে কাপড়ে মোড়ানো ও কালো স্কচটেপ দিয়ে বিশেষভাবে প্যাঁচানো অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ৮.১২০ কেজি ওজনের ৭০টি স্বর্ণবার। কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, এই স্বর্ণবারগুলো ছিল “পরিত্যক্ত”—অর্থাৎ, সেগুলো কোনো যাত্রীর নামে ঘোষিত ছিল না এবং কাউকে তাৎক্ষণিকভাবে দায়ী করা সম্ভব হয়নি।

এই জব্দকৃত স্বর্ণের বাজার মূল্য প্রায় ১২ কোটি টাকা, ধারণা করা হচ্ছে, এটি একটি সুসংগঠিত চোরাচালান চক্রের পরিকল্পনার অংশ, যেখানে বিমানবন্দরের কিছু ভেতরের সহযোগীও থাকতে পারে।

অভিযানটি পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার এস এম সরাফত হাসেন এর নেতৃত্বাধীন একটি চৌকস কাস্টমস দল। পুরো অভিযানের পেছনে ছিলেন কাস্টমস হাউস, ঢাকা’র কমিশনার জনাব মুহম্মদ জাকির হোসেন, যার সরাসরি নির্দেশনা এবং তত্ত্বাবধানে বিমানবন্দর ইনচার্জ জয়েন্ট কমিশনার নাজমুন নাহার কায়সার প্রক্রিয়াটি মনিটর করেন।

কমিশনার মুহম্মদ জাকির হোসেন বলেন, “বাংলাদেশ কাস্টমস সবসময় চোরাচালান রোধ ও বৈদেশিক মুদ্রা পাচার প্রতিরোধে সচেষ্ট। এই ধরনের অভিযান কেবল আইন প্রয়োগ নয়, বরং দেশের অর্থনীতিকে নিরাপদ রাখার অঙ্গীকারের অংশ। ভবিষ্যতেও কাস্টমস এমন অভিযান অব্যাহত রাখবে।”

ঘটনার পর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে, যেখানে জানতে চাওয়া হবে কীভাবে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন একটি বিমানের কার্গো হোল্ডে এত বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ বহন করা সম্ভব হলো—এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় প্রকাশে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

দেশের বিমানবন্দরগুলোতে স্বর্ণ চোরাচালান নতুন কোনো ঘটনা নয়। তবে রাষ্ট্রীয় বিমানের নিজস্ব কার্গো হোল্ডে বিপুল স্বর্ণের এমন গোপন পরিবহন শুধু নজরকাড়া নয়, বরং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফাঁক-ফোকরকে বড় করে সামনে তুলে এনেছে। এখন দেখার বিষয়, এই চক্রের মূলহোতারা শনাক্ত হয়ে বিচার পায় কিনা। তদন্তের ফলাফল এবং পরবর্তী পদক্ষেপগুলোর দিকে তাকিয়ে আছে গোটা দেশ।

 

শাহীন /আই

আরও খবর: