বছরের শেষ ফিফা উইন্ডোতে (চলতি নভেম্বর) উয়েফা নেশন্স লিগের ম্যাচ খেলতে নামবে ইউরোপীয় দেশগুলো। যে লক্ষ্যে পর্তুগালও স্কোয়াড ঘোষণা করেছে। কিন্তু স্কোয়াডে থাকা ফুটবলারদের চেয়ে আলোচনার কেন্দ্র হয়ে ওঠে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর অবসর প্রসঙ্গ। ফলে পর্তুগাল কোচ জর্জে জেসুসের সংবাদ সম্মেলন উত্তপ্ত হয়ে যায়। বারবার একই প্রশ্নে বিরক্ত হলেও নিজের অবস্থানে দৃঢ় থেকে বললেন, ‘আমি দায়ী নই।’
রোনালদোর আচমকা অবসরের সিদ্ধান্তে নিজের দায় অস্বীকার করে জেসুস বলছেন, ‘হয়তো সবকিছু একটু তাড়াহুড়ো করে হয়েছে, তবে এজন্য আমি দায়ী নই। তার মনে হতে পারে কতবার ডাক পাওয়া গেল তা বড় কথা নয়, শেষ পর্যন্ত বিষয়টি এক পর্যায়ে গিয়ে থামবেই। আর আমার মেয়াদকালেই যে এমনটা ঘটবে, তা ছিল অনিবার্য। তার বিদায়ের জন্য আমি নিজেকে অপরাধী মনে করি না।’
‘আমি তার সিদ্ধান্তকে শ্রদ্ধা করি। তাই তার অতীত অবদানকে উপেক্ষা করার কোনো অবকাশ নেই। আমি কখনোই তা উপেক্ষা করব না, কারণ তিনি সবসময়ই একটি প্রতীক হয়ে থাকবেন। দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে তার সঙ্গে আমার গভীর বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছিল। আর ক্রীড়াক্ষেত্রের দিক থেকে তিনি এখন নতুন একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, আমি সেই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করি’, আরও যোগ করেন পর্তুগিজ কোচ।
পর্তুগালের ঘোষিত স্কোয়াডে নতুন করে ৭ ফুটবলারকে ডাকা হয়েছে। যা নিয়ে জেসুসের ভাষ্য, ‘স্কোয়াডে নতুন মুখ সাতজন। আমার মতে তারা ক্লাবে নিজেদের প্রমাণ করে এসেছে, যে কারণে সিনিয়র জাতীয় দলে ডাক পাওয়া প্রাপ্য ছিল। বিশেষ করে পাঁচ ফুটবলার, যারা অনূর্ধ্ব-২১ দলের অংশ ছিল।’ প্রথমবার পর্তুগিজ জাতীয় দলে ডাক পেলেন– আলবার্তো কস্তা, গুস্তাভো ভারেয়া, অ্যান্তনিও সিলভা, মাতিয়াস ফার্নান্দেজ, কার্লোস ফর্বস, রদ্রিগো মোরা ও জিওভানি কুয়েন্দা।
ফিফার সর্বশেষ উইন্ডোতে দলে সুযোগ না পাওয়ার বিষয়টি টের পেয়ে রোনালদো জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে যান। তবে এবার তিনি স্কোয়াডে ফিরবেন বলে প্রত্যাশা ছিল কোচ জেসুসের, ‘রোনালদোর বর্তমান পরিস্থিতির কথা বলতে গেলে, অতীতে যা ঘটেছে তা নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই। অবশ্য আমি ভেবেছিলাম সে ফিরে আসবে। এমনকি তাকে ডেকে কথা বলার কথাও ভেবেছি। তবে তার সিদ্ধান্তকে আমার সম্মান জানাতেই হবে। সে নিজেই মনে করেছে জাতীয় দল থেকে বিদায় নেওয়ার সময় হয়েছে। কোনো না কোনো সময় তো এমনটা হওয়ারই ছিল।’
তরুণ ফুটবলারদের কাছে পর্তুগিজ এই কিংবদন্তি অনুসরণীয় হয়ে থাকবেন বলেও মনে করেন কোচ, ‘তিনি বুঝেছিলেন যে বিদায় নেওয়ার এটাই সেরা সময়। তার এই সিদ্ধান্তের প্রতি আমার শ্রদ্ধা থাকা উচিত, পাশাপাশি এটিও মনে রাখা প্রয়োজন যে, পর্তুগালের জন্য তিনি কী ছিলেন এবং এখনও কী আছেন। এমনকি ক্যারিয়ার শুরু করতে যাওয়া তরুণ খেলোয়াড়দের কাছে তিনি যে প্রতীক হয়ে আছেন, তাও ভুলে যাওয়া চলবে না। এই দুটি বিষয় সম্পূর্ণ আলাদা।’
রোনালদোর দলে ফেরার প্রত্যাশা থাকলেও কেন যোগাযোগ করেননি সেই প্রশ্ন করা হয় জর্জে জেসুসকে। জবাবে তিনি জানান, ‘আমি রোনালদোর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করিনি। জাতীয় দল থেকে তার বিদায় ও যা-ই ঘটুক না কেন, ২০৩০ সাল পর্যন্ত আমার চার বছরের কোচিং মেয়াদে একটি ছাপ ফেলত-ই। যদি এই ক্যাম্পের সময় এমনটা না-ও হতো, তবে তিনি হয়তো অন্য কোনো সময়ে এই সিদ্ধান্ত নিতেন। তিনি যখন মনে করতেন সেটাই সঠিক মুহূর্ত। নেশন্স লিগের যেকোনো পর্যায়েও এমনটা ঘটতে পারত। রোনালদোর বিদায়ের সঙ্গে আমার নাম জড়িয়েই থাকবে। যদি না তিনি ২০৩০ সালের মধ্যে আবারও খেলেন।’
‘আমি যদি বলি তাকে ডাকার কথা ভাবছিলাম, তবে তার কারণ হলো আমার বিশ্বাস ছিল সে নেশন্স লিগ প্রকল্পটি চালিয়ে যাবে। তার প্রতি আমার কোনো ক্ষোভ ছিল না। কেন? কারণ আমার নেওয়া প্রতিটি সিদ্ধান্তই ছিল দলের মঙ্গলের জন্য। একজন ম্যানেজার হিসেবে, দলের জন্য যা সর্বোত্তম, আমি সবসময় তার পক্ষেই দাঁড়িয়েছি। আর আমার নেওয়া এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আমি নিশ্চিন্ত।’