যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপে থাকা ইরান এখন নতুন কৌশল নিয়েছে। মিত্র হুথিদের মাধ্যমে মার্কিন মিত্র সৌদি আরবে হামলা চালিয়ে ওয়াশিংটনকে চাপে ফেলার চেষ্টা করছে তারা।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদির অবকাঠামো, তেল স্থাপনা ও বড় বিনিয়োগ অনুষ্ঠানগুলোতে হুথিদের এই হামলা যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ‘ভিশন ২০৩০’-এর জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে দেশটিতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি অবস্থান বদলাতে বাধ্য করতে না পেরে তেহরান ও তার মিত্ররা এখন সৌদির অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। এর একটি বড় লক্ষ্য হলো— মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দিয়ে ইরানের ওপর থেকে অবরোধ শিথিল করানো। পাশাপাশি হুথিদের নিজস্ব কিছু দাবিও রয়েছে। তারা ইয়েমেনে সৌদির সামরিক অভিযান বন্ধ, বন্দর ও বিমানবন্দর খুলে দেওয়া, ইরানে নিয়মিত ফ্লাইট এবং যুদ্ধকালীন ক্ষতিপূরণ ও আটকে থাকা বেতন চায়।
তবে হুথি মুখপাত্র মোহাম্মদ আবদুস সালাম দাবি করেছেন, তাদের এসব দাবির সঙ্গে ইরানের কোনো সম্পর্ক নেই। অন্যদিকে, এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সৌদির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত এ হামলা চলবে। সুরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর না করে রিয়াদের উচিত আলোচনায় বসা।
সম্প্রতি রিয়াদের কিং খালিদ বিমানবন্দর এবং আরামকোর স্থাপনায় হামলার কারণে সৌদির বড় ব্যবসায়ী সম্মেলনগুলো ব্যাহত হচ্ছে। নিরাপত্তা শঙ্কায় অনেক শীর্ষ নির্বাহী ও বিনিয়োগকারী সরাসরি না এসে অনলাইনে যুক্ত হচ্ছেন। এর আগে ২০১৯ সালেও আরামকোতে হামলায় বিশ্বের প্রায় ৫ শতাংশ তেল সরবরাহ ব্যাহত হয়েছিল।
সাবেক মার্কিন মধ্যস্থতাকারী অ্যারন ডেভিড মিলার সতর্ক করে বলেছেন, দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে হুথিদের চেয়ে সৌদিরই বেশি ক্ষতি হবে। কারণ তাদের অবকাঠামো অনেক বেশি মূল্যবান। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ইয়েমেনে শান্তি প্রতিষ্ঠার চলমান উদ্যোগ তো ব্যাহত হবেই; বর্তমান এই সংকট পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলেই ছড়িয়ে পড়তে পারে।