ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ছেড়ে নগরপ্রতিদ্বন্দ্বী ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেওয়ার পেছনের কারণ এতদিন পর জানালেন কার্লোস তেভেজ। আর্জেন্টাইন এই সাবেক স্ট্রাইকারের দাবি, ইউনাইটেডের কিংবদন্তি কোচ স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন তাকে স্থায়ীভাবে দলে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েও কথা রাখেননি। এতে ভীষণ কষ্ট পেয়েছিলেন তিনি। সেই অভিমান থেকেই ২০০৯ সালে সিটিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তেভেজ।
ওল্ড ট্রাফোর্ডে দুই বছরের ধারে খেলে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে প্রিমিয়ার লিগ ও চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছিলেন তেভেজ। তবে ধারের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তাকে স্থায়ীভাবে দলে রাখতে প্রয়োজনীয় অর্থ খরচ করেনি ইউনাইটেড। শেষ পর্যন্ত ২০০৯ সালে সিটিতে যোগ দেন তিনি। পরে সিটির হয়ে তৃতীয়বারের মতো প্রিমিয়ার লিগ জেতেন এই আর্জেন্টাইন।
‘রিও ফার্দিনান্দ প্রেজেন্টস’অনুষ্ঠানে নিজের সেই দলবদল নিয়ে কথা বলেছেন তেভেজ। তিনি জানান, ধারে খেলার চুক্তির সময়ই তাকে স্থায়ীভাবে দলে রাখার আশ্বাস দিয়েছিলেন ফার্গুসন।
তেভেজ বলেন, ‘দুই বছরের ধারের চুক্তির আগে তারা আমার সঙ্গে কথা বলেছিল। বলেছিল, আমি ভালো খেললে এক বছর পর চুক্তির অর্থ পরিশোধ করবে। ফার্গুসন আমাকে বলেছিলেন, কার্লোস, এবার আমি তোমার চুক্তির অর্থ পরিশোধ করব, তুমি ম্যানচেস্টারেই থাকবে।’
কিন্তু সময় গড়ালেও স্থায়ী চুক্তির বিষয়ে অগ্রগতি হয়নি। তেভেজের অভিযোগ, প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরও ছয় মাসের মধ্যে ফার্গুসন কথা রাখেননি। উল্টো তাকে বেঞ্চে বসিয়ে রাখা শুরু হয়। তার ধারণা, দলবদলের বাজারে নিজের মূল্য কমানোর জন্যই তাকে ধীরে ধীরে একাদশের বাইরে রাখা হচ্ছিল।
তেভেজ বলেন, ‘আমার মনে হয়, কথা বলার দিন থেকে ফার্গুসনের হাতে নিজের কথা রাখার জন্য ছয় মাস সময় ছিল। কিন্তু তিনি তা করেননি। বরং আমাকে বেঞ্চে বসাতে শুরু করেন।’
শেষ পর্যন্ত সিটিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তের পেছনে প্রতিশোধের মনোভাব কাজ করেছিল বলে স্বীকার করেছেন তেভেজ। তার ভাষায়, ‘ইউনাইটেডে আমার দারুণ সময় কেটেছে। কিন্তু আমার কাছে অন্য দল সিটি ছিল প্রতিশোধ নেওয়ার মতো। আমি যা দিয়েছিলাম, তার প্রতিদান পাইনি।’