Jahirul Hasan
প্রকাশ : Oct 28, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

ফারাক্কার প্রভাব মোকাবিলায় পদ্মা-তিস্তা ব্যারাজ নির্মাণে গুরুত্বারোপ রিজভীর

ফারাক্কা বাঁধের প্রভাবে দেশের নদ-নদীতে পানিপ্রবাহ কমে যাওয়া, লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি মোকাবিলায় পদ্মা ও তিস্তা ব্যারাজ নির্মাণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে ‘জাতীয় পানি সম্পদ সুরক্ষায় পদ্মা ব্যারেজের ভূমিকা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, বর্ষা মৌসুমের অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে কাজে লাগানো গেলে দেশের নদ-নদীতে পানিপ্রবাহ বাড়বে। এতে কৃষি সুরক্ষা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, শুষ্ক মৌসুমে দেশের নদ-নদীতে পানির প্রবাহ কমে যাচ্ছে। উজানে একতরফা পানি প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন কারণে বাংলাদেশ তার ন্যায্য পানির হিস্যা পাচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের প্রচেষ্টার পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ পানি ব্যবস্থাপনাও জোরদার করতে হবে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রিজভী বলেন, বর্ষা মৌসুমের অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুম পর্যন্ত ধরে রাখতে পারলে পদ্মা নদীর শাখা-উপশাখা নদীগুলোতে পানিপ্রবাহ বাড়ানো সম্ভব হবে। এতে কৃষি সুরক্ষার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা সহজ হবে।

তিনি বলেন, পদ্মার শাখা-উপশাখা নদীগুলোতে পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় সমুদ্রের লবণাক্ত পানি ঠেলে দূরে রাখার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে সুন্দরবনসহ বিভিন্ন এলাকার জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় পদ্মা ও তিস্তা ব্যারাজ নির্মাণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

১৯৭৭ সালের গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির গ্যারান্টি ক্লজের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা প্রশ্ন রেখে বলেন, পরবর্তী সময়ে সেটি কেন বাদ দেওয়া হয়েছিল। তার মতে, পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের বিষয়ে বাংলাদেশের আরও জোরালো অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন।

ভারতের অভ্যন্তরে কৃষ্ণা ও কাবেরী নদীর পানিবণ্টন নিয়ে বিভিন্ন রাজ্যের বিরোধের উদাহরণ দিয়ে রিজভী বলেন, পানি বণ্টনের প্রশ্নে কোনো দেশই সহজে ছাড় দেয় না। তাই বাংলাদেশেরও নিজের ন্যায্য পাওনার বিষয়ে সোচ্চার থাকা প্রয়োজন।

পদ্মা ও তিস্তা ব্যারেজ নির্মাণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, জলাধার নির্মাণের মাধ্যমে বর্ষার পানি সংরক্ষণ এবং শাখা-উপশাখা নদীর পানিপ্রবাহ সচল রাখা সম্ভব হলে কৃষি উৎপাদন, বন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ নৌপথের উন্নয়নেও ভূমিকা রাখা যাবে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা গেলে নদীগুলো আবার প্রাণ ফিরে পেতে পারে। নদীকেন্দ্রিক যোগাযোগ ও নৌযান চলাচলের সম্ভাবনাও বাড়বে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

‘জন্মের আগে কী এমন পাপ করেছিলাম, আমার জন্ম বাংলাদেশে হলো’

1

পর্দা উঠছে এশিয়া কাপের, বাংলাদেশের ম্যাচ কবে-কখন

2

সমাধানের আশায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসছেন ম্যাক্রোঁ

3

৫ মাস পর সংসদ অধিবেশনে মির্জা আব্বাস, স্পিকারের অভিনন্দন

4

কওমি মাদরাসার জন্য ৬টি শিক্ষা বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত প্রধানমন

5

কুবিতে ডিবেটিং সোসাইটির নবীনবরণ ও বিতর্ক কর্মশালা ২০২৬ অনুষ্

6

এখনই ইয়েমেন সংঘাতে জড়াতে চায় না যুক্তরাষ্ট্র: বিশ্লেষক

7

নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসরের পর্দা উঠছে ৫ নভেম্বর

8

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সিইসির নেতৃত্বাধীন ইসির প্রতিনিধি দলের সাক

9

মুদরিকের প্রত্যাবর্তনে চেলসিতে স্বস্তি

10

ক্যাটরিনাকে নিয়ে কটাক্ষকারীদের কড়া জবাব দিলেন সালমান খান

11

প্রধানমন্ত্রীর কাছে যোগদানপত্র দিলেন রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির

12

কংগ্রেস ও তার মিত্ররা বাংলাদেশের আদলে সরকার পরিবর্তন চায়

13

হরমুজ থেকে যেভাবে বছরে ১৪ হাজার কোটি ডলার আয় করতে পারে ইরান!

14

বাড়িতে হামলা, মামলা, অ্যাকাউন্ট জব্দ, দেশে ফেরা নিয়ে যা বললে

15

ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ২৫ মার্কিন অঙ্গরাজ্যের মামলা

16

জনগণ পরিবর্তন চেয়েছে বলেই জুলাই আন্দোলন সফল : প্রধানমন্ত্রী

17

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি আরবের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সৌজন্য

18

‘আগে কখনও এমন সিদ্ধান্ত নেয়নি’ অস্ট্রেলিয়া, বাধ্য করল বাংলাদ

19

‘আমাকে কিছুই জানানো হয়নি’, ‘সরকে চুনর’ বিতর্কে নোরা

20