থাইল্যান্ডের নিম্ন উত্তর-পূর্বাঞ্চলের চারটি প্রদেশে চলতি বছরের ২২ অক্টোবর পর্যন্ত মেলিওয়ডোসিস বা ‘সয়েল ফিভার’ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন ৫৭০ জন। এ সময়ে রোগটিতে ৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। দূষিত মাটি ও পানির মাধ্যমে সংক্রমণের ঝুঁকি থাকায় কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন দেশটির স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। থাইল্যান্ডের সংবাদমাধ্যম খাওসেদ এ তথ্য জানিয়েছে।
নাখন রাচাসিমায় রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ অফিস-৯-এর পরিচালক ডা. সাইলাক ফিমখো বৃহস্পতিবার জানান, আক্রান্ত ও মৃত্যুর এই হিসাব ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত সময়ের। প্রদেশভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বুরিরামে রোগটিতে আক্রান্ত হয়েছেন সর্বোচ্চ ২৪৫ জন। তাঁদের মধ্যে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া সুরিনে ১৩৯ জন আক্রান্ত ও ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। নাখন রাচাসিমায় আক্রান্তের সংখ্যা ১৩৬ এবং মৃত্যু হয়েছে ১৭ জনের। অন্যদিকে চাইয়াফুমে ৫০ জন আক্রান্ত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।
বয়সভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছেন ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীরা। এরপর রয়েছেন ৫৫ থেকে ৬৪ বছর এবং ৪৫ থেকে ৫৪ বছর বয়সী ব্যক্তিরা। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় ধরে বৃষ্টি ও বন্যা চললে মেলিওয়ডোসিসে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এ সময় মানুষ ভেজা মাটি, কাদা ও দূষিত পানির সংস্পর্শে বেশি আসেন। বারখোল্ডেরিয়া সিউডোম্যালি নামের ব্যাকটেরিয়ার কারণে এ রোগ হয়। ব্যাকটেরিয়াটি প্রাকৃতিকভাবে মাটি ও পানিতে অবস্থান করে।
ত্বকের কাটা বা ক্ষতস্থান কিংবা ত্বকের অন্য অংশের মাধ্যমে শরীরে এই ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করতে পারে। এ ছাড়া দূষিত ধুলা বা কণা শ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ এবং দূষিত পানি বা খাবার খাওয়ার মাধ্যমেও সংক্রমণ ছড়াতে পারে।
মাটি ও পানির সংস্পর্শে বেশি থাকতে হয়—এমন কৃষক এবং বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর ঘরবাড়ি পরিষ্কারের কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের পরামর্শ, সম্ভব হলে সম্ভাব্য দূষিত মাটি ও পানির সরাসরি সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবে।
মাঠে কাজ করা কিংবা বন্যাকবলিত এলাকা পরিষ্কারের প্রয়োজন হলে রাবারের বুট, গ্লাভস, লম্বা ট্রাউজারসহ উপযুক্ত পানিরোধী পোশাক ও অন্যান্য সুরক্ষাসামগ্রী ব্যবহার করতে হবে। পাশাপাশি, শরীরে কোনো খোলা ক্ষত থাকলে তা পুরোপুরি সেরে না ওঠা পর্যন্ত মাটি ও পানির সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ।