সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আকাশে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করার পর সেটির ধ্বংসাবশেষ পড়ে একটি চিকিৎসাকেন্দ্র ও একটি কিন্ডারগার্টেন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা অধিদফতর (ডিসিডি) এ তথ্য জানিয়েছে।
সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা অধিদফতরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, রিয়াদের আকাশে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করার পর এর ছিন্নভিন্ন অংশ বা ধ্বংসাবশেষ বিভিন্ন স্থানে পড়ে। খবর পেয়ে বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, “ক্ষপণাস্ত্রটি প্রতিহত ও ধ্বংস করার পর এর ধ্বংসাবশেষ পড়ে যাওয়ার ঘটনায় রিয়াদের বেসামরিক প্রতিরক্ষা দলগুলো ঘটনাস্থলে সাড়া দেয়। এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে প্রচলিত নিরাপত্তা ও জরুরি ব্যবস্থাগুলো বাস্তবায়ন করা হয়েছে।”
ধ্বংসাবশেষের আঘাতে একটি চিকিৎসাকেন্দ্র ও একটি কিন্ডারগার্টেন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানানো হলেও, এসব স্থাপনায় থাকা কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।
এর আগে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছিল, ইয়েমেনের হুতিদের ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রিয়াদের দিকে আসার সময় তা শনাক্ত করে প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে। একই সময়ে সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর খামিস মুশাইতের দিকেও একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছিল বলে জোটের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।
রিয়াদের মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরের আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার পর এর ধ্বংসাবশেষ জনবসতিপূর্ণ এলাকায় পড়ে স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কিন্ডারগার্টেন ও চিকিৎসাকেন্দ্রের মতো বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ঘটনাটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ইয়েমেনের হুতিদের সঙ্গে সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের সংঘাতের অংশ হিসেবে সৌদি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা অতীতেও ঘটেছে। সাম্প্রতিক সময়ে লোহিত সাগর ও আশপাশের জলপথকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় ইয়েমেনের সংঘাতও নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে।
সৌদি কর্তৃপক্ষ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বা কোনও হতাহতের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।
সূত্র: ডন নিউজ, গালফ টুডে, সৌদি গেজেট