রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফিনল্যান্ড ও নরওয়ের নেতাদের ৯০ মিনিটের ফোনালাপকে কেন্দ্র করে নর্ডিক দেশগুলোর মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। ডেনমার্ক ও সুইডেনের নেতারা এই উদ্যোগ নিয়ে প্রকাশ্যে সংশয় প্রকাশ করেছেন।
মঙ্গলবার ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার স্টাব ও নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গার স্টোরে পুতিনের সঙ্গে কথা বলেন। তারা ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন বন্ধ এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় অর্থবহ আলোচনার আহ্বান জানান। স্টাব বলেন, আলোচনা ছিল খোলামেলা ও গুরুত্বপূর্ণ। যুদ্ধের ফলাফল ইউরোপের নিরাপত্তায় সরাসরি প্রভাব ফেলবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ফোনালাপের পর দুই নেতা ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে কথা বলেন। জেলেনস্কি ইউক্রেনের প্রতি তাদের সক্রিয় সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। তবে এই উদ্যোগে প্রতিবেশী দেশগুলোর আপত্তি কমেনি।
ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন বলেন, রাশিয়ার সামরিক তৎপরতা এবং ইউক্রেনে হামলা অব্যাহত থাকার মধ্য দিয়ে বোঝা যায়, মস্কো শান্তি আলোচনায় কতটা আন্তরিক, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ইউরোপের অন্য দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় না করে ফিনল্যান্ড ও নরওয়ের এই উদ্যোগ নেওয়া উচিত হয়নি। তার মতে, রাশিয়ার বিষয়ে ইউরোপের দেশগুলোর ঐক্য বজায় রাখা জরুরি।
সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসনও উদ্যোগটি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, পুতিন ছাড়া সবাই শান্তি চায় বলে তার ধারণা। সরাসরি আলোচনায় তার প্রত্যাশাও কম। ইউরোপের সম্মিলিত অবস্থানে বিভক্তি তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকলে এমন আলোচনা বিপজ্জনক হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে ইউক্রেনের শর্তে গ্রহণযোগ্য শান্তি প্রতিষ্ঠায় আলোচনা সহায়ক হলে তা ইতিবাচক হবে বলে জানান ক্রিস্টারসন।
নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী স্টোরে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগের পরিপূরক হিসেবে ইউরোপেরও রাশিয়ার সঙ্গে কথা বলা উচিত। ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দৃষ্টিভঙ্গিতে পার্থক্য থাকায় এ ধরনের যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ।
ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিংকিতে নর্ডিক কাউন্সিলের নেতাদের বৈঠকের সময় এই মতবিরোধ সামনে আসে। রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনকে সমর্থন এবং মস্কোর ওপর নিষেধাজ্ঞা জোরদারের বিষয়ে দেশগুলো সাধারণত একমত। ফলে পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপকে ঘিরে এই প্রকাশ্য মতপার্থক্য তাদের ঐক্য নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।
সূত্র: ইউরোনিউজ