ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলাচলকারী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে নতুন বিধি ও নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। কর্মসংস্থানের ক্ষতি না করে, পরিবেশ রক্ষা এবং সড়কে যানবাহনের শৃঙ্খলা নিশ্চিত করেই নতুন এই নীতিমালা বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান তিনি।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানুর এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন।
এর আগে বক্তব্যে রেহানা আক্তার রানু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে এই সংসদের ‘ড্যাসিং হিরো’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একজন অলরাউন্ডার মন্ত্রী এবং ভালো মানুষের কাছে তিনি সংসদের একজন ‘ড্যাসিং হিরো’। এই ‘রিয়েল হিরো’কে শেখ হাসিনা শেষ করে দিতে চেয়েছিলেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে রেহানা আক্তার রানু বলেন, ‘মন্ত্রী বলেছেন ৮০ লাখ রিক্সা রাস্তায় চলছে। কিন্তু প্রতিদিন ঢাকা শহরে আরও ৩০০ অটোরিক্সা যুক্ত হচ্ছে। প্রতিদিন চার্জিং খাতে ১০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে। বর্তমানে লোডশেডিং এর এটিও একটি অন্যতম কারণ। বিদ্যুতের খুঁটি থেকে অবৈধভাবে সংযোগ নেয়ার কারণে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ সরকারে কোষাগারে জমা হচ্ছে না। যেহেতু এখানে অনেক মানুষের জীবন-জীবিকা জড়িত তাদের জন্য বিকল্প পরিকল্পনা ছাড়া তাদের বাহন জব্দ করা ডাম্পিং করা পুলিশে হয়রানি করা ঠিক নয়।’
রেহানা আক্তার রানু অটোরিকশাগুলোকে প্রধান সড়ক থেকে সরিয়ে ভেতরের সড়কে চলাচলের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব করেন। একই সঙ্গে সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে চার্জিংয়ের ব্যবস্থা, বিআরটিএর নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা এবং ঢাকা শহরে অঞ্চলভিত্তিক জোনিং ব্যবস্থা চালুর পরামর্শ দেন তিনি।
এ বিষয়ে সংরক্ষিত আসনের এমপি বলেন, ‘তাদেরকে প্রধান সড়ক থেকে সরিয়ে ভেতরের রাস্তায় চলাচলের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। অবশ্যই সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। বিআরটিএ নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করতে হবে এবং ঢাকা শহরে অঞ্চলভিত্তিক জোনের এর ব্যবস্থা করতে হবে। এটি এখন শুধু পরিবহন খাত নয়। এটি একটি বড় নগর অর্থনীতি, বাহন জব্দ কিংবা হয় নয়। পরিকল্পিত ব্যবস্থার আওতার আনাই এখন জরুরি। সুষ্ঠু নীতিমালা প্রণয়ন করার কথা মন্ত্রী বলেছেন।’
এসময় সুষ্ঠু নীতিমালা কবে প্রণয়ন করা হবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে এ প্রশ্ন রাখেন রেহানা আক্তার রানু।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এ বিষয়ে তিনি স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে বিধি-বিধান ও নীতিমালা প্রণয়নের কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তাকে জানানো হয়েছে যে, ইতোমধ্যে নীতিমালা ও বিধি প্রণয়ন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, নতুন নীতিমালা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্ত থাকবে। এর মধ্যে কোন কোন সড়কে অটোরিকশা চলাচল করতে পারবে, তা নির্ধারণ করা হবে। প্রধান প্রধান সড়কে এসব যানবাহন চলাচল ইতোমধ্যে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অটোরিকশাচালকদের কর্মসংস্থানের ক্ষতি না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই নীতিমালা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পরিবেশ রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে ব্যবহৃত লেড-অ্যাসিড ব্যাটারি পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সেজন্য এমন একটি ব্যাটারি সংযোজনের শর্ত আমরা এখানে আরোপ করবো সেই ব্যাটারির সঙ্গে যেন ডিজিটালি ট্র্যাক করা যায়। একটা রেজিস্ট্রেশন নম্বরের অধীনে যাতে অনেকগুলো না চালানো যায়, সেই কায়দাকানুন আমরা বের করছি।’
অবৈধভাবে বিদ্যুতের খুঁটি থেকে সংযোগ নিয়ে অটোরিকশার চার্জিং স্টেশন পরিচালনার বিষয়টিও উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বৈদ্যুতিক পিলার থেকে এখন অবৈধভাবে সংযোগ নিয়ে সেটা চার্জিং স্টেশন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এর সঙ্গে বিদ্যুৎ বিভাগ আর সিটি কর্পোরেশনের লোকজন জড়িত।’
সবকিছু সমন্বয় করেই নতুন নীতিমালা ও বিধি প্রণয়ন করা হয়েছে জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সবদিক লক্ষ্য রেখে বেকারত্ব যাতে না বাড়ে, কর্মসংস্থান যাতে ব্যহত না হয়, পরিবেশ যাতে সঠিক থাকে, যানবাহনের সুশৃঙ্খলতা থাকে, নিয়ন্ত্রণ থাকে, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সঠিক থাকে, সবকিছু লক্ষ্য রেখে আমরা সেটা বাস্তবায়ন করব’