চলমান যুদ্ধের মাঝে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদকে ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির তথ্য দেওয়ার অভিযোগে এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান। শনিবার দেশটির বিচার বিভাগ গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ওই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছে।
হোসেইন পেদারান নামের ওই ব্যক্তির গ্রেপ্তারইকংবা বিচার প্রক্রিয়া কবে সম্পন্ন হয়েছে; সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে না জানিয়ে দেশটির বিচারবিভাগীয় কর্তৃপক্ষ বলেছে, ইসফাহান প্রদেশের ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্রগুলো সংক্রান্ত তথ্য মোসাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হোসেইন পেদারানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, পেদারানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি ও গোয়েন্দা তথ্য হস্তান্তরের অভিযোগ ছিল। ইরানের সুপ্রিম কোর্ট তার সাজা বহাল রেখেছিলেন।
এর আগে, গণমাধ্যমে তার মামলার বিষয়ে কোনো খবর আসেনি।
২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধ এবং জানুয়ারিতে ভয়াবহ রূপ নেওয়া দেশব্যাপী বিক্ষোভ; উভয় ঘটনার পর ইরানি কর্তৃপক্ষ গ্রেপ্তার ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে।
সংঘাত চলাকালীন ইরানজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলোতে বোমা হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে ইরানি পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোর অবস্থানস্থল ইসফাহান প্রদেশ অন্যতম সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে আকস্মিক বোমা হামলা শুরু করলে যুদ্ধের শুরুতেই সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বলেছে, ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির হুমকি নির্মূল এবং দেশটির সামরিক সক্ষমতা কমিয়ে আনাই ছিল এই অভিযানের লক্ষ্য।
এর আগে আগস্টে সংবেদনশীল সামরিক ও নিরাপত্তা ঘাঁটির সুনির্দিষ্ট অবস্থান ইসরায়েলে পাঠানোর অভিযোগে আরও দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কথা জানিয়েছিল ইরানের বিচার বিভাগ। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা বলেছে, চীনের পর বিশ্বে সর্বোচ্চসংখ্যক মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে ইরান।
সূত্র: এএফপি।