Jahirul Hasan
প্রকাশ : Sep 28, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

আজারবাইজান-জর্জিয়ায় ইরানি ফ্লাইট চলাচল বন্ধ

অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার খড়গ চাপিয়ে দেওয়ার পর তুরস্ক ও ওমান ‘মাহান এয়ার’-এর ফ্লাইট চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। সংযুক্ত আরব আমিরাতও ইরানি এয়ারলাইনসগুলোর ফ্লাইট স্থগিত করেছে বলেও জানান তিনি।

তুরস্ক ও ওমানের পাশাপাশি আজারবাইজান ও জর্জিয়াও ইরানি বিমান সংস্থার ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করেছে। ভারত বা মালয়েশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা না থাকা সত্ত্বেও, মহান এয়ার নীরবে এই দেশগুলোর রুটে ফ্লাইট পরিচালনা তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ বিমান সংস্থা ও পরিষেবা প্রদানকারীদের ইরান এয়ার ও মহান এয়ারের সাথে ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ করার জন্য চলতি মাসের ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। অন্যথায় তাদের ডলার-ভিত্তিক আর্থিক লেনদেন ব্যবস্থা ব্যবহারের সুযোগ বাতিল করা হবে। তবে চীন এই নিষেধাজ্ঞাগুলোকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে তা মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। সিবিএস নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি মাসেও  মহান এয়ার চীন থেকে তেহরানে কার্গো বা পণ্যবাহী ফ্লাইট পরিচালনা করছে। যা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতের পর আরও বেড়েছে।

২৭টি ইরানি বিমান সংস্থা ক্ষতিগ্রস্ত

চলতি মাসে ঘোষিত বিমান খাতের ওপর ৩৬টি লক্ষ্যবস্তু-ভিত্তিক কঠোর পদক্ষেপের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের এই সময়সীমাটি তালিকাভুক্ত ২৭টি ইরানি বিমান সংস্থার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তেহরানের মুদ্রার মান যখন তীব্রভাবে পড়ে যাচ্ছে, ঠিক সেই সময়ে এই পদক্ষেপগুলো দেশটির বিমান ও আর্থিক খাতের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।

তবে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা প্রধান সতর্ক করেছেন, যেসব দেশ এই নিষেধাজ্ঞা মেনে চলবে, তারাও নিজেদের বিমানবন্দরে বিঘ্নের সম্মুখীন হতে পারে। বেসেন্ট আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বড় ব্যাংকগুলো ইরানের সাথে লেনদেন বন্ধ করে দিয়েছে। তিনি তুরস্ক, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ব্রিটেনকে তাদের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান।

যারা ইরান এয়ার বা মহান এয়ারে ভ্রমণের জন্য টিকিট কেটেছেন কিংবা দুবাই বা দোহা হয়ে সংযোগকারী ফ্লাইটে (কানেক্টিং ফ্লাইট) যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাদের উচিত যাত্রার আগে ফ্লাইটগুলো চালু আছে কি না তা যাচাই করে নেওয়া। গত ১৮ সেপ্টেম্বর মহান এয়ার ঘোষণা দেয়, তারা ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ইস্তাম্বুল ও আঙ্কারা রুটে পরিষেবা স্থগিত করবে এবং ২০ সেপ্টেম্বর হবে তাদের শেষ ফ্লাইট।

২২ সেপ্টেম্বর ইরান এয়ার জানায়, তাদের ইস্তাম্বুলগামী ফ্লাইটগুলো চালু রয়েছে। তারা উল্লেখ করে, তুর্কি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পরিষেবা স্থগিত করার কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা তারা পায়নি। চীন এই স্থগিতাদেশের প্রক্রিয়ায় শামিল হয়নি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ইরানি বিমান সংস্থাগুলো চীনে কিছু পরিষেবা অব্যাহত রেখেছে এবং চীন যুক্তরাষ্ট্রের এই নিষেধাজ্ঞাগুলোকে ‘বেআইনি’ বলে আপত্তি জানিয়েছে।

২৩শে সেপ্টেম্বর মধ্যরাত থেকে বাগদাদ ইরানি ফ্লাইট গ্রহণ বন্ধ করে দেয়। ইরান বাগদাদগামী ফ্লাইটগুলোকে নাজাফে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ‘আল আরাবিয়া’-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরাকের আরও কয়েকটি গন্তব্যও ইরানি ফ্লাইট চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে।

দেশটির বিমান চলাচল খাতের সূত্রগুলো রয়টার্সকে জানিয়েছে, সরকারি নির্দেশনার প্রেক্ষিতেই বাগদাদ এই স্থগিতাদেশ দিয়েছে। ইরানি বিমান সংস্থাগুলোর সেবা প্রদানকারী বিমানবন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার চাপের সাথে এই পদক্ষেপটি সামঞ্জস্যপূর্ণ। প্রথমে নাজাফে ফ্লাইট সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা এবং পরবর্তীতে ইরাকজুড়ে আরও ব্যাপক বিধিনিষেধ জারি করা হয়। ইরানি কর্তৃপক্ষ শুরুতে বাগদাদগামী ফ্লাইটগুলোকে নাজাফে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করেছিল এবং ধারণা করা হচ্ছিল, ওই রুটটি হয়তো খোলা থাকবে।

তবে ‘ইরান ইন্টারন্যাশনাল’-এর তথ্যমতে, গত ২৫শে সেপ্টেম্বর ভোর ২টায় নাজাফও ইরান থেকে আসা ও সেখানে যাওয়া ফ্লাইটগুলো স্থগিত করে দেয়, যার ফলে তেহরানের বিবেচনা করা বিকল্প পথটিও বন্ধ হয়ে যায়। এরপর শুক্রবার থেকে ইরবিল ও সুলাইমানিয়াও ইরানি ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানি ফ্লাইট পরিচালনাকারী ইরাকের চারটি বিমানবন্দরই বাগদাদ, নাজাফ, ইরবিল ও সুলাইমানিয়া এখন ফ্লাইট চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।

২৬শে সেপ্টেম্বর ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানায়, মানবিক কারণে যেমন—চিকিৎসা, শিক্ষা, ধর্মীয় ভ্রমণ ও সাধারণ নাগরিকদের প্রয়োজন মেটানো ইরানি ফ্লাইট পুনরায় চালু করার লক্ষ্যে নির্দিষ্ট কিছু ইরাকি বিমানবন্দরের জন্য ছাড় বা ছাড়পত্র পেতে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সরাসরি আলোচনা করছে।

এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এরই মধ্যে ইরানের নির্দিষ্ট কিছু বিমান সংস্থার ওপর আকাশসীমা ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করে রেখেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার জেরে বিভিন্ন দেশ ইরানি ফ্লাইট স্থগিত করার প্রক্রিয়া সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ শুরু হয়েছে, তার সাথে এর পার্থক্য রয়েছে।

চলতি বছরের মে  মাসে হালনাগাদকৃত ইইউ-এর বিমান নিরাপত্তা তালিকায় ‘ইরান আসমান এয়ারলাইন্স’-কে নিষিদ্ধ বিমান সংস্থার অন্তর্ভুক্ত করা হয়। অন্যদিকে ‘ইরান এয়ার’-এর ওপর পরিচালনগত বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়, যার ফলে তাদের নির্দিষ্ট কিছু মডেলের বিমান ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়।

সূত্র: গাল্ফ নিউজ।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কৌতুকের সুরে ব্রাজিলের একাদশ ফাঁস করে দিলেন আনচেলত্তি

1

‘হনুমান অংশ’ সিক্যুয়েলে কি দেখা যাবে কোহলি-আনুশকাদের?

2

সাঁওতাল কমিউনিটির বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে বেরোবি শিক্ষার্থীদের

3

যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পরও গাজায় দৈনিক এক শিশুর প্রাণহানি

4

অস্ট্রেলিয়াকে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ : আকাশ চোপড়া

5

প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের বকেয়া ঋণ ৪০ লাখ কোটি ডলার ছাড়া

6

বাংলাদেশসহ এশিয়ার ৪৭ দেশও প্রত্যাখ্যান করল ফিফার প্রস্তাব

7

ইসরায়েলে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে রাজপথে বিক্ষোভ

8

বিশ্ব বাঘ দিবস আজ

9

ভিসির বাংলোর পুকুরে মাছের খাবার: দেড় লাখ বরাদ্দ, প্রকৃত ব্যয়

10

মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নে প্রস্তাবক মঈন খান, সমর

11

পরিচ্ছন্ন-সবুজ বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা চাইলেন প

12

হরমুজ প্রণালিতে ১৯ জাহাজে আইআরজিসির হামলা

13

মার্কিন বাহিনীকে বিনামূল্যে নরকে পাঠানোর হুঁশিয়ারি

14

দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে শরীয়তপুরে শ্রমিক দল

15

ইন্টার পরীক্ষার আগে রিয়াল শিবিরে সুখবর

16

আন্দোলনের মধ্যে বার্গার খেয়ে পদ হারালেন ককরোচ জনতা পার্টির ম

17

মার্কিন প্রেসিডেন্টের নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ

18

থিয়াগো সিলভার সমালোচনার কড়া জবাব দিলেন ব্রাজিল কোচ

19

বিমানকে ‘খেলনা’ বলায় নোরা ফাতেহির বিরুদ্ধে মামলা

20