বেরোবি প্রতিনিধি,
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) উপাচার্যের বাংলোর পুকুরে মাছ ও প্রাণীর খাদ্য বাবদ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া এমন তথ্যকে বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব শাখার সরকারি হিসাব বিবরণী পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ওই অর্থবছরে সংশ্লিষ্ট খাতে বরাদ্দ ছিল ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তবে প্রকৃত ব্যয় হয়েছে মাত্র ২৮ হাজার ৪৫০ টাকা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব শাখার নথি অনুযায়ী, ‘৩২৫১১০৬-মাছ ও প্রাণী খাদ্য’ খাতে ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত অর্থবছরে মোট ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। তবে বরাদ্দের পুরো অর্থ ব্যয় করা হয়নি।
নথিতে দেখা যায়, অর্থবছরজুড়ে চারটি ভাউচারের মাধ্যমে ওই খাতে মোট ২৮ হাজার ৪৫০ টাকা ব্যয় হয়েছে। ভাউচারগুলোর তারিখ যথাক্রমে ৩০ জুলাই ২০২৪, ৪ মার্চ ২০২৫, ৪ মে ২০২৫ ও ১৫ মে ২০২৫।
অর্থবছর শেষে এ খাতে অব্যয়িত ছিল ১ লাখ ২১ হাজার ৫৫০ টাকা, যা মোট বরাদ্দের প্রায় ৮১ শতাংশ। অর্থাৎ, নথি অনুযায়ী ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ছিল সংশ্লিষ্ট খাতের বরাদ্দ, প্রকৃত ব্যয় নয়।
২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত অর্থবছরে মোট ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। তবে বরাদ্দের পুরো অর্থ ব্যয় করা হয়নি।
এদিকে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে উপাচার্যের বাংলোর পুকুরের মাছের খাবার বাবদ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয় এবং পরবর্তী অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ চাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন, উপাচার্যের বাংলোর পুকুর নিয়ে ছড়িয়ে পড়া তথ্য সঠিক নয়। তাঁদের ভাষ্য, প্রকাশিত সংবাদটি মনগড়া, ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিব্রতকর।
তবে হিসাব শাখার নথিতে থাকা তথ্য বলছে, সংশ্লিষ্ট খাতে দেড় লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও পুরো অর্থ ব্যয় হয়নি; প্রকৃত ব্যয়ের পরিমাণ ২৮ হাজার ৪৫০ টাকা। ফলে বরাদ্দ ও প্রকৃত ব্যয়ের তথ্য আলাদাভাবে উপস্থাপন করা জরুরি।
উল্লেখ্য, উপাচার্যের বাংলোর পুকুর নিয়ে ছড়িয়ে পড়া তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। এ ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।